স্পোর্টস ডেস্ক: ফেসবুকে বাবা নিয়ে কিছু দেখলে দ্রুত চোখ সরিয়ে নেন। বাবা নিয়ে রচিত কোনো গাড়লও শোনেন না। বাবা ডাক কেমন, বাবার আদর স্নেহ ভালোবাসা কেমন হয়, কন্যার সঙ্গে বাবার সম্পর্কটা কেমন হয়, বাবা দিবস এলে বাবা নিয়ে কত শুভেচ্ছা বিনিময় হয়, কিন্তু কোথাও চোখ রাখেননা জাতীয় নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক রূপনা চাকমা।

কেন? ‘আমার তো বাবা নেই আমার জন্মের আগেই বাবা হারিয়েছি। মা কেমন হয় জানি, বাবা কেমন হয় জানি না।’ বললেন পিতৃস্নেহ বঞ্চিত রূপনা চাকমা। এই ফুটবলার ২০২২ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত নারী সাফে শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেই আনন্দের রেশ না কাটতেই এবার ২০২৪ সালেও সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন রাঙ্গামাটির পাহাড়ি অঞ্চলের রূপনা।

পরপর দুই বার শ্রেষ্ঠত্ব পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার। দুই বার চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর দুই বারই শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষকের পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য অন্য রকম গৌরব। এত আনন্দের মধ্যে মন খারাপ হয় রূপনা চাকমার। দলের অন্য ফুটবলারদের বাবা-মা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজনরা ফুটবল ভবনে আসেন। ফোনে খোঁজখবর নেন। ভিডিও কলেও সন্তানরা বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। সবাই ঠিকঠাক কিন্তু রূপনা চাকঘরা মনটা তার হয়ে থাকে যখন অন্য ফুটবলারদের বাবা ক্যাম্পে আসেন। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলে ‘মা কেমন আছিস।’

এই দৃশ্য দেখে আপনি তখন কি করেন। রূপনা চাকমা বলেন, ‘আমি তাদেরকে ফলো করি। বাবা আর মেয়ে যখন কথা বলেন আমি দেখি, তার কী কথা বলেন বাবা তার মেয়েকে কী জিজ্ঞেস করেন, মেয়ে কী উত্তর দিচ্ছেন আমি দেখি যাদের বাবা আসেন তারা মেয়ের মাথায় হাত রেখে কথা বলেন। বাবার বুকে মাথা রেখে বাবাকে বিদায় দিচ্ছেন মেয়ে। কারো নাম বলব না। কথা বলতে বলতে কত বাবা মেয়েকে আমি কাঁদতে দেখেছি, ওসব দেখে আমি….।’

কথা বলতে বলতে রূপনা চাকমা আবেগ আপ্লুত। বাফুফের ফটোসাংবাদিক আব্দুল কাদের রূপনাকে বললেন, ‘কিরে ওই, মন খারাপ করস কেন।’ রূপনা আবার বললেন, আমি বাবাকে দেখিনি, কেমন চেহারা তাও জানি না। ছবি থাকলে বাবা আছেন মনে করে, বুকে আগলে রাখতে পারতাম। অনেক খুজেছি। মাকেও জিজ্ঞেস করেছি। কোথাও বাবার একটা ছবি নেই।’

রূপনা চাকঘর দুঃখের গল্প শেষ হয় না। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার বলছিলেন, ‘আমার জ্বর হয়েছিল। কঙ্কাল দেহ হয়ে গিয়েছিল। শরীরে মৎস নেই। বাঁচার অবস্থা ছিল না কারণ ওষুধ কেনার টাকা নেই। কেউ এগিয়েও আসেনি। সেখান থেকে বেঁচে এসে আজ আমি উপমহাদেশের সেরা গোলকিপার হয়েছি। এখন টাকা পাই। বাংকে রাখি, মায়ের জন্য পাঠাই। পুরোন কথা মনে করতে চাই না।’

