১৭ মে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস

খন রঞ্জন রায় : জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন বা আইটিইউ এর ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র যথাযজ্ঞ মর্যাদা ও গুরুত্ব বিবেচনায় পালন করে ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস’। উত্তর আধুনিকতার বোধ জাগিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ আগ্রহে ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আইটিইউ এর সদস্যপদ লাভ করে। তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ও আধুনিক যুগোপযোগী ধারায় বাংলাদেশে এর আঁধারের রূপ বদলায় ২০০৬ সালে।

লালচে আলোর আভা নিয়ে তখন থেকে শুরু করে ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস’ পালন। এর আগে এই দিবস পালন নিয়ে অনুশোচনার সীমা ত্রিভঙ্গে দাঁড়িয়েছিল। চাঁদ যেন চোখ বুঝে ঘুমিয়ে পড়ে এমন ভাব নিয়ে চলছিল এই দিবস। দুরন্ত অভিযাত্রার গতিতে নিয়ে এই প্রযুক্তি কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, উদ্ভাবনী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সম্ভাবনা নিয়ে ১৯৬৯ সাল থেকে শুরু করেছিল এই দিবস পালন।

ডিজিটাল প্রযুক্তির সাগরতীরে দাঁড়িয়ে সুদূর নীলিমায় তাকিয়ে বর্তমান বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ মনের প্রতিবিম্ব হিসাবে ইন্টারন্যাট প্রযুক্তিকে সংযুক্ত করেছে। পূর্ণ চাঁদের মতো আলো নিয়ে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মানুষ সব জায়গায় সর্বত্র জীবন সংস্কৃতির পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। নানা কাজকর্মে অসম্ভব ব্যস্ত মানুষজনদের দরজায় এখন ডিজিটাল বিপ্লব আঁচর কাটে।

বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত চতুর্থ শিল্প বিপ্লব টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট, রেডিও-টেলিভিশন, ওয়াকিটকিসহ নানা যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে তৎক্ষণাৎ চিত্রপট বদলে দেয়। সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কল্পিত আদল নিয়ে ফাইভজি ইন্টারনেট, বিগ ডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জাদু বাস্তবতার মায়া ছড়াচ্ছে। এই মায়াজলের বুকে বুদ্বুদ শুরু হয়েছিল ১৮৬৫ সালের ১৭ মে। সেইদিন ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কনভেনশন উপস্থিত প্রতিনিধিদের দৃঢ় কণ্ঠস্বরে দ্বিধাহীন বক্তব্যের পর গঠিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাম ইউনিয়ন। এই সংগঠনের রূপ-চরিত্রে আলোছায়া ফেলে চলে ১৯০৬ সাল পর্যন্ত। এই সময়ে আন্তর্জাতিক রেডিও-টেলিগ্রাফ ইউনিয়নের একত্রিত পদচ্ছাপে সৃষ্টি হয় আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন। তাদের আটঘাট বাঁধা শ্রম-চিন্তা-কর্মের ফসল ১৭ মে বিশ^ টেলিযোগাযোগ দিবস।

দূরবর্তী কোনো স্থানে তারবিহীন প্রযুক্তিতে সংকেত বা বার্তা পাঠানোর ব্যবহার প্রবণতা শুরু হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে। মাধ্যমগত অবস্থান হিসাবে পরবর্তীতে তারযুক্ত ও তারহীন বার্তা প্রেরণের হরেক মাধ্যমে বিবর্তিত হতে থাকে। তারযুক্ত টেলিফোন ও তারহীন রেডিও প্রযুক্তির মানিকজোড় চোরা স্রোতের মতো ঢুকে পড়ে ভবিষ্যতের কল্প প্রযুক্তির সম্ভাবনার দোয়ারে। আবিষ্কার হয় বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার, টেলিভিশন, ওয়াকিটকি নেটওয়ার্ক, কম্পিউটার, ইন্টারনেট প্রযুক্তির বিভিন্ন আকার-আকৃতি, কর্ম-ধর্মের বিচিত্র ক্রিয়াশীল ব্যবস্থা।

