নিজস্ব প্রতিবেদক: চেয়ারম্যান শূন্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিএনপি’র অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে ব্যাপক গুঞ্জন। জেলা পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে এবার কাকে পদায়ন করবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

সূত্র জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদে অন্তত ১০ জন বিএনপি নেতা সক্রিয়ভাবে চেষ্টা ও তদবীর চালাচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, কেউ আবার দলের নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী নেতাদের মাধ্যমে নিজের পক্ষে সমর্থন তৈরির ও চেষ্টা করছেন।

পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবরণ, রাজনৈতিক নির্যাতন এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে। দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দলের দুঃসময়ে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় তৃণমূলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো নির্মাণ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও এ পদ অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আগ্রহও স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।

গত ১১ জুন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। এর আগে তাঁকেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা ছিল। সিডিএতে তাঁর নিয়োগের পর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

‘২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে দেশের অন্যান্য জেলা পরিষদের মতো চট্টগ্রাম জেলা পরিষদও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ সময় চেয়ারম্যান না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং জনপ্রতিনিধিত্বের বিষয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

চেয়ারম্যান পদে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন- দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গুনীয়া কলেজের সাবেক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া(রেলের প্রথম শ্রেণীর বগিতে সিগারেট ফুকানো ও রেলকর্মীদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িত সামাজিক যোগাযোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ইদ্রিস), সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী, উত্তর জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী, ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার, লায়ন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা প্রমুখ।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের আমলে গুমের শিকার হওয়া সাতকানিয়ার মাটি ও মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন। জেলা প্রশাসক পদে তার নাম ঘুরেফিরে আসায় বিষয়টি এখন জেলা ও উপজেলা রাজনীতির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জেলা পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা পরিষদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত পরিষদ না থাকায় দায়সারাভাবে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

জানা যায়, শিক্ষক বাবার সন্তান হিসেবে বাবার লক্ষ্য ছিল পড়ালেখা শিখে মহিউদ্দিন বড় কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে জীবন অতিবাহিত করবে। কিন্তু ছাত্র জীবন থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী মন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেকে যুক্ত করেছেন রাজনীতিতে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। পড়ালেখা শেষে বাবার কথামত যোগদান করেন একটি বেসরকারি কলেজে। সেখানেও বেশিদিন থিতু হননি। কয়েক বছরের মাথায় রাজনীতির টানে ছেড়ে আসেন চাকরি। পরে নিজেকে ব্যবসায় জড়ালেও সেখানেও সময় দিতে পারেননি।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাকর্মিরা জানান, সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি থাকাকালীন সময়ে তাঁর হাত ধরে অনেকেই আখের গুছালেও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কলঙ্কের লেপন করতে চাননি তিনি। রাজনীতিই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। সব শেষে সাতকানিয়া থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে মাথা গোজার একমাত্র ঠাঁই; ফ্ল্যাটটিও বিক্রি দেন। পরে ঠাঁই হয় ভাড়া বাসায়, এখনও থাকছেন একই বাসায়।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর তার ওপর জারি করা হয় অঘোষিত রেড এলার্ট। ঢাকা থেকে সে সময়ে সরকারের বিশেষ বাহিনী তাকে আটক করে গুম করে। কয়েকদিন তাঁর কোনো খোঁজখবরও ছিল না।

অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম মাস্টার আব্দুল ওয়াজেদ পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতক পাসের পর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত অবস্থা থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির একজন তৃনমূল কর্মী হিসেবে বিভিন্ন ইউনিট নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পড়ালেখা শেষ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজে অধ্যাপনা পেশায় যোগদান করেন। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলায় বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

বিবাহিত জীবনে শেখ মো. মহিউদ্দিন চার সন্তানের জনক। তার প্রথম কন্যা তাহেরা আতিয়া ফারিহা বর্তমানে ডিএনএস ইউনিভার্সিটি অফ ইন্দোনেশিয়া থেকে পিএইচডি গবেষণায় আছেন। দ্বিতীয় কন্যা তাহেরা তাহরিন ছোবা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব চট্টগ্রামে অধ্যয়নরত। তৃতীয় কন্যা তাহেরা তাসকিন সামান্তা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যয়নরত। একমাত্র পুত্র সন্তান শেখ আবদুল্লাহ ওহাব হেফজ বিভাগে পড়াশোনায় রয়েছে।

