ক্রাইম প্রতিবেদক: এই বার দু’টি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সমন্বয় পরিষদ, বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ঐক্য পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তবে বাম ঘরনার অপর সমমনা পরিষদ নামে পরিচিত প্যানেলটি এই বারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেনা। এই দিকে কর্ণেল অলি আহমদ’র গড়া দল এলডিপি সমর্থিত লিবারেল ডেমোক্রেটিক ল’ইয়ার্স ফ্রন্ট বিগত ২০০৭ সাল থেকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্যানেলে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করে আসলেও এই বারের পেক্ষাপট ভিন্ন। এই দলটি আগামী ১০ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে কোন প্যানেলকে সমর্থন দিচ্ছেনা।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এবং বাংলাদেশ ল’ইয়াস কাউন্সিল এর সাথে বনিবনা না হওয়ায় এই প্যানেলটি ঐক্য থেকে বেরিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন এডভোকেট শাহাদৎ হোসেন।
এতোদিন ধরে এই তিনটি প্যানেল ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করে আসছিল বলে জানা গেছে। এইবার জোট ভেঙ্গে যাওয়ায় সমন্বয় পরিষদের পাল্লা ভারী বলে বিজ্ঞ অনেকে অভিমত দিয়েছেন। গেল বার নির্বাচনে অনেকটা সমানে সমান পর্যায়ে গেলেও এই বার সেই ধরনের কোন আভাস পাওয়া যাচ্ছেনা। আগামী ১০ ফ্রেব্রুয়ারী পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে জানিয়েছেন অনেকে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া দু’টি দলই বসে নেই। আদালতে এবং আইনজীবীদের চেম্বারে প্রার্থীরা দোয়া সমর্থন চেয়ে ও কৌশল বিনিময় করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রার্থীদের সমর্থিত আইনজীবীরাও বসে নেই তারাও প্রার্থীদের পরিচিতি কার্ড নিয়ে দোয়া ভোট প্রার্থনা করছেন। তাছাড়া প্রার্থীরা আইনজীবী ভোটারদের মোবাইল নাম্বারেও ফোন করে ভোট প্রার্থনা করছেন। প্রায় ৬ হাজারের মতো ভোটার রয়েছে এইবারের নির্বাচনে। দু’টি প্যানেলে ১৯জন করে ৩৮জন প্রার্থী ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত সমন্বয় পরিষদ থেকে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন এডভোকেট আবু মোহাম্মদ হাশেম ও এডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দীন। এডভোকেট জিয়াউদ্দীন তৃতীয় বারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচনে লড়ে যাচ্ছেন। তিনি গেল দুইবার বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সমন্বয় পরিষদ থেকে বিপুল ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ঐক্য পরিষদ থেকে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন এডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দীন চৌধুরী ও এডভোকেট আবদুস ছাত্তার সরওয়ার।
এডভোকেট শাহাদৎ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ২০০৭ সাল থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ঐক্য পরিষদের ব্যানারে নির্বাচন করে আসছিলাম। দীর্ঘ ১৫বছর ধরে ওই প্যানেল সমর্থিত প্রার্থীদের কোন হাঁক ডাক ছাড়াই সমর্থন এবং ভোটের জন্য আইনজীবীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করে প্রার্থীদের বিজয়ী করে ছিলাম। কিন্তু এরপরও ওই দলটি ছাড়ের দয়া প্রদর্শন করেনি। ফলে আমরা বাধ্য হয়ে জোট থেকে বেরিয়ে গেছি। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চট্টগ্রাম আদালত অঙ্গনে খোশ মেজাসে নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চলছে বলে জানা গেছে।