এর আগে বিশ্ব প্রকৃতির আদিম যুগের ধুলোমাটির চরম অনিশ্চয়তা ভরা জীবনে যোগাযোগ আদান-প্রদান হতো ধোঁয়ার সংকেত দিয়ে। কখনো বা ঢোল বাজিয়ে। ঢোল বাজিয়ে জনগণের মাঝে বার্তা পৌঁছানোর গর্বিত প্রজাতির শেষ প্রদীপ সম্ভবত আমিই। শৈশবকালে সরকারি বিশেষ নির্দেশনা কিংবা জনগণ আকাক্সক্ষার সর্বজনীন প্রতিফলন ঘটাতে বাজার- মেলা, উৎসব-পার্বণে ঢোল বাজিয়ে বার্তা জানানোর সংস্কৃতি প্রত্যক্ষ করেছি।

ঢোল সংস্কৃতির স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ শুরু করেছিল আফ্রিকা, নিউগিনি, দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয় উপজাতিরা। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে মেসোপটেমিয়া’র ইউক্রেটিস নদীর তীরে আক্কাদিয়াম নগরীর অধিবাসীরা আলোক সংকেতের মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ করতেন বলে বিজ্ঞানীরা তথ্য-উপাত্ত খুঁজে পেয়েছেন। বার্তা প্রেরণ প্রযুক্তির ধারাবাহিক অগ্রগতি আর অনিশ্চয়তায় ধুঁকতে ধুঁকতে ১৮৫৭ সালে ‘আলেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল’ টেলিফোন আবিষ্কার করেন। এর আগে অশেষ গর্ব নিয়ে ‘স্যার চার্লস হুইটস্টোন’ এবং ‘স্যার উইলিয়াম ফাররগিল কুক’ সফলতার সাথে বাণিজ্যিকভাবে বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাম যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

১৮৩৯ সালের ৯ এপ্রিল গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের ২১ কি.মি. দূরত্বে যোগাযোগ করতে ব্যবহার শুরু হয় এই প্রযুক্তি। তখন সামর্থ্যরে স্বল্পতা থাকলেও দুর্বার গতিতে বিশেষায়িত অনুশীলন চলতে থাকে। শুরু হয় টেলিগ্রাফের মাধ্যমে খবর আদান-প্রদান পদ্ধতি। সমকালীন বিশ্বের সাথে চলমান প্রযুক্তি ব্যবহারের পারঙ্গমতা বাড়তে থাকে। প্রার্থীতমানে উন্নীত হওয়ার আগেই সরকারি অফিস-আদালত, বড় বড় নগরী ও মাঝারি শহরগুলির ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, সর্বদা আলোড়িত অল্পসংখ্যক বিত্তবান ও সুবিধাভোগী নাগরিকের মধ্যে এর ব্যবহার বাড়তে থাকে।

ব্রিটিশ সরকার এই উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালে ভারতের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবন-প্রবাহে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির সংশ্রব ঘটায়। টেলিফোনের প্রযুক্তিজ্ঞানের জন্য জ্ঞান আহরণ চলতে থাকে। টেলিযোগাযোগ উন্নয়নের তীব্র প্রয়াস নিয়ে ১৯২৭ সালের জানুয়ারিতে বেতার সংযোগের মাধ্যমে কণ্ঠযোগাযোগ স্থাপিত হয়। এই যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রিয়াশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জন লগি বেয়ার্ড চলন্ত ছবি প্রেরণের যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

তৎপরবর্তীতে পরিপূরক শক্তি হিসাবে এই প্রযুক্তিকে ‘টেলিভিশন’ নামে উপস্থাপন করেন। এই প্রযুক্তিকে পশ্চাদ্বর্তী যুক্তি না ভেবে কালবিলম্ব না করে গুরুত্বসহকারে ১৯২৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিবিসি বা ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু করে। ইতিহাসকেই যেমন ইতিহাস বলে বিবেচনা করা হয় তেমনই এই টেলিভিশন সম্প্রচার প্রযুক্তিও ইতিহাসের নানা মারপ্যাচে সমৃদ্ধ হতে থাকে।

