সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া: সাতকানিয়ায় পহেলা বৈশাখের নতুন বছরের উদিত সূর্য লাল আভা ছড়িয়েছে প্রায় এক ঘণ্টা আগে। কিছুক্ষণের মধ্যে জন্ম নেবে সেই কাঙ্খিত সন্তান। লেবার রুমের বাইরে হাসপাতালে বারান্দায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষার প্রহর গুনছিল বাবাসহ হাসপাতালে আসা নিকটজনরা। সময় তখন সকাল ৬ টা ৪৬ মিনিট। এ সময় ভেতর থেকে খবর এলো মফিজুর রহমান-রুনা আক্তারের কোলজুড়ে এসেছে এক পুত্র সন্তান। প্রথম সন্তান ছিল মেয়ে। তখন বাবার মুখে সেই তৃপ্তির হাসি ভুলিয়ে দিল সারারাত জেগে থাকার সেই কষ্ট। আর্থিক অনটনের এ সংসারে মিষ্টি কেনার সামর্থ্য না থাকলেও নির্মাণ শ্রমিক মফিজুর রহমান হাসপাতালের বিল মিটিয়েছেন বিয়ের সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে দেওয়া স্বর্ণ বন্ধক দিয়ে হসপিটালের বিল মিটিয়েছেন।

এ দম্পতিকে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পরিবার কিংবা অন্য কেউ শুভেচ্ছাও জানাইনি। কারণ অভাবের সংসারে যেখানে দুমুঠো অন্ন জোগাড় করার চিন্তায় সবসময় ছুটতে হয় কাজের সন্ধানে, সেখান শুভেচ্ছা ও পহেলা বৈশাখ কি? তা জানা গরীবের ঘোড়া রোগ ছাড়া আর কিছু নয় ! তবে মিষ্টি কেনা ও শুভেচ্ছা না পেলেও সন্তান জন্মের আগে কেনা জামা দিয়ে কলিজার টুকরোকে জড়িয়ে রেখেছেন হতভাগিনী মা। মায়ের কাছে যেনো কোন রাজপুত্রের গায়ে দেওয়া জামা। এতেও খুশি এ দম্পতি| এত কিছুর পরেও বাবার প্রত্যশা তাঁর সন্তান বড় হয়ে দেশ সেবায় নিজেকে নিয়োগের জন্য যোগ দিবে বিজিবি অথবা সেনাবাহিনীতে। বাবার আশা শিশুটি সুস্থ হয়ে মনুষ্যত্বের অধিকারী হয়ে মানুষের তরে নিজেকে নিবেদন করে।

পহেলা বৈশাখ সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকার হেলথ কেয়ার হসপিটালে গৃহবধূ রুনা আক্তারের কোল জুড়ে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। মফিজুর রহমানের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে ঢেমশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ পাড়া এলাকায় এ দম্পতির জান্নাতুল মাওয়া ইফশা নামে ৬ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোনের সংসারে মফিজুর রহমান ভাইদের মধ্যে তৃতীয়। মফিজ নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালায়। বোনদের বিয়ে হয়ে গেলেও ভাইয়েরা যার যার মত কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। মফিজের বাবা এক সময় চাষাবাদ ও সবজি বিক্রি করে সংসার চালালেও বর্তমানে বয়সের কারণে তিনি কর্ম অক্ষম। ভিটে মাটি ও কিছু চাষাবাদের জমি ছাড়া তাদের পরিবারের আয়ের অন্য কোন উৎস নাই। মফিজ স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি শেষ করে বিদ্যার পাঠ চুকিয়ে নেয়। সংসারের অভাবের কারণে লেখাপড়া আর হয়ে উঠেনি।

নবজাতকের মা রুনা আক্তারের বাড়ি একই উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা একজন কৃষক। রুনা আক্তার দুই বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। তিনি সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জত বর্ডার গার্ড স্কুল থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পাশ করে। ২০১৯ সালে মফিজুর রহমান-রুনা আক্তার দম্পতির পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়। এরপর এক বছরের মাথায় প্রথম কন্যা সন্তান জান্নাতুল মাওয়া ইফশার জন্ম হয়। বর্তমানে ইফশার বয়স ৬ বছর। এবার বিশেষ দিনে কন্যা সন্তানের পর দ্বিতীয় পুত্র সন্তানের জন্ম সৃষ্টিকর্তার রহমত বলে মনে করছেন এ দম্পতি|

