প্রদীপ দাশ, কক্সবাজার সদর প্রতিনিধি: টেকনাফের প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের পূর্বপাড়ার নুরুল কবিরের মেয়ে মারিয়া (৪) ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত ছিল। যাকে চিকিৎসার প্রয়োজনে গত সোমবার টেকনাফ আনতে স্পিডবোেট যোগে যাত্রা দিয়েছিলেন তার বাবা। পথে স্পিডবোটটি নাফ নদীর মোহনায় উল্টে যাওয়ার পর উদ্ধার হওয়া ১০ যাত্রীর মধ্যে অসুস্থ শিশু মারিয়াও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারিয়াকে বাঁচানো যায়নি। একই সঙ্গে ঘটনায় নিখোঁজ স্মৃতি নূর আলিশা (৮) কে একদিন পরও সন্ধান মিলেনি। নিখোঁজ থাকা স্মৃতি নূর আলিশা (৮) সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ার মো. সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে।
মঙ্গলবার বিকাল ৫ টায় সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ আলম বলেন, স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিখোঁজ আলিশা ও মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করা শিশু মারিয়া দু’জনেই তার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মারিয়া ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে টেকনাফ যাত্রা দিয়েছিল। পথিমধ্যে স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় মুমূর্ষাবস্থায় মারিয়াকে উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে তাকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
স্থানীয় এ ইউপি সদস্য বলেন, শিশু মারিয়াকে কক্সবাজার নেওয়ার পথে সোমবার রাতে মারা যায়। মঙ্গলবার সকালে তাকে সেন্টমার্টিন আনা হয়। বিকালে আসরের নামাজের পর স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নিখোঁজ থাকা স্মৃতি নূর আলিশার দাদা মো. ইলিয়াস বলেন, আদরের নাতি আলিশার সন্ধানে সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়াচ্ছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার সন্ধান মিলেনি।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাসাল্লি ফয়েজি বলেন, সোমবার দুপুরে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় উদ্ধার ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু মারিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
রোগীর স্বজনরা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় ফ্রি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, ‘সোমবার রাতে শিশু মারিয়াকে কক্সবাজার নেওয়ার পথে মারা যায়। সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় টেকনাফে নাফ নদীর মোহনার ঘোলার চর পয়েন্টে স্পিড বোটটি উল্টে ডুবে যায়। এসময় স্থানীয় জেলেদের নৌকা ও একটি স্পিডবোট যোগে ভাসমান অবস্থায় ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
তবে দুর্ঘটনা কবলিত স্পিডবোট চালক ও এক শিশু নিখোঁজ ছিল। বিকাল ৪ টার দিকে শাহপরীরদ্বীপের দক্ষিণ মিস্ত্রী পাড়া দিয়ে স্পিডবোট চালক মোহাম্মদ বেলাল সাঁতরে কূলে উঠে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু এখনো নিখোঁজ রয়েছে শিশু স্মৃতি নূর আলিশা।