একজনের প্রযুক্তি ছেঁটে আরেকজনের মানসসম্পদ পরিপূর্ণ হয়। টেলিভিশন আবিষ্কারের কৃতিত্বের সৃজন প্রকৃতিতে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। ১৯২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ফিলো ফার্ন্সওয়র্থ টেলিভিশনে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করার সহজসাধ্য কলাকৌশল আবিষ্কার করেন। এই প্রযুক্তি আবিষ্কারের একাধিক দাবীদার থাকায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। শ্লাঘার বিষয় ভালোর পক্ষে দাঁড়িয়ে মন্দকে প্রতিরোধ করতে, দাবীদারের আক্ষেপের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এই আদালতি সিদ্ধান্ত। সমস্যা প্রতিনিয়ত মানবজীবনকে স্পর্শ করে এরপরও কোন কিছুর জন্য অপেক্ষা করে না। চলতে থাকে। কখনো বা দুর্বার গতি নিয়ে। এই প্রযুক্তির বিষয়টি আরো দ্রুতগতির সঞ্চার করে।

জীবনপ্রবাহের অন্যান্য দিক যেমন বাড়িঘর, যানবাহন, পোশাক-পরিচ্ছদ, গহনা-অলংকার, গরু-ছাগল-ভেড়ার সাথে রেডিও- টেলিভিশন- টেলিফোন আরাম-আয়েশের বিকল্পহীন সম্পদে পরিগণিত হয়। প্রয়োজনীয়তার নিরিখে এই ভাবাও অযৌক্তিক নয়।
মানুষের ভাবজগতের স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রকলা, সংগীত ও সাহিত্যের বিষয়গুলো মানবজীবনের নান্দনিকতা যেমন প্রকাশ পায় তেমনি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ভেতর দিয়ে বর্তমান মোবাইল ফোন পরিপূর্ণ অনুসঙ্গ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।

অর্থনীতির ভাষা অনুযায়ী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বস্তুগত ভোগের সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। স্বল্প- সৌভাগ্যের মানুষেরা আধুনিক-সর্বাধুনিক সব ভোগবিলাসী বস্তুকে ‘পি-ির প্রলাপ’ বলে সর্বান্তকরণ মেনে নেয়। মোবাইল প্রযুক্তির অনুসঙ্গে সৌন্দর্য অঙ্কন করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ত্রাহি মধুসূদন অবস্থার মধ্যেও অশেষ দাপট নিয়ে এর ব্যবহার বাড়তে থাকে।

ব্যাক্তি স্বাতন্ত্র্যের বিকাশ ও মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত ভাবনা এখন বাগবিস্তার নয় মাত্র। এই প্রযুক্তি ব্যবহার ক্ষেত্রে শ্রেণিবিন্যাস ও শ্রেণিবৈষম্য বিলুপ্ত হয়েছে। সামাজিক কায়েমি স্বার্থবাদীরা ক্ষমতার প্রতিভূরা ‘গড়ে হরিবোল’ বলে মেনে নিয়েছে। প্রযুক্তিগত ধ্যান-ধারণা, স্মৃতি বিস্মৃতির অন্ধকার ঠেলে খিড়কির দুয়ার খুলে হতাশা দূর করে এখন উন্নয়নের চূড়ান্ত চূড়ায় অবস্থান করছে। এই অবস্থানের গীতরঙ্গে তাবৎ বিবিধ পদাবলী সংযুক্ত হয়েছে।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭১ সালে উত্তরাধিকারসূত্রেপ্রাপ্ত হিসাবে গঠিত হয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। আলো-আঁধারের ভেতরে নিহিত এই মন্ত্রণালয় ১৯৭৬ সালে কর্পোরেট সংস্থায় রূপান্তর করা হয়। ১৯৭৯ সালে অন্ধকারের আনন্দরূপ দিতে গঠন করা হয় বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড। ১৯৯৫ সালে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা একচ্ছত্র ও কর্তৃত্ব হিসাবের দেয়ালে সংযুক্ত করে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

