খন রঞ্জন রায়: পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় শব্দ “ভালোবাসা”। মহাকালের বৃহৎ পরিসরে আনন্দমুখরিত সময়ের স্রোতস্বিনী এই শব্দ। বলদর্পী, শক্তিমান এই উচ্চারণ দ্ব্যর্থহীনভাবে ভাবনাজগতকে নাড়া দেয়। মনের গহিনের অন্তরঙ্গ বিন্যাসকে সক্রিয় করে তোলে। কষ্ট, বিষণ্নতা, হুড়মুড় করে দূর করে। সবসময় এগিয়ে চলার সাথি ও সারথি। এই ভালোবাসার প্রকাশ নিয়ে কিছু মাতলামিও আছে। বাংলাদেশে ভালোবাসা জানানোর বিশেষ মাদকতায় আচ্ছন্ন হতে থাকে একটি দিবসকে ঘিরে। ১৪ই ফেব্রæয়ারি, ফাল্গুনের প্রথম দিনে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে। বাংলাদেশের মানুষের সাথে ভালোবাসা দিবসের কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন শফিক রেহমান।
সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, টিভি উপস্থাপক ও লেখক। গুণী এই ব্যক্তি ১৯৮৪ সালে সাপ্তাহিক ‘যায় যায় দিন’ পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। অল্পকয়দিনের মধ্যে রীতিমতো কৌতূহলোদ্দীপক হয়ে ওঠে এই পত্রিকা। কোনো ধরনের বাছবিচার না করে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, তরুণ-তরুণী, যুব, লেখকদের জন্য পত্রিকার পাতা বরাদ্ধ রাখেন।
পাশ্চাত্য দর্শন ও সামাজিকতায় অভ্যস্থ আপসহীন আর দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ প্রেমভক্তিময় শফিক রেহমান প্রাচীন ভ্যালেন্টাইন্স ডে-এর বঙ্গানুবাদ করেন। পাশ্চাত্য দুনিয়ায় জনপ্রিয়ভাবে পালিত ঐতিহাসিক এই দিবসের নাম রাখেন ‘ভালোবাসা দিবস’। এই দিবসের সাথে গভীর বন্ধন সৃষ্টি করতে ১৯৯৪ সালে ‘যায় যায় দিন’ পত্রিকায় ‘ভালোবাসা দিবস’ সংখ্যা প্রকাশ করেন। সচেতন-সৃজনশীল মানুষদের ভেতরে চেতনার বান ডাকে। তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাস ঐতিহ্যের এই দিবস চেতনার সাথে নানা অনুসঙ্গ যুক্ত হতে থাকে। আদাজল খেয়ে কোমর বেঁধে নামার ফলে অল্প কয়দিনেই রীতিমতো উৎসবে রূপ নেয়।
বাঙালির চিরাচরিত স্বভাব ও অভ্যাস অনুযায়ী মুখে মুখে ভাসতে থাকে এই দিবস। ‘পরদ্রব্য লোষ্ট্রবৎ’ এই আপ্তবাক্য প্রকৃতিগতভাবেই উধাও হয়। খুব অল্প দিনের মধ্যেই ভালোবাসা সংখ্যা থেকে ভালোবাসা দিবস সেখান থেকে ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ সজীব ও উজ্জ্বল হতে থাকে। এই ভালোবাসা দিবস শুধু স্বামী-স্ত্রী, প্রেমিক- প্রেমিকার মধ্যে নয়-এর প্রয়াস, প্রেরণা, অবদান সরল এবং তীব্র গতিতে বাবা-মার সঙ্গে ছেলে-মেয়ের, দাদা-দাদীর সঙ্গে নাতি-নাতনির, বাড়িওয়ালার সঙ্গে ভাড়াটের, পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের। প্রত্যেকে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে একে অপরকে স্বার্থহীন, দ্ব্যর্থহীন ভালোবাসা প্রকাশ করা গেলে মানবিকতার জয়জয়কার হবে। ভালোবাসার অমল স্পর্শে ব্যক্তিত্ব, স্বাতন্ত্র্য, গৌরব ও মহিমায় ভাস্বর হয়ে ওঠবে সমাজব্যবস্থা। ভালোবাসার উদাত্ত চরিত্রে বিচারবিবেচনাহীন নির্মমতা কমে আসবে। ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে, দেশে-দেশে সহিংসতা দূর হবে। দেশের সঙ্গে, জাতির সঙ্গে, কালের সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের মৌলিক পার্থক্য সূচিত হবে।
ভালোবাসাকে পরিমার্জিত করে ধারণ করতে পারলে প্রখর ব্যক্তিত্ব প্রগাঢ় দেশপ্রেম, সমুন্নত আদর্শ, প্রবল আত্মবিশ্বাস, অপরিসীম আত্মত্যাগের ক্ষেত্র তৈরি হবে। এখানে সর্বব্যাপক ও বিশ্বজনীন আমেজ পাওয়ার বিষয়টির দিকে নজর বাড়বে। সকল শ্রেণি- পেশা, ডাক্তার, উকিল, আইনজীবী, প্রকৌশলী, চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, প্রকাশক, রিকশাচালক, শ্রমিক, দিনমজুর, ঠেলাগাড়িওয়ালা সবার মধ্যে দায়বোধ-দায়িত্ববোধ যথেষ্ট নীতিগর্ভ হয়ে মর্যাদামণ্ডিত হতো।
এই দিবসের ভাব-ভাবনা, আবেগ-অনুভূতির প্রকাশ এমনটা দিয়েই শুরু হয়েছিল। এখন আর সেখানে আটকে নেই। এর নির্ভেজাল অভিব্যক্তি এখন সর্বব্যাপি। অর্থ ব্যবস্থায় জড়িয়ে গেছে। উপহার আদান-প্রদানের রূপশ্রেণিগত নানা বৈচিত্র্যের সাথে সমাজ একাকার হয়ে গেছে। উপহার ব্যবস্থার সুদীর্ঘ ও গৌরবময় যুগ পরিবর্তন ঘটেছে। নতুন এক জাগরণীর এলাহিকাণ্ড ভালোবাসা প্রকাশ হয়ে গেছে কুলনির্ভর। আলোর পিপাসা নিয়ে পালাবদলের নতুন যুগে ফুল এখন পরম অনিবার্য। প্রকৃতি থেকে চাষনির্ভর হতে হয়েছে।
বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। ১৯৮৩ সালে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসরা গ্রামে স্বপ্ন ও দীর্ঘশ্বাসে শুরু হয়েছিল ফুলচাষ। বর্তমানে এই ফুলের বাজার বছরে ৮০০ কোটি টাকা। বিভিন্ন দিবসে ফুলের ব্যাপক ব্যবহার হলেও ভালোবাসা দিবসের নান্দনিক গুণমাধুর্য্যে ফুল হয় মর্যাদামণ্ডিত। বিশুদ্ধতার প্রতীক ‘ফুল’ শিল্পআকারে গণ্য হতে থাকে। যশোরের গদখালী হয় কিংবদন্তিতূল্য। ফুলের রাজধানী। বছরে বিক্রি হয় ৫০০ কোটি টাকার ফুল। অনেকের জীবনের মোড় ফেরানো এই ফুল ভালোবাসা দিবসের একদিনে কেবল গাদখালীতে ২০ কোটি টাকা বিক্রির বিস্ময় উদ্রেককারী রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।
সাথে রীতিনির্ভর শিল্পসুষমার নানা উপকরণ তো আছেই। চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, হীরের আংটি, প্রিয় পোশাক, খেলনা, বই, ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার-তো আছেই। আছে মুঠোফোনের বার্তা এমএমএস, এসএমএস, ই-মেইল, ছোট্ট চিরকুটসহ প্রিয়সব অনুসঙ্গ। আত্মভাবনামূলক বহুমাত্রিক ভালোবাসার রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন। এর শুরু কিন্তু অনেক আগে। দিন তারিখ অনেকটা অস্পষ্ট হলেও স্মৃতির অতলে থাকা অনেক কুয়াশা ভেদ করে কিছু ঘটনা স্পষ্ট হয়েছে।
বাংলায় ভালোবাসা দিবস হলেও সারা বিশ্বে এটি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ নামে সর্বাধিক পরিচিত। প্রাচীন রোমে ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’ নামে একজন খ্যাতনামা জনগণকল্যাণপ্রিয় জনপ্রিয় চিকিৎসক ছিলেন। তিনি রোগীদের প্রতি ভীষণ সদয় ছিলেন। সবিনয় আগ্রহ ছিল রোগী কল্যাণে। তখন ছিল তেতো ওষুধ। স্বাদের ওষুধ ছিল নিতান্তই অপ্রতুল। অসুস্থ মানুষজন তেতো ওষুধ খেতে কষ্ট হয় বলে তিনি ওষুধের সাথে দুধ, মধু, ওয়াইন মিশিয়ে খেতে দিতেন। তিনি অনেক ঝড়ঝাপটা, তুফান মোকাবিলা করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। পারিতোষিকের চিন্তা না করে সতিকার অর্থে নির্লোভ-নির্মোহ জীবনযাপনের চিন্তা করতেন।