স্বামী মফিজুর রহমান বলেন, রুনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে- এ ধারণা থেকে উপজেলার কেরানীহাট এলাকার হেলথ কেয়ার হসপিটালের চিকিৎসক ডা. সোলতানান নাসিরা সুরভীর কাছে নিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করালে গর্ভবর্তী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হই। সেই প্রথম থেকে এ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিল রুনা। তবে মফিজ বলেন, অন্তঃসত্তার পর থেকে আর্থিক যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে তার সবটুকু দিয়ে স্ত্রীর পাশে থাকার চেষ্টা করেছি| বাড়তি সেবার জন্য স্ত্রীকে (রুনা) বাপের বাড়ি পাঠিয়েছি। কিছুদিন পর নিয়ে আসবো। সবার নিকট দোয়া চাইব- আমার সন্তান বড় হয়ে যাতে বিজিবি অথবা সেনাবাহিনীর সদস্য হয়ে দেশের সেবা করতে পারে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে সাধ্যমত অর্থ খরচ করে আকিকা দিয়ে আমার সন্তানের নাম আমি নিজেই রাখব।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে মফিজ বলেন, আসলে রুনা গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে চেষ্টা করেছি খরচ ডেলিভারীতে করতে। টাকা কুলাতে না পেরে স্ত্রীর বাপের বাড়ি থেকে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণ বন্ধক দিয়ে পাওয়া টাকায় হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেছি।

রুনা আক্তার পহেলা বৈশাখের ব্যাপারে বলেন, পারিবারিক ভাবে কোন সময় পহেলা বৈশাখ আমরা উদযাপন করিনি। এছাড়া কোন অনুষ্ঠানে জীবনে যাওয়া হয়নি। তবে স্কুলে পড়ার সময় বৈশাখী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। তখন কিন্তু ভালই লাগতো। ডেলিভারীর সময় হাসপাতালটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পার্শ্বে হলেও বেডে শোয়া অবস্থায় কোন বৈশাখী উৎসবের মাইকের আওয়াজ শুনিনি। স্কুল জীবনে শুনেছি উপজেলা সদরে বৈশাখী উৎসব মহাসমারোহে পালিত হতো।

রুনা আক্তার আরো বলেন, গর্ভের পর নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকায় তেমন কোন সমস্যা হয়নি। তবে কিছু শঙ্কাতো ছিলই। তবে আল্লাহর রহমত প্রথম সন্তানের মত এবারও নরমাল ডেলিভারী হওয়ায় আল্লাহর নিকট শোকরিয়া আদায় করছি।

হেলথ কেয়ার হসপিটালের সেবিকা ঐশি মালাকার বলেন, রোগী যেদিন হাসপাতালে ভর্তি হয় সেদিন ছিল পহেলা বৈশাখের আগের দিন সোমবার। ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা প্রসব বেদনা থাকলেও রোগীর মনে তেমন কোন শঙ্কা ছিল না। রাত গড়িয়ে পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহর মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৪৬ মিনিটে সময়মত নরমাল ডেলিভারী হয়। রোগী রুনা আক্তার প্রথমে ডা. সুরভী ম্যাডামের তত্ত্বাবধানে ছিল। কিন্তু বাচ্চা ডেলিভারী সময় উনি ছুটিতে থাকায় লেবার রুমে ছিল ডা. হামিদা ম্যাডাম। উনার তত্ত্বাবধানে কোন সমস্যা ছাড়াই নরমাল ডেলিভারী হয়। বাচ্চার ওজন ছিল ২ কেজি ৮০০ গ্রাম। বাচ্চা স্বাভাবিকভাবে মায়ের দুধ পেয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ডেলিভারীর পরদিন মা ও ছেলে বাড়ি ফিরে যায়।

ডা. সোলতানান নাসিরা সুরভী বলেন, রুনা আক্তার গর্ভবতী হওয়ার প্রথম থেকে আমার তত্ত্বাবধানে থাকায় কোন সমস্যা হয়নি, নরমাল ডেলিভারী হয়েছে। ডেলিভারীর সময় আমি স্পটে না থাকলেও অন্য এক গাইনী বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ডেলিভারী হয়।

হেলথ কেয়ার হসপিটালের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের হসপিটালে ডেলিভারীর জন্য যত রোগী আসে তাদের প্রথমে নরমাল ডেলিভারীর চেষ্টা করা হয়| অনেক চেষ্টার পর সম্ভব না হলে সিজার করা হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে সকল রোগী যাতে ভালো সেবা পায় এ চেষ্টা হসপিটাল কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি থেকেই করে আসছে।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, নববর্ষের সময় রোগীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়নি। আসলে বিষয়টি হসপিটাল কর্তৃপক্ষ এ বছর মাথায় নেয়নি। আগামীতে পহেলা বৈশাখে জন্ম নেওয়া শিশুদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে।

সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া: সাতকানিয়ায় পহেলা বৈশাখের নতুন বছরের উদিত সূর্য লাল আভা ছড়িয়েছে প্রায় এক ঘণ্টা আগে। কিছুক্ষণের মধ্যে জন্ম নেবে সেই কাঙ্খিত সন্তান। লেবার রুমের বাইরে হাসপাতালে বারান্দায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষার প্রহর গুনছিল বাবাসহ হাসপাতালে আসা নিকটজনরা। সময় তখন সকাল ৬ টা ৪৬ মিনিট। এ সময় ভেতর থেকে খবর এলো মফিজুর রহমান-রুনা আক্তারের কোলজুড়ে এসেছে এক পুত্র সন্তান। প্রথম সন্তান ছিল মেয়ে। তখন বাবার মুখে সেই তৃপ্তির হাসি ভুলিয়ে দিল সারারাত জেগে থাকার সেই কষ্ট। আর্থিক অনটনের এ সংসারে মিষ্টি কেনার সামর্থ্য না থাকলেও নির্মাণ শ্রমিক মফিজুর রহমান হাসপাতালের বিল মিটিয়েছেন বিয়ের সময় শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রীকে দেওয়া স্বর্ণ বন্ধক দিয়ে হসপিটালের বিল মিটিয়েছেন।

এ দম্পতিকে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পরিবার কিংবা অন্য কেউ শুভেচ্ছাও জানাইনি। কারণ অভাবের সংসারে যেখানে দুমুঠো অন্ন জোগাড় করার চিন্তায় সবসময় ছুটতে হয় কাজের সন্ধানে, সেখান শুভেচ্ছা ও পহেলা বৈশাখ কি? তা জানা গরীবের ঘোড়া রোগ ছাড়া আর কিছু নয় ! তবে মিষ্টি কেনা ও শুভেচ্ছা না পেলেও সন্তান জন্মের আগে কেনা জামা দিয়ে কলিজার টুকরোকে জড়িয়ে রেখেছেন হতভাগিনী মা। মায়ের কাছে যেনো কোন রাজপুত্রের গায়ে দেওয়া জামা। এতেও খুশি এ দম্পতি| এত কিছুর পরেও বাবার প্রত্যশা তাঁর সন্তান বড় হয়ে দেশ সেবায় নিজেকে নিয়োগের জন্য যোগ দিবে বিজিবি অথবা সেনাবাহিনীতে। বাবার আশা শিশুটি সুস্থ হয়ে মনুষ্যত্বের অধিকারী হয়ে মানুষের তরে নিজেকে নিবেদন করে।

পহেলা বৈশাখ সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাট এলাকার হেলথ কেয়ার হসপিটালে গৃহবধূ রুনা আক্তারের কোল জুড়ে জন্ম নেয় ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান। মফিজুর রহমানের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে ঢেমশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ পাড়া এলাকায় এ দম্পতির জান্নাতুল মাওয়া ইফশা নামে ৬ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোনের সংসারে মফিজুর রহমান ভাইদের মধ্যে তৃতীয়। মফিজ নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালায়। বোনদের বিয়ে হয়ে গেলেও ভাইয়েরা যার যার মত কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। মফিজের বাবা এক সময় চাষাবাদ ও সবজি বিক্রি করে সংসার চালালেও বর্তমানে বয়সের কারণে তিনি কর্ম অক্ষম। ভিটে মাটি ও কিছু চাষাবাদের জমি ছাড়া তাদের পরিবারের আয়ের অন্য কোন উৎস নাই। মফিজ স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি শেষ করে বিদ্যার পাঠ চুকিয়ে নেয়। সংসারের অভাবের কারণে লেখাপড়া আর হয়ে উঠেনি।

নবজাতকের মা রুনা আক্তারের বাড়ি একই উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা একজন কৃষক। রুনা আক্তার দুই বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। তিনি সাতকানিয়ার বায়তুল ইজ্জত বর্ডার গার্ড স্কুল থেকে ২০১৮ সালে এসএসসি পাশ করে। ২০১৯ সালে মফিজুর রহমান-রুনা আক্তার দম্পতির পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়। এরপর এক বছরের মাথায় প্রথম কন্যা সন্তান জান্নাতুল মাওয়া ইফশার জন্ম হয়। বর্তমানে ইফশার বয়স ৬ বছর। এবার বিশেষ দিনে কন্যা সন্তানের পর দ্বিতীয় পুত্র সন্তানের জন্ম সৃষ্টিকর্তার রহমত বলে মনে করছেন এ দম্পতি|