তিনি ৮০ দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ১/১১ এর দুঃসময়ে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দান ও একাধিকবার হামলা-মামলা কারাবরণসহ সর্বশেষ বিগত ১৭ বছরে হাসিনা বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন হামলা- মামলা ও গুমের শিকার হন। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ কাউন্সিলে নির্বাচিত হন সাধারণ সম্পাদক। তিনি পর্যায়ক্রমে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি ২০১৮ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া লোহাগাড়া) আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। পরে জোটের সমীকরণের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জোটের প্রার্থীর পক্ষে শেখ মহিউদ্দিন প্রার্থিতা প্রত‍্যাহার করেন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের নির্দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের নির্বাচন সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দলীয় নেতা-কর্মীদের মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সময় মাঠে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। মূলত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হওয়ায় তৃণমূল রাজনীতির মাঠে তার অবস্থান নেতাকর্মিদের কাছে পরিষ্কার।

বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় যে সব নেতা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন তাদের মধ্যে শেখ মহিউদ্দিন অন্যতম। ১/১১ এর সময় মাঠে-ময়দানে যখন কেউ রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে সাহস করেনি, সে সময় নিজস্ব পরিবহনে করে শুধু মাত্র সাত জন নেতাকর্মী নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ২৬তম শাহাদাত বার্ষিকীতে রাঙ্গুনিয়ায় জিয়া নগরের জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে গিয়ে তখনকার প্রশাসন ও বিভিন্ন এজেন্সির বাধার মুখেও পিছু হঠেননি। শত বাধা ও গ্রেপ্তারের হুমকি উপেক্ষা করে জিয়ার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মহিউদ্দিন। মহিউদ্দিন তুলনামূলকভাবে সমঝোতা ও সমন্বয়কারী চরিত্রের নেতা হিসেবে পরিচিত। ফলে দলের মধ্যে সবার নিকট তার গ্রহনযোগ্যতা সমধিক। তাই চট্টগ্রামের জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকে তিনি আরো শক্তিশালী করে তুলতে পারবেন বলে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান , বিএনপি জেলা প্রশাসক পদে দলীয় নেতাদের বসালেও সেখানে প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষমতা বেশি আছে এমন ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যার হাত দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে। এজন‍্য অধ‍্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিনে বিকল্প নেই।

সাতকানিয়ার বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম টেরিবাজারের ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন রাশেদ ও তৃণমূল কর্মী মো. ফেরদৌস জানান, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, বাজার অবকাঠামো সংস্কার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। একজন দক্ষ প্রশাসক হলে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এক্ষেত্রে বিএনপি নেতা শেখ মহিউদ্দিন গ্রহনযোগ্য ও নির্লোভ ব্যক্তি। তাকে প্রশাসক পদে বসালে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়নের পাশাপাশি স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জসিম উদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, আগাগোড়া দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রাণ বলা চলে শেখ মহিউদ্দিনকে। তার মত ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দিলে উন্নয়নের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল‍্যায়ন করবেন তিনি।

অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন বলেন, সারা জীবন জাতীয়তাবাদের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি পথ-প্রান্তরে। আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম সম্মুখ সারিতে, ছিলাম দলের দুঃসময়ে। কোন দিন হালুয়া-রুটির চিন্তা না করে অনেক ত্যাগ, মামলা, হামলা, গুম ও নির্যাতন সহ্য করে এখনও দলীয় নির্দেশ পালনে এক মুহূর্তের জন্যও পিছ পা হইনি।

তিনি বলেন, দল যদি মনে করেন আমার মত একজন ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে বসালে সাধারণ মানুষের উপকার হবে, তাতে আমার আপত্তি নাই। কারণ আমার রাজনীতি সব সময় ছিল জনসম্পৃক্ত ও গণমুখী। বয়সে সত্তরের কোটায় এসে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদনের মাধ্যমে জীবনের স্বার্থকতা খুঁজে পাব।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার। তাই নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জন গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, অনেকেই চেয়ারম্যান হ’তে আগ্রহী এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগও করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

অন্যদিকে, চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশী দক্ষিণ এর এক বিএনপি নেতা বলেন, দলের কঠিন সময়ে যারা রাজপথে ছিলেন এবং জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তাঁদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। কোনো সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

জেলা পরিষদের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনাগোনা ও যোগাযোগ বেড়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গন এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। চেয়ারম্যান নিয়োগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলেও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: চেয়ারম্যান শূন্য চট্টগ্রাম জেলা পরিষদে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিএনপি’র অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে ব্যাপক গুঞ্জন। জেলা পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে এবার কাকে পদায়ন করবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।