২০০১ সালে এই খাতের নীতিনির্ধারণ ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনকে। ক্রমশ ভারি হয়ে আসা এই খাতের দায়ভার ২০০৮ সালে অভিনবভাবে তুলে দেওয়া হয়। বিটিসিএল বা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানির হাতে। এনালগ-ডিজিটালের দশাসই মিশেলে সব একাকার করে তালেগোলে চলছিল জনগুরুত্বের এই সেবা।

১১ মে ২০১৮ সালে বিশ্বের ৫৭তম গর্বিত দেশ হিসাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি অতীতমুখীনতার মধ্যে বর্তমান নবতরঙ্গের স্বপ্নদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

পুঞ্জীভূত টেলিসম্পদের বৈচিত্র্যকরণের অপরিহার্য্য পথ উন্মোক্ত হয়। একচ্ছত্রভাবে সর্বক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা প্রদানে বৈচিত্র্য এসেছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প, পরিবেশ, খাদ্য, জ্বালানি, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, সুশাসন, অপচয়, দুর্নীতি সবকিছু এখন স্বচ্ছ সর্বজনীন হওয়ার সুযোগ এসেছে।

মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনমানের উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে শহরকেন্দ্রিকতা পরিহারের দারুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে প্রযুক্তি বিকেন্দ্রিকরণের প্রভাবে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর হয়েছে। অতীতে উদ্ভূত ভয়ানক স্বার্থপর কেন্দ্রীকরণের অভিশাপ মুক্ত হয়েছে। টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির আত্মকেন্দ্রিক অস্তিত্ব ধুয়ে মুছে আত্মআবিষ্কারের স্বপ্ন ও বাস্তবতা একাকার করে দিয়েছে। দেশের প্রথম এই উপগ্রহ বাণিজ্যিক সম্প্রচারে যুক্ত হওয়ায় দেশের সকল টেলিভিশন সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ এবং ইন্টারনেট সেবার অতীত নৈরাজ্য দূর হয়ে একটি ধ্রুপদি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
দেশের ৭৭২টি প্রত্যন্ত ইউনিয়নে ইন্টারনেট সুবিধার নিরবচ্ছিন্ন সেবা পৌঁছে দিয়েছে। এই প্রযুক্তিখাতের স্বপ্ন ভাবনার বিপ্লব ঘটিয়ে মহাকাশ যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। বহুমাত্রিক সুযোগ সৃষ্টি করা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সময়সন্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের জন্য এক অলৌকিক সাহস দেখানোর রূপক হিসাবে আভির্ভূত হয়েছে। মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে এক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।

মহাকাশে বাংলাদেশি নভোচারী পাঠানোর উদ্যোগে নেয়া হয়েছে। অনেক তরুণের সংবেদী হৃদয়তন্ত্রে বিস্ময় মথিত আবেগ ঘা মেরেছে। তাঁরা খুব দ্রুত মহাকাশে গমন করে অনন্যসাধারণ নজির সৃষ্টির মাধ্যমে জয়োৎসব করতে চায়। করোনাকালীন সর্বত্র সকল তৎপরতা বন্ধে-অত্যাচারের যে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে তাতেই আত্ম-আবিষ্কারের এই পথ সাময়িক বন্ধ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে অসম্ভব আকষর্ণের এই স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখবে জাতি।

লেখকঃ খন রঞ্জন রায়,সমাজচিন্তক, গবেষক ও সংগঠক।

১৭ মে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস

খন রঞ্জন রায় : জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন বা আইটিইউ এর ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র যথাযজ্ঞ মর্যাদা ও গুরুত্ব বিবেচনায় পালন করে ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস’। উত্তর আধুনিকতার বোধ জাগিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ আগ্রহে ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ আইটিইউ এর সদস্যপদ লাভ করে। তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ও আধুনিক যুগোপযোগী ধারায় বাংলাদেশে এর আঁধারের রূপ বদলায় ২০০৬ সালে।

লালচে আলোর আভা নিয়ে তখন থেকে শুরু করে ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ দিবস’ পালন। এর আগে এই দিবস পালন নিয়ে অনুশোচনার সীমা ত্রিভঙ্গে দাঁড়িয়েছিল। চাঁদ যেন চোখ বুঝে ঘুমিয়ে পড়ে এমন ভাব নিয়ে চলছিল এই দিবস। দুরন্ত অভিযাত্রার গতিতে নিয়ে এই প্রযুক্তি কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, উদ্ভাবনী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সম্ভাবনা নিয়ে ১৯৬৯ সাল থেকে শুরু করেছিল এই দিবস পালন।

ডিজিটাল প্রযুক্তির সাগরতীরে দাঁড়িয়ে সুদূর নীলিমায় তাকিয়ে বর্তমান বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ মনের প্রতিবিম্ব হিসাবে ইন্টারন্যাট প্রযুক্তিকে সংযুক্ত করেছে। পূর্ণ চাঁদের মতো আলো নিয়ে ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মানুষ সব জায়গায় সর্বত্র জীবন সংস্কৃতির পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। নানা কাজকর্মে অসম্ভব ব্যস্ত মানুষজনদের দরজায় এখন ডিজিটাল বিপ্লব আঁচর কাটে।

বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত চতুর্থ শিল্প বিপ্লব টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট, রেডিও-টেলিভিশন, ওয়াকিটকিসহ নানা যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে তৎক্ষণাৎ চিত্রপট বদলে দেয়। সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কল্পিত আদল নিয়ে ফাইভজি ইন্টারনেট, বিগ ডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় জাদু বাস্তবতার মায়া ছড়াচ্ছে। এই মায়াজলের বুকে বুদ্বুদ শুরু হয়েছিল ১৮৬৫ সালের ১৭ মে। সেইদিন ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কনভেনশন উপস্থিত প্রতিনিধিদের দৃঢ় কণ্ঠস্বরে দ্বিধাহীন বক্তব্যের পর গঠিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক টেলিগ্রাম ইউনিয়ন। এই সংগঠনের রূপ-চরিত্রে আলোছায়া ফেলে চলে ১৯০৬ সাল পর্যন্ত। এই সময়ে আন্তর্জাতিক রেডিও-টেলিগ্রাফ ইউনিয়নের একত্রিত পদচ্ছাপে সৃষ্টি হয় আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন। তাদের আটঘাট বাঁধা শ্রম-চিন্তা-কর্মের ফসল ১৭ মে বিশ^ টেলিযোগাযোগ দিবস।

দূরবর্তী কোনো স্থানে তারবিহীন প্রযুক্তিতে সংকেত বা বার্তা পাঠানোর ব্যবহার প্রবণতা শুরু হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে। মাধ্যমগত অবস্থান হিসাবে পরবর্তীতে তারযুক্ত ও তারহীন বার্তা প্রেরণের হরেক মাধ্যমে বিবর্তিত হতে থাকে। তারযুক্ত টেলিফোন ও তারহীন রেডিও প্রযুক্তির মানিকজোড় চোরা স্রোতের মতো ঢুকে পড়ে ভবিষ্যতের কল্প প্রযুক্তির সম্ভাবনার দোয়ারে। আবিষ্কার হয় বৈদ্যুতিক ট্রান্সমিটার, টেলিভিশন, ওয়াকিটকি নেটওয়ার্ক, কম্পিউটার, ইন্টারনেট প্রযুক্তির বিভিন্ন আকার-আকৃতি, কর্ম-ধর্মের বিচিত্র ক্রিয়াশীল ব্যবস্থা।

এর আগে বিশ্ব প্রকৃতির আদিম যুগের ধুলোমাটির চরম অনিশ্চয়তা ভরা জীবনে যোগাযোগ আদান-প্রদান হতো ধোঁয়ার সংকেত দিয়ে। কখনো বা ঢোল বাজিয়ে। ঢোল বাজিয়ে জনগণের মাঝে বার্তা পৌঁছানোর গর্বিত প্রজাতির শেষ প্রদীপ সম্ভবত আমিই। শৈশবকালে সরকারি বিশেষ নির্দেশনা কিংবা জনগণ আকাক্সক্ষার সর্বজনীন প্রতিফলন ঘটাতে বাজার- মেলা, উৎসব-পার্বণে ঢোল বাজিয়ে বার্তা জানানোর সংস্কৃতি প্রত্যক্ষ করেছি।

ঢোল সংস্কৃতির স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ শুরু করেছিল আফ্রিকা, নিউগিনি, দক্ষিণ আমেরিকার স্থানীয় উপজাতিরা। খ্রিষ্টপূর্ব দ্বিতীয় সহস্রাব্দে মেসোপটেমিয়া’র ইউক্রেটিস নদীর তীরে আক্কাদিয়াম নগরীর অধিবাসীরা আলোক সংকেতের মাধ্যমে বার্তা প্রেরণ করতেন বলে বিজ্ঞানীরা তথ্য-উপাত্ত খুঁজে পেয়েছেন। বার্তা প্রেরণ প্রযুক্তির ধারাবাহিক অগ্রগতি আর অনিশ্চয়তায় ধুঁকতে ধুঁকতে ১৮৫৭ সালে ‘আলেক্সান্ডার গ্রাহাম বেল’ টেলিফোন আবিষ্কার করেন। এর আগে অশেষ গর্ব নিয়ে ‘স্যার চার্লস হুইটস্টোন’ এবং ‘স্যার উইলিয়াম ফাররগিল কুক’ সফলতার সাথে বাণিজ্যিকভাবে বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাম যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

১৮৩৯ সালের ৯ এপ্রিল গ্রেট ওয়েস্টার্ন রেলওয়ের ২১ কি.মি. দূরত্বে যোগাযোগ করতে ব্যবহার শুরু হয় এই প্রযুক্তি। তখন সামর্থ্যরে স্বল্পতা থাকলেও দুর্বার গতিতে বিশেষায়িত অনুশীলন চলতে থাকে। শুরু হয় টেলিগ্রাফের মাধ্যমে খবর আদান-প্রদান পদ্ধতি। সমকালীন বিশ্বের সাথে চলমান প্রযুক্তি ব্যবহারের পারঙ্গমতা বাড়তে থাকে। প্রার্থীতমানে উন্নীত হওয়ার আগেই সরকারি অফিস-আদালত, বড় বড় নগরী ও মাঝারি শহরগুলির ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, সর্বদা আলোড়িত অল্পসংখ্যক বিত্তবান ও সুবিধাভোগী নাগরিকের মধ্যে এর ব্যবহার বাড়তে থাকে।

ব্রিটিশ সরকার এই উপমহাদেশে ১৮৫৩ সালে ভারতের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবন-প্রবাহে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির সংশ্রব ঘটায়। টেলিফোনের প্রযুক্তিজ্ঞানের জন্য জ্ঞান আহরণ চলতে থাকে। টেলিযোগাযোগ উন্নয়নের তীব্র প্রয়াস নিয়ে ১৯২৭ সালের জানুয়ারিতে বেতার সংযোগের মাধ্যমে কণ্ঠযোগাযোগ স্থাপিত হয়। এই যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রিয়াশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জন লগি বেয়ার্ড চলন্ত ছবি প্রেরণের যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

তৎপরবর্তীতে পরিপূরক শক্তি হিসাবে এই প্রযুক্তিকে ‘টেলিভিশন’ নামে উপস্থাপন করেন। এই প্রযুক্তিকে পশ্চাদ্বর্তী যুক্তি না ভেবে কালবিলম্ব না করে গুরুত্বসহকারে ১৯২৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিবিসি বা ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশন পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু করে। ইতিহাসকেই যেমন ইতিহাস বলে বিবেচনা করা হয় তেমনই এই টেলিভিশন সম্প্রচার প্রযুক্তিও ইতিহাসের নানা মারপ্যাচে সমৃদ্ধ হতে থাকে।

একজনের প্রযুক্তি ছেঁটে আরেকজনের মানসসম্পদ পরিপূর্ণ হয়। টেলিভিশন আবিষ্কারের কৃতিত্বের সৃজন প্রকৃতিতে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। ১৯২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ফিলো ফার্ন্সওয়র্থ টেলিভিশনে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি সংযুক্ত করার সহজসাধ্য কলাকৌশল আবিষ্কার করেন। এই প্রযুক্তি আবিষ্কারের একাধিক দাবীদার থাকায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। শ্লাঘার বিষয় ভালোর পক্ষে দাঁড়িয়ে মন্দকে প্রতিরোধ করতে, দাবীদারের আক্ষেপের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এই আদালতি সিদ্ধান্ত। সমস্যা প্রতিনিয়ত মানবজীবনকে স্পর্শ করে এরপরও কোন কিছুর জন্য অপেক্ষা করে না। চলতে থাকে। কখনো বা দুর্বার গতি নিয়ে। এই প্রযুক্তির বিষয়টি আরো দ্রুতগতির সঞ্চার করে।

জীবনপ্রবাহের অন্যান্য দিক যেমন বাড়িঘর, যানবাহন, পোশাক-পরিচ্ছদ, গহনা-অলংকার, গরু-ছাগল-ভেড়ার সাথে রেডিও- টেলিভিশন- টেলিফোন আরাম-আয়েশের বিকল্পহীন সম্পদে পরিগণিত হয়। প্রয়োজনীয়তার নিরিখে এই ভাবাও অযৌক্তিক নয়।
মানুষের ভাবজগতের স্থাপত্য, ভাস্কর্য, চিত্রকলা, সংগীত ও সাহিত্যের বিষয়গুলো মানবজীবনের নান্দনিকতা যেমন প্রকাশ পায় তেমনি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের ভেতর দিয়ে বর্তমান মোবাইল ফোন পরিপূর্ণ অনুসঙ্গ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।

অর্থনীতির ভাষা অনুযায়ী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বস্তুগত ভোগের সীমানা নির্ধারণ করে দেয়। স্বল্প- সৌভাগ্যের মানুষেরা আধুনিক-সর্বাধুনিক সব ভোগবিলাসী বস্তুকে ‘পি-ির প্রলাপ’ বলে সর্বান্তকরণ মেনে নেয়। মোবাইল প্রযুক্তির অনুসঙ্গে সৌন্দর্য অঙ্কন করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ত্রাহি মধুসূদন অবস্থার মধ্যেও অশেষ দাপট নিয়ে এর ব্যবহার বাড়তে থাকে।

ব্যাক্তি স্বাতন্ত্র্যের বিকাশ ও মূল্যবোধে উদ্দীপ্ত ভাবনা এখন বাগবিস্তার নয় মাত্র। এই প্রযুক্তি ব্যবহার ক্ষেত্রে শ্রেণিবিন্যাস ও শ্রেণিবৈষম্য বিলুপ্ত হয়েছে। সামাজিক কায়েমি স্বার্থবাদীরা ক্ষমতার প্রতিভূরা ‘গড়ে হরিবোল’ বলে মেনে নিয়েছে। প্রযুক্তিগত ধ্যান-ধারণা, স্মৃতি বিস্মৃতির অন্ধকার ঠেলে খিড়কির দুয়ার খুলে হতাশা দূর করে এখন উন্নয়নের চূড়ান্ত চূড়ায় অবস্থান করছে। এই অবস্থানের গীতরঙ্গে তাবৎ বিবিধ পদাবলী সংযুক্ত হয়েছে।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭১ সালে উত্তরাধিকারসূত্রেপ্রাপ্ত হিসাবে গঠিত হয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। আলো-আঁধারের ভেতরে নিহিত এই মন্ত্রণালয় ১৯৭৬ সালে কর্পোরেট সংস্থায় রূপান্তর করা হয়। ১৯৭৯ সালে অন্ধকারের আনন্দরূপ দিতে গঠন করা হয় বাংলাদেশ টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন বোর্ড। ১৯৯৫ সালে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা একচ্ছত্র ও কর্তৃত্ব হিসাবের দেয়ালে সংযুক্ত করে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