ছোটবেলাটা কেমন কেটেছিল? ‘আশপাশের বাসায় গিয়ে কাজ করতাম। অন্যদের কাজ করে দিতাম। টাকা দিত। মাকে দিয়ে দিতাম।’ এটা কি রকম যে, টাকার জন্য কাজ করা? ‘না না, বুয়ার কাজ করতাম না। বাসায় গিয়ে অন্যের কাজে হেল্প করতাম। ওরা টাকা দিত-বললেন রূপনা চাকমা।

রূপনা গোলরক্ষক হলেন কীভাবে? রূপনা বলেন, ‘আমার গ্রামে আমি ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম স্ট্রাইকার হিসাবে। একদিন গোলপোস্টে খেলার কেউ ছিল না। আমার কোচ জানতে চাইল তোমাদের মধ্যে গোলকিপার হতে চাও কে? আমি হাত তুললাম। সেই থেকেই তিন কাঠির নিচে আমি দাড়িয়ে গেলাম।’

ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে গোল হজমের ব্যাপারে রূপনা চাকমা বলেন, ‘ফাইনালের মাঝখানে মাঠে পানি দিয়েছিল নেপাল, বল আসছে দেখে আমি ছুটে যাই। ডান পা পিছলে পড়ে গেলে বল ধরতে পারিনি।’ এত খ্যাতি পাওয়ার পর বিয়ের প্রস্তাব আসে না? এবার রূপনার কণ্ঠে ঝাজ-পরিবার থেকে বললে আমি বিয়ে করব না। আমি আমার পছন্দ মতো করব।’ পরিবারে কে আছেন।? ‘ভাইয়েরা বিয়ে করে আলাদা থাকেন আমি আমার মাকে নিয়ে থাকি। আমি ঢাকায় থাকলেও মা একাই থাকেন। প্রতিদিন ভিডিওতে মাকে দেখি, কথা বলি। মা-ই তো আমার মা, আমার বাবা।’

স্পোর্টস ডেস্ক: ফেসবুকে বাবা নিয়ে কিছু দেখলে দ্রুত চোখ সরিয়ে নেন। বাবা নিয়ে রচিত কোনো গাড়লও শোনেন না। বাবা ডাক কেমন, বাবার আদর স্নেহ ভালোবাসা কেমন হয়, কন্যার সঙ্গে বাবার সম্পর্কটা কেমন হয়, বাবা দিবস এলে বাবা নিয়ে কত শুভেচ্ছা বিনিময় হয়, কিন্তু কোথাও চোখ রাখেননা জাতীয় নারী ফুটবল দলের গোলরক্ষক রূপনা চাকমা।

কেন? ‘আমার তো বাবা নেই আমার জন্মের আগেই বাবা হারিয়েছি। মা কেমন হয় জানি, বাবা কেমন হয় জানি না।’ বললেন পিতৃস্নেহ বঞ্চিত রূপনা চাকমা। এই ফুটবলার ২০২২ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত নারী সাফে শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেই আনন্দের রেশ না কাটতেই এবার ২০২৪ সালেও সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন রাঙ্গামাটির পাহাড়ি অঞ্চলের রূপনা।

পরপর দুই বার শ্রেষ্ঠত্ব পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার। দুই বার চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর দুই বারই শ্রেষ্ঠ গোলরক্ষকের পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য অন্য রকম গৌরব। এত আনন্দের মধ্যে মন খারাপ হয় রূপনা চাকমার। দলের অন্য ফুটবলারদের বাবা-মা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজনরা ফুটবল ভবনে আসেন। ফোনে খোঁজখবর নেন। ভিডিও কলেও সন্তানরা বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। সবাই ঠিকঠাক কিন্তু রূপনা চাকঘরা মনটা তার হয়ে থাকে যখন অন্য ফুটবলারদের বাবা ক্যাম্পে আসেন। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলে ‘মা কেমন আছিস।’

