ঢাকা ব্যুরো: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অবস্থান ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ৫ মাস। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে থাকা দলটির ভূমিকা আগামী নির্বাচনে কেমন হবে তা স্পষ্ট নয়। দলের পক্ষ থেকে একদিকে বলা হচ্ছে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া হবে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক জোট করার কথাও বলছেন কেউ কেউ।

এছাড়া সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়েও দলটির অবস্থান স্পষ্ট নয়। বিএনপিসহ রাজপথের বিরোধী দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইলেও জাতীয় পার্টির নেতারা এর বিরোধিতা করছেন। তারা শুধু বলছেন- বর্তমান ব্যবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে হতে পারে এর কোনো রূপরেখা দলটির পক্ষ থেকে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় অস্বস্তিতে থাকা তৃণমূল নেতাকর্মী অনেকটাই বিভ্রান্ত।

কারমাইকেল কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা হারুন অর রশীদ বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর দলে বিভক্তি স্পষ্ট। আমরা ছোট দল, এই দলে বিভক্তি থাকলে দলের অবস্থা ভালো থাকে না।

তিনি বলেন, এখন মানুষ আমাদের জিজ্ঞাসা করে, আমরা কোন পন্থি? জি এম কাদের, নাকি রওশন এরশাদ? এ প্রশ্নের কোনো জবাব থাকে না দেয়ার মতো। এতে আমরা লজ্জিত ও হতাশ হই।

রংপুরের আরেক ছাত্রনেতা মিলন মাসুদ বলেন, জাতীয় পার্টির রাজনীতি এখন একটা বেসামাল অবস্থায় আছে। জি এম কাদেরের নেতৃত্বে আমরা চাই দলটা ঠিক থাকুক। কিন্তু রওশন ও বিদিশা এরশাদের হাতে নেতৃত্ব গেলে ক্ষতিকর হবে। এই নেতা আরো বলেন, রংপুর-৩ আসনে যেহেতু এরশাদ সাহেব নির্বাচন করতেন; আমরা চাই বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও যেন এই আসন থেকে নির্বাচন করেন।

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে দুদিন আগে কথা হয়। তাদের তাদেই একজন আহসান উল্লাহ। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি নিয়ে মানুষ এখন হাসাহাসি করে। কারণ নতুন সিস্টেমে সরকারি দলে থেকে আমরা বিরোধী দল। এটা একটা হাস্যকর বিষয়। অনেকেই বলেন, গৃহপালিত বিরোধী দল। এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর।

ফেনীর জাতীয় পার্টির নেতা নয়ন হোসেন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আর খুব বেশি সময় নেই। অথচ, দলের বার্তা এখনো আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়, আমরা কি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে; নাকি এককভাবে নির্বাচন করছি? নাকি অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আছে শীর্ষ নেতৃত্বের? কিছুই জানি না। যদিও ঘোষণা দেয়া হয়েছে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার। প্রস্তুতির কথাও বলছেন। আবার বলছেন, নির্বাচনের আগে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে দলের শীর্ষ নেতারা বারবার বলছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু এই কথার গুরুত্ব তারা কতটুকু দিচ্ছেন- তারা হয়তো নিজেরাও জানেন না।

গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির পদপ্রত্যাশী একজন নেতা বলেন, আমাদের কয়েকজন নেতা সংসদে কিংবা গণমাধ্যমে বেশ ভালো বক্তব্য দিচ্ছেন। আমরা শেয়ার করছি। কিন্তু তৃণমূলের জন্য তারা কী করছেন? এছাড়া লাঙ্গলে যারা ভোট দেবেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা কিছুই করছেন না। হাতপাখার প্রার্থী জাতীয় পার্টির থেকে বেশি ভোট পায় এটা আমাদের জন্য লজ্জার। তাছাড়া আগামী নির্বাচনে দলের ভূমিকা কী হবে, আমাদের কাছে সে বিষয়েও পরিষ্কার কোনো বার্তা নেই। বার্তা থাকলে আমরা আমাদের মতো করে একটা মানসিক প্রস্তুতি নিতে পারতাম।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় পার্টির এক নেতা বলেন, এখন দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ-বিএনপির ওপর বিরক্ত। জনগণ তৃতীয় কোনো শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। গণঅধিকার পরিষদ যদি মাঠ গরম রাখতে পারে- আমরা কেন পারব না। কয়েকজন এমপি হলেই দলের সম্মান বাড়ে না। আমাদের নেতা এরশাদ ছিলেন অকুতোভয় দেশপ্রেমিক। তার ভাই জি এম কাদেরও সেই পথে হাঁটছেন। কিন্তু কোথায় যেন তাদের ভয়।

