খন রঞ্জন রায় : বীরত্বপূর্ণ সৃজনশীল সাহসী ক্যামেরাযুদ্ধের প্রতিচ্ছবি চলচ্চিত্র। কাহিনিচিত্র, রাজনৈতিকচিত্র, সংবাদচিত্র, তথ্যচিত্র, বিজ্ঞাপনভিত্তিকচিত্র, কাহিনিভিত্তিক ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মানবসভ্যতার বহুকিছুর সাক্ষী। প্রায়োগিক নিরীক্ষার মাধ্যমে বাঙালি নবজাগরণের পর বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ও হয়ে উঠেছিল চলচ্চিত্র। বহুবিচিত্র সৃজনশীল ও বর্ণাঢ্য ভূমিকা পালন করা এই চলচ্চিত্র বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকতা পেয়েছিল চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) প্রতিষ্ঠার পর থেকে।
১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে এই কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিয়েছিলেন আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তখন তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুনীর্তি রোধ ও গ্রামীণ সহায়তা বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। স্বাধিকার আদায়ে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও প্রতিবাদের অগ্নিগর্ভ সময়ে এই নির্দেশনা চুম্বকীয় তড়িৎগতিতে কাজ করে। প্রতিষ্ঠা হয় এফডিসি। দেশমাতৃকার ঘোর দুর্দিনে চলচ্চিত্র শিল্পের উত্থানে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। জনমানসকে সচেতন, অধুনিক মনষ্ক, দেশাত্ববোধ, রাজনৈতিক চেতনা সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়। শহর, প্রত্যন্ত শহর, গ্রামাঞ্চল নির্বিশেষে অভিজাত, মধ্যবিত্ত, নিন্ম মধ্যবিত্ত, দারিদ্র ও প্রান্তিক জনসাধারণের মধ্যে সত্যিকারের চৈতন্য সৃষ্টি হতে থাকে।
যদিও পৃথিবীর প্রথম রাজনৈতিক চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছিল এই উপমহাদেশে। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী প্রতিবাদ সমাবেশ আন্দোলন দাবানলের মধ্যে হীরালাল সেন ১৯০৫ সালে নির্মাণ করেছিলেন দেশপ্রেমের ঐতিহাসিক, গ্র্যান্ড পেট্র্যোয়টিক ফিল্ম। সিনেমাকে দুঃসাহসিক পটভূমির রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করায় ১৯১২ সালে বিট্রিশ সরকার এই সিনেমাটি নিষিদ্ধ করেছিল। রাজনৈতিক কারণে কোন সিনেমা নিষিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এইটাই ছিল পৃথিবীতে প্রথম প্রচারমাধ্যম, জনপ্রিয়তা ও উপযোগীতা বিবেচনা করে আন্দোলনের আগুনে ঘৃতাহুতি সৃষ্টির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কিছু সিনেমা তৈরি করেছিলেন আমাদের দানবীয় কর্মবীর সিনেমাপাগল কিছু শিল্পী কলাকুশলী। ১৯৭০ সালের এপ্রিল মাসে মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘জীবন থেকে নেয়া’। ক্ষমতার অপব্যবহার নির্মমতার কাহিনির আড়ালে স্বাধীনতার আন্দোলনকে রুপকের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
দুর্ভাগা ও ষড়যন্ত্রের শিকার প্রতিভাধর চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক, গবেষক ও কাহিনিকার জহির রায়হান। ‘এ খাঁচা ভাঙ্গব আমি কেমন করে’ গানটির সংগীতশিল্পী ও খ্যাতিমান সংগীত পরিচালক খান আতাউর রহমানের কণ্ঠে বিস্ময়কর ও অকল্পনীয় প্রতিবাদী রূপ ফুটে উঠেছিল। এই ছায়াছবিতেই কল্পনাশ্রয়ী পরিচালক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সংযোজন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেশপ্রেম জাগানিয়া সেই গান ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।’ স্বার্থহীন দ্ব্যর্থহীন খাঁটি স্বদেশি সিনেমায় সর্বাত্মক আহ্বান মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে ঘোষিত হয়। রাজনৈতিক চেতনার বহি:প্রকাশের সম্মিলিত রূপমাধুর্য্যে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ আর বিদ্রোহী ভাব ফুঁটিয়ে তুলতে কাজী নজরুল ইসলামের “কারার ঐ লৌহ কপাট” গানও সংযোজন করেছিল কৌশলী পরিচালক।
তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণমানুষের প্রত্যাশার চূড়ান্ত শিল্পসিদ্ধি নির্মিত হয়েছে এই সিনামার মাধ্যমে। শুরু থেকেই চলচ্চিত্র জীবনের কথা বলে। জীবনকে শিল্পীর কুশলতায় চিত্রায়ন করেন। জীবনের খন্ড- খন্ড চিত্রের নাম সিনেমা। ব্যক্তি মানুষের যাপিত কর্মধারা সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, রাগ-অনুরাগ, বিরহ-মিলন যেমন থাকে, থাকে পারিবারিক জীবনের একান্ত সমস্যা সংকটের কাহিনি। ব্যক্তিজীবনের বাইরে রাষ্ট্রিক, ঐতিহাসিক, পৌরণিক, ভৌতিক কল্পকাহিনি আর লোক কাহিনিকে সাধারণ্যে প্রদর্শনের মতো শিল্পধারায় ফুটিয়ে তুলেন। সামাজিক, লোকছবি, যুদ্ধ, ঐতিহাসিক, থ্রিলার, ফ্যান্টাসি, কমেডি, ঐতিহাসিক শিশুতোষ বিভাজনের কালাণুক্রমিক বিবেচনা করা যায়। সমাজের চলমান ঘটনাকে বিষয় হিসাবে নির্বাচন করে অবহেলা বঞ্চনার বিকল্প পথও নির্ণয় করা হয়ে থাকে চলচ্চিত্রে।
বিশ্ব সভ্যতার পটভূমির ধারা বিচারে চলচ্চিত্র খুব বেশি দিনের নয়। আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৯৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর। অগাস্ট লুমিয়ের ও লুই লুমিয়ের নামে দু’ভাই প্যারিসের হোটেল ডি ক্যফেতে ২৮ ডিসেম্বর ‘চলচ্চিত্র’ নামে কিছু একটা প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন। বলা হয়, চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই প্রদর্শনীই ছিল বাণিজ্যিকভাবে সফল প্রথম প্রদশর্নী। তখন অবশ্য সিনেমা নয়; বায়োস্কোপ নামেই এর সূচনাবিন্দু ধরা দেয়। অবশ্য এর অল্প কিছুকাল পূর্বে ১৮৬০ সালে কৃত্রিমভাবে দ্বিমাত্রিক চলমান কিছু ছবির কৌশল আবিষ্কার হয়েছিল।
আপাত প্রচ্ছন্ন বৈচিত্র্যময় এই স্থিরচিত্রের ছন্দ-যান্ত্রিকতার ধারণাটিই পরবর্তীতে এনিমেশন চিত্র নির্মাণের ভাবনাবোধ তৈরি করেছিল। ব্যাপক বিশ্লেষণের পর ১৮৮০ সালে নির্ভরযোগ্য আস্থার ধারাবাহিক অগ্রগতি চলচ্চিত্র ক্যামেরা উদ্ভাবিত হয়। এই ক্যামেরার প্রয়োগ নৈপুণ্যের বিচিত্র ব্যবহার সিনেমা নির্মাণকে চিন্তাশীল উপস্থাপনার সুযোগ এনে দেয়। শব্দ ও ছবি একসাথে ধারণের জাগ্রত প্রযুক্তি সচেতনভাবে স্বার্থক ব্যবহার শুরু হয় ১৮৯৪ সাল থেকেই। শব্দহীন ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত চলচ্চিত্র নির্মাতাগণ নির্বাক চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকে প্রাধান্য বিস্তার করতে থাকে। অনুভূতিপ্রিয় মানুষের আকাংক্ষার দৃষ্টিকোণ বিবেচনায় নির্বাক সিনেমায় তখন প্রদশর্নীর সময় সঙ্গীত ও বাজনা বাজানোর জন্য ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়।
