মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া: নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসীল অনুযায়ী আগামীকাল ৭ জানুয়ারী সারা দেশের ন্যায় কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বহুল কাঙ্খিত সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হচ্ছে। এ দিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের ৪৪টি ভোট কেন্দ্রের ২৯৪টি ভোট কক্ষে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৮৬৪ জন নারী-পুরুষ ভোটার তাদের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে ভোট প্রদানের প্রস্তুতি নিয়েছে।
এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার কাজও শেষ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। এ আসনে এবার হাতঘড়ি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম, বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির কেন্দ্রীয় পলিট ব্যুরোর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আবু মোহাম্মদ বশিরুল আলম লড়ছেন হাতুড়ি প্রতীক নিয়ে, বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলমের ছেলে তরুণ উদ্যোক্তা তানভীর ছিদ্দিকী তুহিন লড়ছেন ঈগল প্রতীকে, বিশিষ্ট শিল্পী কমর উদ্দিন আরমান লড়ছেন কলারছড়ি প্রতীকে, জাতীয় পার্টির হোসনে আরা লড়ছেন লাঙল প্রতীকে।
এ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সেক্রেটারী সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপিকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিলেও নানামুখী ষডযন্ত্রের কারণে তাঁর প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যায়। উচ্চ আদালতে আইনী লড়াই চালিয়েও প্রার্থীতা ফিরে পায়নি আওয়ামী লীগের ত্যাগী প্রবীণ নেতা সালাহ উদ্দিন আহমদ সিআইপি। তবে তিনি নৌকার প্রার্থীতা ফিরে না পেলেও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমের হাতঘড়ি মার্কাকে সমর্থন দিয়েছেন।
এছাড়া চকরিয়া-পেকুয়ার আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ইবরাহিমের হাতঘড়ি প্রতীকে সর্মথন দিয়ে বিরামহীন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে। এই দুই উপজেলার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা হাতঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মেজর জেনারেল ইবরাহিমকে জেতাতে রাতদিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়েছেন। এ কারণে এবার চকরিয়া-পেকুয়া আসনে নির্বাচনের সমীকরণ পাল্টে গেছে।
বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলম এর দূর্গ হিসেবে পরিচিত পেকুয়া- চকরিয়ায় এবার আঘাত হানতে পারে হাতঘড়ি। ইতোমধ্যে সৈয়দ ইবরাহিম চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার যেখানে পথসভা/উঠান বৈঠক করেছেন সেখানেই মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
পেকুয়ার কয়েকজন সাধারাণ ভোটার জানান, চকরিয়া-পেকুয়া আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একট্টা হয়ে হাতঘড়ি’র পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সৈয়দ মো: ইবরাহিমের হাতঘড়ি’র প্রতীকের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে পেকুয়া-চকরিয়ায়। এ কারণে দৃশ্যত কোনঠাসা ও একঘরে হয়ে পড়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম। চকরিয়া-পেকুয়া উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জাফর আলমের পাশে নেই। এ আসনে দলীয়ভাবে সৈয়দ ইবরাহিমকে আওয়ামী লীগ সমর্থন দেওয়ায় জাফর আলমের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে দুই উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এবার ভোটের মাঠে কঠিন সময় পার করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী জাফর আলম।
দুই উপজেলার কয়েকজন সচেতন ভোটাররা জানান, একাধিক প্রার্থী এই আসনে নির্বাচনে লড়লেও মূলত লড়াই হবে দুই প্রার্থীর মধ্যে। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম ও বর্তমান সংসদ সদস্য জাফর আলমের মধ্যে মূলত লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।
তবে, বিগত ৫ বছরে জাফর আলমের নেতিবাচক কর্মকান্ডের কারণে দল থেকে তাকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না দেওয়ার কারণে তার জন্য আগামী ৭ জানুয়ারী অনুষ্টিতব্য সংসদ নির্বাচনে জেতা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে।
সম্প্রতি পেকুয়া বাজারের নিউ মার্কেটে আয়োজিত তাঁর নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনী অনুষ্টানে দলের প্রধানকে নিয়ে কটুক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ার কারণে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ জাফর আলম কে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ থেকেও সাময়িক অব্যহতি দিয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে জাফর আলম বেশ বেকায়দায় রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।
সংসদ সদস্য প্রার্থী বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় অতীতের মতো দখলবাজি, চাঁদাবাজি, ডাকাতি-দস্যুতা, গরু চুরি থাকবেনা। এসব অপরাধ চিরতরে নির্মূল করা হবে। তাই তিনি আগামীকাল ৭ জানুয়ারী নির্বাচনের দিন তার হাতঘড়ি প্রতীকে চকরিয়া-পেকুয়ার ভোটরদেরকে তাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য আহবান জানিয়েছেন।