তিনি আরো বলেন, একবার পরিকল্পনা করে মাঠে নামলেই দেখবেন সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে এসে দাঁড়াবে।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার নাছের হোসাইন বলেন, বর্তমানে আমরা লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেই। অনেকেই ভোট দেন শুধু প্রতীকটাতে। কিন্তু দলের যে অবস্থা, দ্ব›দ্ব-বিভাজন, এটাকে রাজনৈতিক দল বলা মুশকিল। তিনি বলেন, সংসদে কয়েকজন নেতা ভালো ভালো কথা বলছেন, কিন্তু তারা সাধারণ মানুষের সামনে রাজপথে থেকে কথাগুলো বললে আরো ভালো হতো। জনসমর্থন বাড়ত। দলটাও চাঙা হতো।

জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতা নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বেলায়েত মাস্টার বলেন, এখন দলের প্রধান সমস্যা নীতি, দলের অবস্থান। আমাদের দলের অবস্থান কী? আমাদের অদূর ও সুদূর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, সেই বার্তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আমরা যদি আগামী নির্বাচনে কোনো দলের সঙ্গে জোটে যুক্তও হই, কেন হচ্ছি, কীভাবে হচ্ছি- আমাদের জানাতে হবে। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন এমন ঘোষণাও এসেছে। কিন্তু মেসেজ হতে হবে লাউড এন্ড ক্লিয়ার।

মুন্সীগঞ্জের এক নারী নেত্রী বলেন, দেশের মানুষ জাতীয় পার্টিকে চায়, লাঙ্গলকে চায়। কিন্তু এখন যেভাবে চলছে তাতে শুধু কেন্দ্রীয় নেতা থাকবে, সমর্থক থাকবে না।

ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল মামুন বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ষোঘণা দিয়েছেন সামনের জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন। আমরা সেভাবেই নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করছি, প্রস্তুতি নিচ্ছি। মানুষ জাতীয় পার্টিকে নতুন আঙ্গিকে দেখতে চায়। তাই আমাদের ছাত্র সমাজের ৮৮ ইউনিট আছে, আমরা সেই আঙ্গিকে নিজেদের সাজাচ্ছি।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কারো সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে না। জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে মনোনয়ন দিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। এজন্য অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ চায়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করা, সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা- বিরোধী দল হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এটাই আমাদের দলের রাজনীতি। কিন্তু এটা করলে সরকারি দল ভাবে- বিএনপির সঙ্গে যাব কিনা? আবার সরকারের পক্ষে কথা বললে, বিএনপি ভাবে আমরা সরকারের সঙ্গে যাব কিনা? আসলে আমরা কারো সঙ্গে যেতে চাই না। যাব না। স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই- জাতীয় পার্টি একটি আলাদা দল, তাদের একটি প্রতীক আছে। আমরা আগামীতে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেব। কারো পক্ষে-বিপক্ষে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ বলেছেন, তার দল তত্ত্বাবধায়ক সংবিধানের বাইরে যাবে না। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হতে হবে। তবে এই প্রশ্নে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের অবস্থান অস্পষ্ট। মাঝে মাঝেই তার কণ্ঠে সরকারের কড়া সমালোচনাও শোনা যায়।

ঢাকা ব্যুরো: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অবস্থান ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ৫ মাস। দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে থাকা দলটির ভূমিকা আগামী নির্বাচনে কেমন হবে তা স্পষ্ট নয়। দলের পক্ষ থেকে একদিকে বলা হচ্ছে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়া হবে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক জোট করার কথাও বলছেন কেউ কেউ।

এছাড়া সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়েও দলটির অবস্থান স্পষ্ট নয়। বিএনপিসহ রাজপথের বিরোধী দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইলেও জাতীয় পার্টির নেতারা এর বিরোধিতা করছেন। তারা শুধু বলছেন- বর্তমান ব্যবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে হতে পারে এর কোনো রূপরেখা দলটির পক্ষ থেকে দেয়ার কোনো পরিকল্পনা দেখা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় অস্বস্তিতে থাকা তৃণমূল নেতাকর্মী অনেকটাই বিভ্রান্ত।

কারমাইকেল কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা হারুন অর রশীদ বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর দলে বিভক্তি স্পষ্ট। আমরা ছোট দল, এই দলে বিভক্তি থাকলে দলের অবস্থা ভালো থাকে না।

তিনি বলেন, এখন মানুষ আমাদের জিজ্ঞাসা করে, আমরা কোন পন্থি? জি এম কাদের, নাকি রওশন এরশাদ? এ প্রশ্নের কোনো জবাব থাকে না দেয়ার মতো। এতে আমরা লজ্জিত ও হতাশ হই।

রংপুরের আরেক ছাত্রনেতা মিলন মাসুদ বলেন, জাতীয় পার্টির রাজনীতি এখন একটা বেসামাল অবস্থায় আছে। জি এম কাদেরের নেতৃত্বে আমরা চাই দলটা ঠিক থাকুক। কিন্তু রওশন ও বিদিশা এরশাদের হাতে নেতৃত্ব গেলে ক্ষতিকর হবে। এই নেতা আরো বলেন, রংপুর-৩ আসনে যেহেতু এরশাদ সাহেব নির্বাচন করতেন; আমরা চাই বর্তমান চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও যেন এই আসন থেকে নির্বাচন করেন।

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে দুদিন আগে কথা হয়। তাদের তাদেই একজন আহসান উল্লাহ। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি নিয়ে মানুষ এখন হাসাহাসি করে। কারণ নতুন সিস্টেমে সরকারি দলে থেকে আমরা বিরোধী দল। এটা একটা হাস্যকর বিষয়। অনেকেই বলেন, গৃহপালিত বিরোধী দল। এটা আমাদের জন্য বিব্রতকর।

ফেনীর জাতীয় পার্টির নেতা নয়ন হোসেন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আর খুব বেশি সময় নেই। অথচ, দলের বার্তা এখনো আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়, আমরা কি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে; নাকি এককভাবে নির্বাচন করছি? নাকি অন্য কোনো সিদ্ধান্ত আছে শীর্ষ নেতৃত্বের? কিছুই জানি না। যদিও ঘোষণা দেয়া হয়েছে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার। প্রস্তুতির কথাও বলছেন। আবার বলছেন, নির্বাচনের আগে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে দলের শীর্ষ নেতারা বারবার বলছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু এই কথার গুরুত্ব তারা কতটুকু দিচ্ছেন- তারা হয়তো নিজেরাও জানেন না।

গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির পদপ্রত্যাশী একজন নেতা বলেন, আমাদের কয়েকজন নেতা সংসদে কিংবা গণমাধ্যমে বেশ ভালো বক্তব্য দিচ্ছেন। আমরা শেয়ার করছি। কিন্তু তৃণমূলের জন্য তারা কী করছেন? এছাড়া লাঙ্গলে যারা ভোট দেবেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তারা কিছুই করছেন না। হাতপাখার প্রার্থী জাতীয় পার্টির থেকে বেশি ভোট পায় এটা আমাদের জন্য লজ্জার। তাছাড়া আগামী নির্বাচনে দলের ভূমিকা কী হবে, আমাদের কাছে সে বিষয়েও পরিষ্কার কোনো বার্তা নেই। বার্তা থাকলে আমরা আমাদের মতো করে একটা মানসিক প্রস্তুতি নিতে পারতাম।

নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় পার্টির এক নেতা বলেন, এখন দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ-বিএনপির ওপর বিরক্ত। জনগণ তৃতীয় কোনো শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। গণঅধিকার পরিষদ যদি মাঠ গরম রাখতে পারে- আমরা কেন পারব না। কয়েকজন এমপি হলেই দলের সম্মান বাড়ে না। আমাদের নেতা এরশাদ ছিলেন অকুতোভয় দেশপ্রেমিক। তার ভাই জি এম কাদেরও সেই পথে হাঁটছেন। কিন্তু কোথায় যেন তাদের ভয়।

তিনি আরো বলেন, একবার পরিকল্পনা করে মাঠে নামলেই দেখবেন সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে এসে দাঁড়াবে।

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার নাছের হোসাইন বলেন, বর্তমানে আমরা লাঙ্গল প্রতীকে ভোট দেই। অনেকেই ভোট দেন শুধু প্রতীকটাতে। কিন্তু দলের যে অবস্থা, দ্ব›দ্ব-বিভাজন, এটাকে রাজনৈতিক দল বলা মুশকিল। তিনি বলেন, সংসদে কয়েকজন নেতা ভালো ভালো কথা বলছেন, কিন্তু তারা সাধারণ মানুষের সামনে রাজপথে থেকে কথাগুলো বললে আরো ভালো হতো। জনসমর্থন বাড়ত। দলটাও চাঙা হতো।

জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতা নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বেলায়েত মাস্টার বলেন, এখন দলের প্রধান সমস্যা নীতি, দলের অবস্থান। আমাদের দলের অবস্থান কী? আমাদের অদূর ও সুদূর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, সেই বার্তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আমরা যদি আগামী নির্বাচনে কোনো দলের সঙ্গে জোটে যুক্তও হই, কেন হচ্ছি, কীভাবে হচ্ছি- আমাদের জানাতে হবে। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন এমন ঘোষণাও এসেছে। কিন্তু মেসেজ হতে হবে লাউড এন্ড ক্লিয়ার।

মুন্সীগঞ্জের এক নারী নেত্রী বলেন, দেশের মানুষ জাতীয় পার্টিকে চায়, লাঙ্গলকে চায়। কিন্তু এখন যেভাবে চলছে তাতে শুধু কেন্দ্রীয় নেতা থাকবে, সমর্থক থাকবে না।

ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল মামুন বলেন, আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ষোঘণা দিয়েছেন সামনের জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবেন। আমরা সেভাবেই নিজেদের ঐক্যবদ্ধ করছি, প্রস্তুতি নিচ্ছি। মানুষ জাতীয় পার্টিকে নতুন আঙ্গিকে দেখতে চায়। তাই আমাদের ছাত্র সমাজের ৮৮ ইউনিট আছে, আমরা সেই আঙ্গিকে নিজেদের সাজাচ্ছি।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কারো সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে না। জাতীয় পার্টি ৩০০ আসনে মনোনয়ন দিয়ে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। এজন্য অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ চায়। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা করা, সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরা- বিরোধী দল হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এটাই আমাদের দলের রাজনীতি। কিন্তু এটা করলে সরকারি দল ভাবে- বিএনপির সঙ্গে যাব কিনা? আবার সরকারের পক্ষে কথা বললে, বিএনপি ভাবে আমরা সরকারের সঙ্গে যাব কিনা? আসলে আমরা কারো সঙ্গে যেতে চাই না। যাব না। স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই- জাতীয় পার্টি একটি আলাদা দল, তাদের একটি প্রতীক আছে। আমরা আগামীতে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেব। কারো পক্ষে-বিপক্ষে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ বলেছেন, তার দল তত্ত্বাবধায়ক সংবিধানের বাইরে যাবে না। আগামী নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হতে হবে। তবে এই প্রশ্নে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের অবস্থান অস্পষ্ট। মাঝে মাঝেই তার কণ্ঠে সরকারের কড়া সমালোচনাও শোনা যায়।