রোমে তখন খ্রিস্টধর্ম কেবল মাথাচারা দিয়ে ওঠতে শুরু করেছিল। তবে মোটেও জনপ্রিয় ছিল না। চিকিৎসক ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’ কঠিন বৈপরীত্য প্রকাশের তোয়াক্কা না করে নবাগত খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন। এই ধর্মে বিশ্বাসীদের নানা রকম হয়রানি ও কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হতো। অন্যকে বিপাকে ফেলার কৌশল খুঁজে বের করা হতো। রোম সম্রাটদের স্বার্থ সম্পর্কিত বনিবনা না হলে প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে নানা রকম অপপ্রচার চালানো ছিল স্বাভাবিক ঘটনা।
সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকেও অনর্থক মিথ্যা অজুহাতে কারাগারে অন্তরিণ করা হয়। এই সময় রোমের এক কারা প্রধান তার অন্ধ মেয়েকে চিকিৎসার জন্য ভ্যালেন্টাইনের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। ভ্যালেন্টাইন তার সর্বোচ্চ সাধ্যমতো চিকিৎসা করবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। নিজের বিবেকের অনেক অনুশাসন মেনে চলছিল চিকিৎসা। তখন অশ্রাব্য গুজব ছড়িয়ে, সন্দেহ অবিশ্বাস ভয়ভীতি দেখিয়ে রোমান সৈন্যরা একদিন ভ্যালেন্টাইনকে বেঁধে নিয়ে যায়। তিনি হতবাক হয়ে বুঝতে পারেন অল্পসময়ের মধ্যে তাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। ভ্যালেন্টাইন অন্ধ মেয়েটিকে বিদায় জানিয়ে কঠিন অনুভূতির একটি চিরকুট লিখে রেখে গিয়েছিলেন।
ঐ সময় হাজার হাজার-নিরীহ-নিরাপরাধ মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছিল। প্রখর আত্মসচেতন ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন ভ্যালেন্টাইনের বেলায়ও একই স্বাভাবিক ফসল হয়েছিল। রোমের সম্রাটট ‘ক্লডিয়াসের’ নোংরা ও জবরদস্তির আদেশে মানবিক চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একতরফা বৈরী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল ২৬৯ খ্রিস্টাব্দের কারো মতে ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই ফেব্রুয়ারি সূর্য ওঠার আগে।
প্রীতি ও ভীতির পরিবেশে সময় গড়াতে থাকে। ভ্যালেন্টাইনের নির্ভেজাল চিকিৎসায় অন্ধ মেয়েটির দুচোখে দৃষ্টি ফিরে এসেছিল। মৃত্যুদণ্ডের পূর্বক্ষণে লেখা সেই আবেগী চিরকুট কারা প্রধানের মাধ্যমে মেয়েটির হাতে আসে। বিড়ম্বিত ও বিপদগ্রস্ত ভ্যালেন্টাইন শেষে লিখেছিলেন ইতি ‘তোমার ভ্যালেনটাইন’। ভেতরে ভেতরে ক্ষযে যাওয়া মেয়েটি চিরকুটের ভেতরে বসন্তের হলুদ ফুলের আশ্চর্য সুন্দর রং দেখতে পেলো। শত্রুতা ও চক্রান্তের বিষবাষ্পে মানবতাবাদী ভ্যালেন্টাইনের পরিণতিকে দায় পূরণের দুঃখবিলাসী ভাবনায় আচ্ছন্ন করে। মুখোশের পেছনের মানুষগুলোর মুখোশ উন্মোচনের সুতীব্র বাসনা জাগে।
উদারতা, আত্মত্যাগ, বীরত্বগাথা, মহাকীর্তির বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ইতিহাস আশ্রিত এই ঘটনার রেস কালান্তরব্যাপী চলতে থাকে। পরবর্তীতে ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব ‘পোপ জেলাসিয়ুস’ শিল্পকুশলতার পরিচয় দিয়ে ১৪ই ফেব্রুয়ারি তারিখকে ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ হিসাবে ঘোষণা করেন। অতিমানবিক সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জটিল এই কাহিনির সরল বিস্তারে সসম্ভ্রম উচ্চারণ করেন। অবশ্য এই দিবস নিয়ে নিরীক্ষার দৃষ্টিতে দেখলে আরো অনেক চমকপ্রদ ইতিহাস পাওয়া যায়। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডার খবর পাওয়া যায়। নির্ভরযোগ্য তথ্যে জানা যায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্ট মতাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন তারা জুনো নামে একটি উৎসব পালন করতো।
রোমান ঐতিহ্যে আর লিখিত পুরনে ‘জুনো’ বিয়ে ও সন্তানের দেবী। তৎসময়ে অবিবাহিত তরুণ-তরুণীরা নাচ গান আর নানা আচার অনুসঙ্গে সঙ্গী বেছে নিতো। নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার সেই তারিখটি ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারি। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দিনটিও ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারি। ভাগ্যক্রমে একই দিন হওয়ায় সোনায় সোয়াগা হয়। ভালোবাসার তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে বিভিন্নধরনের পাগলামি আর উন্মদনার মধ্যে একাকার হয় এই দিবস।
অন্তরঙ্গ জীবনের সাথে ভীষণরকম মিল থাকায় খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এই দিবস ভাবনা। অপ্রতিরোধ্য গতিতে ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারা বিশ্বে উন্মাদনা সৃষ্টি হয়। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ষোড়শ শতকে আধুনিকভাবে ভ্যালেন্টাইন দিবসের যাত্রা শুরু হয়। অষ্টাদশ শতকে তা বাণিজ্য শিল্পকলায় পরিণত হয়। ভ্যালেনটাইন্স দিবস নতুনভাবে জীবন লাভ করে। গভীর মমতায় উদ্দীপ্ত হয়ে খ্যাতিমান অনেক ব্যক্তি বাণী, চিত্রকর্ম, কবিতা, পত্র, গল্প, সাহিত্য, রচনা করতে থাকেন।
অত্যান্ত মর্যাদার সাথে বিনীতভাবে মুখে মুখে উচ্চারিত হয়-
“হৃদয় আছে যার সেই-তো ভালোবাস
প্রতিটি মানুষের জীবনে প্রেম আসে।”
আবেগ ও অহংকার নিয়ে ভালোবাসা দিবসের চেতনা বেশ জোরদার হয়। এখানে জবরদস্তি কিংবা কোনো চালাকির বিষয় নয়। নিতান্তই অনুসারী আর অনুগ্রহ ভজনে, যথাযথ কদরে। এর জনপ্রিয়তা নিয়ে অনেক সম্রাট আর রাজাধিরাজের সন্দেহ ঘনীভূত হয়। অনেকে দারুণভাবে ক্ষেপে যায়।
১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে ফ্রান্স সরকার ভ্যালেন্টাইন উৎসব নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ইংল্যান্ডেও ক্ষমতাসীন পিউরিটানরা প্রশাসনিকভাবে এই দিবস নিষিদ্ধ করেছিল। এই দিবসের ভাব-ভাবনা থোড়াই কেয়ার না করে একই পথ ধরেছিল জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরিসহ আরো অনেক দেশ। তাঁদের এই অযাতিত প্রত্যাখ্যান এই দিবসকে আরো দারুণভাবে কৌতূহলী করে তোলে। আইন-কানুন-আদেশ-নির্দেশের মোড়ালিপনার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত মাতলামিতে পরিণত হয়। ‘সেন্ট ভ্যালেনটাইনস’ কিংবা ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’র কদর প্রবলভাবে বাড়াতে থাকে।
বর্তমানে পাশ্চাত্যে এই দিবস উৎসবের আকার ধারণ করেছে। মহাসমারোহে উদ্যাপন করে। নিষিদ্ধকারীদের নোংরা চিন্তায় বেশ ভালো রকম ঘা লাগে। সফলভাবে রূপায়িত এই দিবসে সারা পৃথিবীর মানুষ কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে। একদিনে কেবল যুক্তরাষ্ট্রে ৩ কোটি শুভেচ্ছা কার্ড আদান-প্রদানের রেকর্ড গড়েছে। বাস্তবতায় সর্বাত্মকভাবে ঐতিহাসিক সংকট থাকলেও সমাজে-এর মূল্য এখন অপরিসীম। তবে তরুণ-তরুণী শুধু নয়, নানা বয়সের মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন এখন ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’। ঘটনাবহুল রহস্যঘেরা আজকের এই দিবসে পৃথিবীর সকল প্রাণির প্রতি বিশুদ্ধ ভালোবাসা।
লেখকঃ খন রঞ্জন রায়,সমাজচিন্তক, গবেষক ও সংগঠক