স্বামী মফিজুর রহমান বলেন, রুনা আক্তার অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে- এ ধারণা থেকে উপজেলার কেরানীহাট এলাকার হেলথ কেয়ার হসপিটালের চিকিৎসক ডা. সোলতানান নাসিরা সুরভীর কাছে নিয়ে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করালে গর্ভবর্তী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হই। সেই প্রথম থেকে এ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিল রুনা। তবে মফিজ বলেন, অন্তঃসত্তার পর থেকে আর্থিক যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে তার সবটুকু দিয়ে স্ত্রীর পাশে থাকার চেষ্টা করেছি| বাড়তি সেবার জন্য স্ত্রীকে (রুনা) বাপের বাড়ি পাঠিয়েছি। কিছুদিন পর নিয়ে আসবো। সবার নিকট দোয়া চাইব- আমার সন্তান বড় হয়ে যাতে বিজিবি অথবা সেনাবাহিনীর সদস্য হয়ে দেশের সেবা করতে পারে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে সাধ্যমত অর্থ খরচ করে আকিকা দিয়ে আমার সন্তানের নাম আমি নিজেই রাখব।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে মফিজ বলেন, আসলে রুনা গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে চেষ্টা করেছি খরচ ডেলিভারীতে করতে। টাকা কুলাতে না পেরে স্ত্রীর বাপের বাড়ি থেকে বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণ বন্ধক দিয়ে পাওয়া টাকায় হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেছি।

রুনা আক্তার পহেলা বৈশাখের ব্যাপারে বলেন, পারিবারিক ভাবে কোন সময় পহেলা বৈশাখ আমরা উদযাপন করিনি। এছাড়া কোন অনুষ্ঠানে জীবনে যাওয়া হয়নি। তবে স্কুলে পড়ার সময় বৈশাখী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। তখন কিন্তু ভালই লাগতো। ডেলিভারীর সময় হাসপাতালটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পার্শ্বে হলেও বেডে শোয়া অবস্থায় কোন বৈশাখী উৎসবের মাইকের আওয়াজ শুনিনি। স্কুল জীবনে শুনেছি উপজেলা সদরে বৈশাখী উৎসব মহাসমারোহে পালিত হতো।

রুনা আক্তার আরো বলেন, গর্ভের পর নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকায় তেমন কোন সমস্যা হয়নি। তবে কিছু শঙ্কাতো ছিলই। তবে আল্লাহর রহমত প্রথম সন্তানের মত এবারও নরমাল ডেলিভারী হওয়ায় আল্লাহর নিকট শোকরিয়া আদায় করছি।

হেলথ কেয়ার হসপিটালের সেবিকা ঐশি মালাকার বলেন, রোগী যেদিন হাসপাতালে ভর্তি হয় সেদিন ছিল পহেলা বৈশাখের আগের দিন সোমবার। ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা প্রসব বেদনা থাকলেও রোগীর মনে তেমন কোন শঙ্কা ছিল না। রাত গড়িয়ে পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহর মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৪৬ মিনিটে সময়মত নরমাল ডেলিভারী হয়। রোগী রুনা আক্তার প্রথমে ডা. সুরভী ম্যাডামের তত্ত্বাবধানে ছিল। কিন্তু বাচ্চা ডেলিভারী সময় উনি ছুটিতে থাকায় লেবার রুমে ছিল ডা. হামিদা ম্যাডাম। উনার তত্ত্বাবধানে কোন সমস্যা ছাড়াই নরমাল ডেলিভারী হয়। বাচ্চার ওজন ছিল ২ কেজি ৮০০ গ্রাম। বাচ্চা স্বাভাবিকভাবে মায়ের দুধ পেয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ডেলিভারীর পরদিন মা ও ছেলে বাড়ি ফিরে যায়।

ডা. সোলতানান নাসিরা সুরভী বলেন, রুনা আক্তার গর্ভবতী হওয়ার প্রথম থেকে আমার তত্ত্বাবধানে থাকায় কোন সমস্যা হয়নি, নরমাল ডেলিভারী হয়েছে। ডেলিভারীর সময় আমি স্পটে না থাকলেও অন্য এক গাইনী বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ডেলিভারী হয়।

হেলথ কেয়ার হসপিটালের ব্যবস্থাপক নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের হসপিটালে ডেলিভারীর জন্য যত রোগী আসে তাদের প্রথমে নরমাল ডেলিভারীর চেষ্টা করা হয়| অনেক চেষ্টার পর সম্ভব না হলে সিজার করা হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে সকল রোগী যাতে ভালো সেবা পায় এ চেষ্টা হসপিটাল কর্তৃপক্ষ সৃষ্টি থেকেই করে আসছে।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, নববর্ষের সময় রোগীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়নি। আসলে বিষয়টি হসপিটাল কর্তৃপক্ষ এ বছর মাথায় নেয়নি। আগামীতে পহেলা বৈশাখে জন্ম নেওয়া শিশুদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে।