নিজস্ব প্রতিবেদক: পেকুয়ায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আনাগোনার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারও বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ভোটার ও প্রার্থীরা। এ অবস্থায় জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা দাগি সন্ত্রাসীরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে। তাদের মধ্যে কেউ পুলিশের খাতায় চিহ্নিত তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। কয়েক দিন আগে মগনামা ইউনিয়নে মহড়া দিয়েছে ডজন খানেক মামলার আসামী আশফাকুল হক লিটন।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়ায় যেকোন নির্বাচন আসলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দাগি অপরাধীরা তৎপর হয়ে উঠেন। বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে দাগি অপরাধীরা। এরইমধ্যে সম্প্রতি সময়ে পুলিশের তালিকাভূক্ত দাগি অপরাধী আশফাকুল হক লিটন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা তৎপর হয়ে উঠেছে। লিটনের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানাসহ বিভিন্ন আদালতে প্রায় ডজনখানেক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। লিটনের হেফাজতে অবৈধ অস্ত্রও রয়েছে বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন। এমনকি মহেশখালী ও নাইক্ষংছড়ি উপজেলার চিহ্নিত অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে লিটনের রয়েছে দারুণ সখ্যতা।
জানা যায়, বিগত ২০১৬ সালে অনুষ্টিত পেকুয়ার টইটং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তিন দিন পূর্বে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহীদুল্লাহকে অপহরণ করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে নির্বাচনের পরদিন পর্যন্ত আটকে রেখেছিল পুলিশের তালিকাভূক্ত অপরাধী আশফাফুল হক লিটনের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। এ ঘটনায় লিটনসহ ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা হয়েছিল পেকুয়া থানায়। প্রতিবারই কোন না কোন নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা অপহরণ আতঙ্কে ভুগে।
পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী নাছির উদ্দিন বাদশা অভিযোগ করে বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দাগী অপরাধীদের তৎপরতা লক্ষ্য করছি। এসব অপরাধীরা কতিপয় প্রভাবশালী প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে কাজ করছে। তাই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্টু ও নিরপেক্ষ করতে পেকুয়ার চিহ্নিত দাগী অপরাধীদের গ্রেফতার দাবি করছি।
পেকুয়া থানার ওসি মো: ইলিয়াছ বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় সন্ত্রাসীরা যেন আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে সে জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। প্রতিরাতেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য, পেকুয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে দ্বিতীয় ধাপে চলতি মাসের ২১ মে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্টিত হবে।
জানা যায়, পেকুয়া উপজেলার অত্যাধিক সন্ত্রাস কবলিত অন্যতম এলাকা মগনামা ইউনিয়ন। বিগত সময়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এ এলাকার জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসলেও আসন্ন উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারো সন্ত্রাসীরা সরগরম হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রার্থীরা পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে পুলিশের তালিকাভূক্ত ও বিভিন্ন মামলায় জামিনপ্রাপ্ত প্রায় দেড় ডজন সন্ত্রাসী। নির্বাচনী প্রচারণায় সন্ত্রাস নির্ভর হয়ে যাওযায় এখানকার দুর্বল প্রার্থীরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এলাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন পুরাতন সন্ত্রাসীদের আনাগোনা। এদের মধ্যে মারামারি, অপহরণ, চুরি-ছিনতাই, হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মতো মামলার আসামীরা রয়েছে।
মগনামা ইউনিয়নের সাধারণ ভোটার আলা উদ্দিন ও ইলিয়াছ পারভেজ জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রার্থীর পক্ষে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা প্রচারণা চালাচ্ছে। ভোটের মাঠে প্রভাব বিস্তার করছে সন্ত্রাসীরা। তাই তাদের মতো সাধারণ ভোটারেরা আতঙ্কে রয়েছে।
এলাকাবাসীরা জানান, নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন দাগী আসামির আনাগোনা বেড়েছে এলাকায়। তবে নির্বাচনের আগেই নড়েচড়ে বসতে শুরু করে পেকুয়ার আন্ডারওয়ার্ল্ড। এসব দাগী সন্ত্রাসীরা সহযোগীদের মাধ্যমে নতুন করে আধিপত্য বিস্তারে উঠেপড়ে লেগেছে। দাগী সন্ত্রাসীদের মধ্যে কেউ কেউ রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হতে চাইছে।
এদিকে পেকুয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া ‘কিশোর গ্যাং’। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও গ্যাং সদস্যরা ঘটাচ্ছে নানা অঘটন। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণসহ এমন অপকর্ম নেই যা তারা করছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নানামুখী তৎপরতার পরও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কিশোর অপরাধীদের। তাদের অপতৎপরতায় সাধারণ মানুষ ভয়ে তটস্থ থাকে। কেননা কিশোর গ্যাং সদস্যদের নানা অপকর্মের মূলে থাকে তাদের কথিত ‘বড়ভাই’।
এব্যাপারে চকরিয়া-পেকুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রকীব উর-রাজা বলেন, পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে দাগি অপরাধী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।




