নুরুল ইসলাম: দেখতে দেখতে জীবনের ৫০টি বছর কেটে গেছে আবদুর রহমানের। একটু টের পায়নি কখন যে, মরণ অসুখ বাসা বেঁধেছে তার কিডনিতে। যখন পারলো তখন তার দু’টি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত আবদুর রহমান; তবুও বাঁচার আকুতি তার। রহমান আজ জীবনের শেষপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। তার দু’চোখে মুঠো মুঠো স্বপ্নের বদলে শুধুই মৃত্যুর বিভীষিকা। তার মধ্যে এখন বেঁচে থাকার তীব্র আকুতি।
স্ত্রী কিংবা স্বজনদের সামর্থ্য নেই এত অর্থ ব্যয় করে তাকে বাঁচিয়ে রাখার। তারপরও তার পরিবারের চেষ্টার কমতি নেই। তারা রহমানকে ভারতের নিয়ে যেতে চান চিকিৎসার জন্য। তবে, তারা পারছেন না আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে। নিরূপায় হয়ে রহমানকে বাঁচাতে সমাজের সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তার স্ত্রী বিলকিছ ফাতেমা। রহমান নোয়াখালীর একটি প্লাষ্টিক ফ্যাক্টরির একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের সুখছড়ী খলিফা পাড়ায় নিজ বাড়িতে রয়েছেন। রহমানের বাবা ও মা বেঁচে নেই। তার স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে সন্তান রয়েছে।
আবদুর রহমান বলেন, বিগত ৪ মাস পূর্বে অসুস্থ হয়ে পড়লে চট্টগ্রাম শহরের সিএসসিআর হাসপাতালে গেলে সেখানে কিডনি বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. এমএ কাশেম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, আমার দু’টি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেছে, আমাকে ডায়ালাসিস করতে। কিন্তু, টাকার অভাবে এ পর্যন্ত একবারও ডায়ালাসিস করতে পারেনি। দিন দিন আমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে।
স্ত্রী বিলকিছ ফাতেমা বলেন, আমার সহায় সম্বল বলে তেমন কিছুই নেই।আমার স্বামী একটি ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। স্বামীর দুই কিডনি নষ্ট হয়ে সে এখন মৃত্যুশয্যায়। এই মুহূর্তে আমার পক্ষে স্বামীর চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। ঠিক মতো খাবার কিনতে পারি না; সেখানে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করবো কীভাবে বলে কেঁদে ফেলেন তিনি। স্বামীকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তি ও প্রবাসীদের সাহায্য কামনা করেছে বিলকিছ ফাতেমা।
প্রতিবেশীরা জানান, রহমান একজন ভালো মানুষ। কিছুদিন আগে তার কিডনি ও লিভারে রোগ ধরা পড়ে। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী, ভালো ছেলে। হঠাৎ করে তার এমন রোগ ধরা পড়ল, যা সত্যিই দুঃখজনক।
ওই এলাকার সমাজসেবক মো. সাইফুদ্দীন বলেন, লোকটি খুবই গরিব। টাকার অভাবে তার চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। আমরাও তাকে সাধ্যমত সহযোগিতা করব। আপনারাও এগিয়ে আসুন।
আমিারাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, একেবারেই গরিব এ লোকটি রোগের চিকিৎসা ব্যয় নিজের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। আমি তার জন্য যতদূর সম্ভব সাহায্যের চেষ্টা করব। অনেক ব্যয়বহুল চিকিৎসা তাই বিত্তশালীদেরও এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান এ জনপ্রতিনিধি। অসুস্থ আবদুর রহমানের বিকাশ নাম্বার-০১৮৬৬-৭৯৮৭৫০ (পার্সোনাল)। যোগাযোগের নম্বর- ০১৭৯২-৪১৫৯৩০।




