নগর প্রতিবেদক: আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ-১৪৩১ বঙ্গাব্দ। ভোরের রঙিন আলো রাঙিয়েছে বাঙালির নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। প্রতিবারের ন্যায় এবারো চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গনে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পলিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ।

কর্মসূচির শুরুতে এক বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বাদ্যের তালে তালে গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যের লোকজ উপকরণ পালকি, পুতুল, রঙিন প্ল্যাকার্ড মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ করেছে অনন্য মাত্রা।
নববর্ষ উপলক্ষ্যে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ তোফায়েল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, ডিআইজি নুরেআলম মিনা, পুলিশ সুপার এস. এম শফিউল্লাহ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ডার(ভারপ্রাপ্ত) বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম সরোয়ার কামালসহ প্রমুখ।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, পৃথিবীর যে কোন দেশে দেখবেন ঐতিহ্যকে লালন করা হয়। বিভিন্ন দেশে তাদের পুরোনো দালান-কোঠাকে প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। যদি কোন সংষ্কার পরে, সেটা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে করা হয়, কারণ তারা বুঝে পুরোনো জিনিসের কদর। আমাদের দেশে কিছু মানুষ আছে যারা স্বাধীনতা বিরোধী, বাঙালি সত্তা বিরোধী, তারা পহেলা বৈশাখকে অপসংস্কৃতি বলে অভিহিত করে। এ পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির অভিন্ন অংশ। যতদিন পৃথিবীতে বাঙালি থাকবে ততদিন পহেলা বৈশাখ এভাবে পালন করা হবে। এটা এমন একটা অনুষ্ঠান যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি। সকাল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে সকলের উপস্থিতি এটাই প্রমাণ করে পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রানের উৎসব।

আলোচনা সভা শেষে চিত্রাংকন ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
নববর্ষের আনন্দ আয়োজন উপলক্ষ্যে শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ছুটে এসেছে সর্বস্তরের জনসাধারণ।

এসময় জেলা শিল্পকলা একাডেমির সংগীত দল, চট্টগ্রাম শিশু একাডেমি, ঘুংঘুর নৃত্যকলা কেন্দ্র, সংগীত ভবনসহ অসংখ্য সাংস্কৃতিক সংগঠন সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেয়।
শিল্পীরা ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গানে গানে বরণ করে নেন বাংলা নববর্ষকে। নাচে-গানে জমজমাট ছিল পুরো শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ।