এই দৃশ্য দেখে আপনি তখন কি করেন। রূপনা চাকমা বলেন, ‘আমি তাদেরকে ফলো করি। বাবা আর মেয়ে যখন কথা বলেন আমি দেখি, তার কী কথা বলেন বাবা তার মেয়েকে কী জিজ্ঞেস করেন, মেয়ে কী উত্তর দিচ্ছেন আমি দেখি যাদের বাবা আসেন তারা মেয়ের মাথায় হাত রেখে কথা বলেন। বাবার বুকে মাথা রেখে বাবাকে বিদায় দিচ্ছেন মেয়ে। কারো নাম বলব না। কথা বলতে বলতে কত বাবা মেয়েকে আমি কাঁদতে দেখেছি, ওসব দেখে আমি….।’

কথা বলতে বলতে রূপনা চাকমা আবেগ আপ্লুত। বাফুফের ফটোসাংবাদিক আব্দুল কাদের রূপনাকে বললেন, ‘কিরে ওই, মন খারাপ করস কেন।’ রূপনা আবার বললেন, আমি বাবাকে দেখিনি, কেমন চেহারা তাও জানি না। ছবি থাকলে বাবা আছেন মনে করে, বুকে আগলে রাখতে পারতাম। অনেক খুজেছি। মাকেও জিজ্ঞেস করেছি। কোথাও বাবার একটা ছবি নেই।’

রূপনা চাকঘর দুঃখের গল্প শেষ হয় না। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার বলছিলেন, ‘আমার জ্বর হয়েছিল। কঙ্কাল দেহ হয়ে গিয়েছিল। শরীরে মৎস নেই। বাঁচার অবস্থা ছিল না কারণ ওষুধ কেনার টাকা নেই। কেউ এগিয়েও আসেনি। সেখান থেকে বেঁচে এসে আজ আমি উপমহাদেশের সেরা গোলকিপার হয়েছি। এখন টাকা পাই। বাংকে রাখি, মায়ের জন্য পাঠাই। পুরোন কথা মনে করতে চাই না।’

ছোটবেলাটা কেমন কেটেছিল? ‘আশপাশের বাসায় গিয়ে কাজ করতাম। অন্যদের কাজ করে দিতাম। টাকা দিত। মাকে দিয়ে দিতাম।’ এটা কি রকম যে, টাকার জন্য কাজ করা? ‘না না, বুয়ার কাজ করতাম না। বাসায় গিয়ে অন্যের কাজে হেল্প করতাম। ওরা টাকা দিত-বললেন রূপনা চাকমা।

রূপনা গোলরক্ষক হলেন কীভাবে? রূপনা বলেন, ‘আমার গ্রামে আমি ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম স্ট্রাইকার হিসাবে। একদিন গোলপোস্টে খেলার কেউ ছিল না। আমার কোচ জানতে চাইল তোমাদের মধ্যে গোলকিপার হতে চাও কে? আমি হাত তুললাম। সেই থেকেই তিন কাঠির নিচে আমি দাড়িয়ে গেলাম।’

ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে গোল হজমের ব্যাপারে রূপনা চাকমা বলেন, ‘ফাইনালের মাঝখানে মাঠে পানি দিয়েছিল নেপাল, বল আসছে দেখে আমি ছুটে যাই। ডান পা পিছলে পড়ে গেলে বল ধরতে পারিনি।’ এত খ্যাতি পাওয়ার পর বিয়ের প্রস্তাব আসে না? এবার রূপনার কণ্ঠে ঝাজ-পরিবার থেকে বললে আমি বিয়ে করব না। আমি আমার পছন্দ মতো করব।’ পরিবারে কে আছেন।? ‘ভাইয়েরা বিয়ে করে আলাদা থাকেন আমি আমার মাকে নিয়ে থাকি। আমি ঢাকায় থাকলেও মা একাই থাকেন। প্রতিদিন ভিডিওতে মাকে দেখি, কথা বলি। মা-ই তো আমার মা, আমার বাবা।’