সূত্র জানা গেছে, চেয়ারম্যান পদে অন্তত ১০ জন বিএনপি নেতা সক্রিয়ভাবে চেষ্টা ও তদবীর চালাচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, কেউ আবার দলের নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী নেতাদের মাধ্যমে নিজের পক্ষে সমর্থন তৈরির ও চেষ্টা করছেন।

পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবরণ, রাজনৈতিক নির্যাতন এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে। দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দলের দুঃসময়ে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় তৃণমূলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি শুধু একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো নির্মাণ, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও এ পদ অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আগ্রহও স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।

গত ১১ জুন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। এর আগে তাঁকেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা ছিল। সিডিএতে তাঁর নিয়োগের পর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নতুন মুখ নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

‘২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে দেশের অন্যান্য জেলা পরিষদের মতো চট্টগ্রাম জেলা পরিষদও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ সময় চেয়ারম্যান না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং জনপ্রতিনিধিত্বের বিষয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

চেয়ারম্যান পদে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন- দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাঙ্গুনীয়া কলেজের সাবেক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া(রেলের প্রথম শ্রেণীর বগিতে সিগারেট ফুকানো ও রেলকর্মীদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িত সামাজিক যোগাযোগযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ইদ্রিস), সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ইফতেখার হোসেন চৌধুরী, উত্তর জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী, ব্যারিস্টার তারেক আকবর খোন্দকার, লায়ন মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা প্রমুখ।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের আমলে গুমের শিকার হওয়া সাতকানিয়ার মাটি ও মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন। জেলা প্রশাসক পদে তার নাম ঘুরেফিরে আসায় বিষয়টি এখন জেলা ও উপজেলা রাজনীতির কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জেলা পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জেলা পরিষদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত পরিষদ না থাকায় দায়সারাভাবে এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

জানা যায়, শিক্ষক বাবার সন্তান হিসেবে বাবার লক্ষ্য ছিল পড়ালেখা শিখে মহিউদ্দিন বড় কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে জীবন অতিবাহিত করবে। কিন্তু ছাত্র জীবন থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী মন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেকে যুক্ত করেছেন রাজনীতিতে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। পড়ালেখা শেষে বাবার কথামত যোগদান করেন একটি বেসরকারি কলেজে। সেখানেও বেশিদিন থিতু হননি। কয়েক বছরের মাথায় রাজনীতির টানে ছেড়ে আসেন চাকরি। পরে নিজেকে ব্যবসায় জড়ালেও সেখানেও সময় দিতে পারেননি।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাকর্মিরা জানান, সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি থাকাকালীন সময়ে তাঁর হাত ধরে অনেকেই আখের গুছালেও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কলঙ্কের লেপন করতে চাননি তিনি। রাজনীতিই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। সব শেষে সাতকানিয়া থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে মাথা গোজার একমাত্র ঠাঁই; ফ্ল্যাটটিও বিক্রি দেন। পরে ঠাঁই হয় ভাড়া বাসায়, এখনও থাকছেন একই বাসায়।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পর তার ওপর জারি করা হয় অঘোষিত রেড এলার্ট। ঢাকা থেকে সে সময়ে সরকারের বিশেষ বাহিনী তাকে আটক করে গুম করে। কয়েকদিন তাঁর কোনো খোঁজখবরও ছিল না।

অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম মাস্টার আব্দুল ওয়াজেদ পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। ছয় ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতক পাসের পর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

উচ্চ মাধ্যমিকে অধ্যয়নরত অবস্থা থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে শুরু করে বিএনপির একজন তৃনমূল কর্মী হিসেবে বিভিন্ন ইউনিট নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি পড়ালেখা শেষ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজে অধ্যাপনা পেশায় যোগদান করেন। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলায় বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

বিবাহিত জীবনে শেখ মো. মহিউদ্দিন চার সন্তানের জনক। তার প্রথম কন্যা তাহেরা আতিয়া ফারিহা বর্তমানে ডিএনএস ইউনিভার্সিটি অফ ইন্দোনেশিয়া থেকে পিএইচডি গবেষণায় আছেন। দ্বিতীয় কন্যা তাহেরা তাহরিন ছোবা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব চট্টগ্রামে অধ্যয়নরত। তৃতীয় কন্যা তাহেরা তাসকিন সামান্তা বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যয়নরত। একমাত্র পুত্র সন্তান শেখ আবদুল্লাহ ওহাব হেফজ বিভাগে পড়াশোনায় রয়েছে।