সিনেমা হলের মঞ্চের আড়ালে অর্কেস্ট্রাদল অবস্থান করে তাল- লয়- সুর বিবেচনায় অভিরুচির বাদ্য ব্যবহার করতে থাকে। ১৯২০ সালের দিকে এসে আমেরিকা, ইউরোপের ব্যক্তি মানুষের জীবনাচরের অংশ হয় সিনেমা। দুর্বোধ্য কাঠামোগত অবস্থানের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে থাকে। স্থির চিত্রের ঐক্যতানে সংযুক্ত হয় শব্দ, গান, সঙ্গীত ও কথোপকথন। উদ্ভব হয় সবাক চলচ্চিত্রের। মানবিক বোধে নিমগ্ন থেকে ক্রমাগতভাবে এর রূপ বদলাতে থাকে। নিমগ্ন হয় আবেগের সহজাত সমন্বনিত ভাবনায়। দর্শক চাহিদার প্রতি সামঞ্জস্য রেখে সৃজনশীলতার উজ্জ্বল ধারার প্রাধান্য বিস্তার করতে থাকে রঙের বিস্তার।
উজ্জীবিত আকাংক্ষার মানোন্নয়নে পরাস্ত হয় সদাকালো রূপ। ১৯৬০এর দশকে এসে একান্তরূপে উড়িয়েছেন রঙিন হাওয়া। নির্মাতাদের মূল আকর্ষণের জায়গা হয় রঙ-বেরং। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির ধূপছায়ায় প্রগতির ধারা একান্তে মিশে যায় ডিজিটালে। এই ভূখন্ডের সভ্যতার ইতিহাসে সৃষ্টিশীলতার নির্যাসে শুরু করে সৃষ্টি ঐক্যতান। ১৮৯৮ সালের ৪ এপ্রিল অধুনা ভোলা জেলার এসডিও বাংলোতে প্রদর্শন হয় প্রথম বায়োস্কোপ।
১৭ এপ্রিল হয় ঢাকার পাটুয়াটুলীর ক্রাউন থিয়েটারে। ১৯০০ সালের ২৬ জানুয়ারি থেকে “রাজশাহীর জমিদার শরৎ বাবুর বাড়ীতে” কয়েকদিন ধরে চলছিল শিল্পবোধ আকর্ষণের এই নতুন বিদগ্ধধারা। নারীপুরুষ নির্বিশেষে পুরুষদের অভিনয় শৈলীতায় ঢাকায় প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ হয় ১৯২৭ -২৮ সালে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলায় চলচ্চিত্র নির্মাণকে জটিলতামুক্ত করে। বিষয়বৈচিত্র্যের স্বাদ এনে দেয়।
১৯৫৬ সালে আব্দুল জব্বার খান নির্মাণ করেন বাংলায় প্রথম পূর্ণ দৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোস’ দেশপ্রেমের বিস্ময়কর অনুভূতিজাগানিয়া এই সিনেমার প্রথম প্রদর্শনীতে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক উপস্থিত থেকে সিনেমা নির্মাতাকে শক্তি সাহস যুগিয়েছিলেন। এর পরের ইতিহাস কেবল উত্থানের, সমসাময়িক হওয়ার, পান্ডিত্য প্রদর্শনের সুযোগ হাতে নেয়ার। ১৯৬০ সালে ফতেহ লোহানীর ‘আসিয়া’ নজির আহম্মদের ‘নতুন দিগন্ত’ আসলেই বাংলা সিনেমা জগতের দিগন্ত রেখা উন্মোচন হয়। স্বাধীনতার পর সিনেমা দ্বারা সভ্যতার জাদুঘর সাজাতে নতুন জীবন প্রায় বাংলা সিনেমা।
১৯৭২ সালে মুক্তি পাওয়া আলমগীর কবিরের ‘ধীরে বহে মেঘনা’ জহিরুল হকের “রংবাজ”, ঋত্বিক ঘটকের “তিতাস একটি নদীর নাম” সুভাষ দত্তের “বলাকামন” চলচ্চিত্রকে বিশেষ মানে উন্নীত করে। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ভিত্তিক আবেগময় সিনেমা “আবার তোরা মানুষ হ” মুক্তি পায় ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে। বাঙালির গর্বের মুক্তিযুদ্ধে স্মৃতিনির্ভর ছায়াছবির মধ্যে চাষী নজরুল ইসলামের ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’ শাহরিয়ার কবিরের মুক্তিস্মৃতির উপন্যাস নিয়ে নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর ‘১৯৯৩ সালের একাত্তরের যীশু’ ২০০৪ সালে তৌকির আহম্মদের পরিচালনায় “জয়যাত্রা”, কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ুন আহমেদের ১৯৮৪ সালের হৃদয় ছোঁয়া সিনেমা ‘আগুনের পরশমণি’ মুহাম্মদ জাফর ইকবালের “শিশুতোষ” উপন্যাস নিয়ে মোরশেদুল ইসলামের ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ ২০১১ সাল থেকে যুদ্ধস্মৃতিকে জীবন্ত করে ফুটিয়ে তুলেছে। সাধারণ মানুষের গড় চিন্তা চেতনা, আচার-আচরণ, জীবনযাত্রা, ভাব-মনোভাব, পরিবর্তনশীলতার সর্বোচ্চ রূপ বিমূর্তভাবে তুলে ধরার নামই সমসাময়িককালের সিনেমা। সমাজের ইতিবাচক আর নেতিবাচক জীবনভাবনার প্রকাশকে সুনিপুণভাবে জনসম্মুখে জীবন্ত করাই সিনেমার উদ্দেশ্য। অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়। কখনোবা নেতিবাচকতাকে উৎসাহিত করা হয়।
বিনোদনের মাধ্যমে সমাজের অসংগতি সম্ভমের সাথে চিত্রায়িত করাই চলচ্চিত্র মাধ্যমগুলোর সার্থকতা। ‘সুজন সখী’, ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সারেং বৌ’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দেবদাস’, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘রামের সুমতি’, চলচ্চিত্রগুলো নির্মাণকুশলতায় দর্শকনন্দিত হয়ে সমাজের অসংগতির বিরুদ্ধে আলোচিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরষ্কার লাভ করার মর্যাদা অর্জন করেছে। আমাদের শৈশব-কৈশোরে দেখা এইসব জীবনঘনিষ্ঠ কালজয়ী সিনেমা শিল্পমানসকে এখনো সক্রিয় করে রেখেছে।
সমসাময়িককালে বাংলাদেশের অল্পকয়টি চলচ্চিত্র আন্তজার্তিক স্বীকৃতি পেলেও সার্বিক অবস্থায় সিনেমা এখন মৃতপ্রায়। শুদ্ধচেতনা সঞ্চারী। দৃষ্টি উন্মোচনকারী পটভূমির চলচ্চিত্র এখন তিরোহিত। কমেডি, মেলোড়ির নামে অশ্লিল নাচ-গান-অঙ্গভঙ্গি সর্বদা আশাবাদী এই শিল্পকে হৃদয়বৃত্তিক চেতনার জগতকে সিনেমা বিমুখ করেছে। নিখুঁত শিল্প দৃষ্টির আধুনিক সমৃদ্ধকরণ অভিপ্রায় নির্ভরতা স্পর্শকাতর অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে।
সাধারণ মানুষের বিনোদন চেতনার অবিচ্ছেদ্য বন্ধন সিনেমা আর সিনেমা হল এখন টিকিয়ে রাখার সম্মুখ যুদ্ধে। সিনেমা পাগল দর্শকের কৌতূহলের পারদ উর্ধ্বমুখী করার জন্যই জাতির জনক ৩ এপ্রিল এক দূরদর্শী নির্দেশনা দিয়েছিলেন। গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন। বাংলাদেশ সরকারে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা আধা স্বায়ত্বশাসিত সরকারি এই সংস্থা বর্তমান জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। নির্মম পরিস্থিতির চলচ্চিত্র শিল্প সুষমায় আবার মুখরিত হবে, দুর্দিন মুক্তির প্রতীক হবে ‘জাতীয় সিনেমা দিবস’ এই ভাবনা আমাকে মোহাবিষ্ট করে।
লেখকঃ খন রঞ্জন রায়,সমাজচিন্তক, গবেষক ও সংগঠক