২০০১ সালে এই খাতের নীতিনির্ধারণ ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনকে। ক্রমশ ভারি হয়ে আসা এই খাতের দায়ভার ২০০৮ সালে অভিনবভাবে তুলে দেওয়া হয়। বিটিসিএল বা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানির হাতে। এনালগ-ডিজিটালের দশাসই মিশেলে সব একাকার করে তালেগোলে চলছিল জনগুরুত্বের এই সেবা।

১১ মে ২০১৮ সালে বিশ্বের ৫৭তম গর্বিত দেশ হিসাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি অতীতমুখীনতার মধ্যে বর্তমান নবতরঙ্গের স্বপ্নদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

পুঞ্জীভূত টেলিসম্পদের বৈচিত্র্যকরণের অপরিহার্য্য পথ উন্মোক্ত হয়। একচ্ছত্রভাবে সর্বক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা প্রদানে বৈচিত্র্য এসেছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, শিল্প, পরিবেশ, খাদ্য, জ্বালানি, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, সুশাসন, অপচয়, দুর্নীতি সবকিছু এখন স্বচ্ছ সর্বজনীন হওয়ার সুযোগ এসেছে।

মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবনমানের উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে শহরকেন্দ্রিকতা পরিহারের দারুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে প্রযুক্তি বিকেন্দ্রিকরণের প্রভাবে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর হয়েছে। অতীতে উদ্ভূত ভয়ানক স্বার্থপর কেন্দ্রীকরণের অভিশাপ মুক্ত হয়েছে। টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির আত্মকেন্দ্রিক অস্তিত্ব ধুয়ে মুছে আত্মআবিষ্কারের স্বপ্ন ও বাস্তবতা একাকার করে দিয়েছে। দেশের প্রথম এই উপগ্রহ বাণিজ্যিক সম্প্রচারে যুক্ত হওয়ায় দেশের সকল টেলিভিশন সম্প্রচার, টেলিযোগাযোগ এবং ইন্টারনেট সেবার অতীত নৈরাজ্য দূর হয়ে একটি ধ্রুপদি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
দেশের ৭৭২টি প্রত্যন্ত ইউনিয়নে ইন্টারনেট সুবিধার নিরবচ্ছিন্ন সেবা পৌঁছে দিয়েছে। এই প্রযুক্তিখাতের স্বপ্ন ভাবনার বিপ্লব ঘটিয়ে মহাকাশ যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। বহুমাত্রিক সুযোগ সৃষ্টি করা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সময়সন্ধির পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের জন্য এক অলৌকিক সাহস দেখানোর রূপক হিসাবে আভির্ভূত হয়েছে। মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে এক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।

মহাকাশে বাংলাদেশি নভোচারী পাঠানোর উদ্যোগে নেয়া হয়েছে। অনেক তরুণের সংবেদী হৃদয়তন্ত্রে বিস্ময় মথিত আবেগ ঘা মেরেছে। তাঁরা খুব দ্রুত মহাকাশে গমন করে অনন্যসাধারণ নজির সৃষ্টির মাধ্যমে জয়োৎসব করতে চায়। করোনাকালীন সর্বত্র সকল তৎপরতা বন্ধে-অত্যাচারের যে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে তাতেই আত্ম-আবিষ্কারের এই পথ সাময়িক বন্ধ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে অসম্ভব আকষর্ণের এই স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখবে জাতি।

লেখকঃ খন রঞ্জন রায়,সমাজচিন্তক, গবেষক ও সংগঠক।