তিনি ৮০ দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ১/১১ এর দুঃসময়ে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দান ও একাধিকবার হামলা-মামলা কারাবরণসহ সর্বশেষ বিগত ১৭ বছরে হাসিনা বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বিভিন্ন হামলা- মামলা ও গুমের শিকার হন। তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ কাউন্সিলে নির্বাচিত হন সাধারণ সম্পাদক। তিনি পর্যায়ক্রমে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও তিনি ২০১৮ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া লোহাগাড়া) আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। পরে জোটের সমীকরণের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জোটের প্রার্থীর পক্ষে শেখ মহিউদ্দিন প্রার্থিতা প্রত‍্যাহার করেন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের নির্দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের নির্বাচন সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দলীয় নেতা-কর্মীদের মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সময় মাঠে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। মূলত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হওয়ায় তৃণমূল রাজনীতির মাঠে তার অবস্থান নেতাকর্মিদের কাছে পরিষ্কার।

বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় যে সব নেতা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন তাদের মধ্যে শেখ মহিউদ্দিন অন্যতম। ১/১১ এর সময় মাঠে-ময়দানে যখন কেউ রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে সাহস করেনি, সে সময় নিজস্ব পরিবহনে করে শুধু মাত্র সাত জন নেতাকর্মী নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ২৬তম শাহাদাত বার্ষিকীতে রাঙ্গুনিয়ায় জিয়া নগরের জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে গিয়ে তখনকার প্রশাসন ও বিভিন্ন এজেন্সির বাধার মুখেও পিছু হঠেননি। শত বাধা ও গ্রেপ্তারের হুমকি উপেক্ষা করে জিয়ার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান মহিউদ্দিন। মহিউদ্দিন তুলনামূলকভাবে সমঝোতা ও সমন্বয়কারী চরিত্রের নেতা হিসেবে পরিচিত। ফলে দলের মধ্যে সবার নিকট তার গ্রহনযোগ্যতা সমধিক। তাই চট্টগ্রামের জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হলে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোকে তিনি আরো শক্তিশালী করে তুলতে পারবেন বলে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান , বিএনপি জেলা প্রশাসক পদে দলীয় নেতাদের বসালেও সেখানে প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষমতা বেশি আছে এমন ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যার হাত দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে। এজন‍্য অধ‍্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিনে বিকল্প নেই।

সাতকানিয়ার বাসিন্দা ও চট্টগ্রাম টেরিবাজারের ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন রাশেদ ও তৃণমূল কর্মী মো. ফেরদৌস জানান, গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন, বাজার অবকাঠামো সংস্কার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। একজন দক্ষ প্রশাসক হলে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এক্ষেত্রে বিএনপি নেতা শেখ মহিউদ্দিন গ্রহনযোগ্য ও নির্লোভ ব্যক্তি। তাকে প্রশাসক পদে বসালে অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়নের পাশাপাশি স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জসিম উদ্দিন আবদুল্লাহ বলেন, আগাগোড়া দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রাণ বলা চলে শেখ মহিউদ্দিনকে। তার মত ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব দিলে উন্নয়নের পাশাপাশি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল‍্যায়ন করবেন তিনি।

অধ্যাপক শেখ মো. মহিউদ্দিন বলেন, সারা জীবন জাতীয়তাবাদের ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি পথ-প্রান্তরে। আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম সম্মুখ সারিতে, ছিলাম দলের দুঃসময়ে। কোন দিন হালুয়া-রুটির চিন্তা না করে অনেক ত্যাগ, মামলা, হামলা, গুম ও নির্যাতন সহ্য করে এখনও দলীয় নির্দেশ পালনে এক মুহূর্তের জন্যও পিছ পা হইনি।

তিনি বলেন, দল যদি মনে করেন আমার মত একজন ব্যক্তিকে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে বসালে সাধারণ মানুষের উপকার হবে, তাতে আমার আপত্তি নাই। কারণ আমার রাজনীতি সব সময় ছিল জনসম্পৃক্ত ও গণমুখী। বয়সে সত্তরের কোটায় এসে মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদনের মাধ্যমে জীবনের স্বার্থকতা খুঁজে পাব।

দলীয় সূত্রের ভাষ্য, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার। তাই নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জন গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, অনেকেই চেয়ারম্যান হ’তে আগ্রহী এবং বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগও করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

অন্যদিকে, চেয়ারম্যান পদ প্রত্যাশী দক্ষিণ এর এক বিএনপি নেতা বলেন, দলের কঠিন সময়ে যারা রাজপথে ছিলেন এবং জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তাঁদের মূল্যায়ন হওয়া উচিত। কোনো সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

জেলা পরিষদের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনাগোনা ও যোগাযোগ বেড়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গন এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। চেয়ারম্যান নিয়োগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলেও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।