প্রেস বিজ্ঞপ্তি: অগণতান্ত্রিক সরকারি দলের নেতাদের লুটপাটের কারণে আজ দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে। তেল-গ্যাস পানি বিদ্যুৎ সরকার কর্তৃক ইনকাম ট্যাক্স বৃদ্ধি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্য কমানোর দাবিতে ১০ দফার আলোকে ২৭ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি কর্তৃক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল শনিবার(১১ মার্চ) সকাল ১১টায় শাহ আমানত সেতু সংযোগ সংলগ্ন চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ আল নোমান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এ সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহনে ভাড়া বেড়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম বেড়েই চলেছে। এতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনে প্রভাব পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে এবং ‘বর্তমান সংসদ বিলুপ্ত করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন’ ও খালেদা জিয়ার ‘নিঃশর্ত মুক্তি’সহ কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলে শুধু আপনি কথা বলবেন, অন্য কাউকে কথা বলার সুযোগ দেবেন না, জনসভা করতে দেবেন না, এটা তো হবে না। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমরা এ মাটির সন্তান। আমাদের নেতা স্বাধীনতার সময় রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন। আমরাও রনাঙ্গনের যোদ্ধা ছিলেন। তাঁর উত্তরাধিকার আজকের এ জাতীয়তাবাদী দলের নেতা-কর্মীরা। কাজেই আমাদের নেতা-কর্মীদের মামলা, হামলা, গুমের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা এই সরকারের পতন চাই। আমরা সরকার বিলুপ্তি চাই, এখনও সময় আছে পদত্যাগ করুন। নির্দলীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে অসংখ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা ও বিভিন্ন থানার নেতৃবৃন্দ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মহসিন খান তরুন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের প্রচার সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন, এড. মনজু, বোয়ালখালী উপজেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক মো. সেলিম, সদস্যসচিব আকরাম হোসেন দুলাল, বোয়ালখালী পৌরসভার আহ্বায়ক মো. হারুন ড্রাইভার, সদস্যসচিব জেবল হোসেন, দোহাজারী পৌরসভার সভাপতি আব্দুস সাত্তার আলী, চন্দনাইশ উপজেলার সভাপতি মো. সোলায়মান ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুরিদুল আলম মুরাদ, সাতকানিয়া উপজেলার সভাপতি আবদুল আলম ড্রাইভার, লোহাগাড়া উপজেলার সভাপতি এস এম জাকারিয়া, সাধারণ সম্পাদক বেলাল কোং, বাঁশখালী উপজেলা আব্দুল মান্নান, কর্ণফুলী উপজেলার সভাপতি তৈয়বুল আলম মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক মনির আহমদ, আনোয়ারা উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা আরো বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছেন। তারা আইন করেছে ভোট চুরির সাথে যারা জড়িত তাদের রক্ষা করার জন্য। কিন্তু এটা তো বাইরে থেকে আসবে ভেতর থেকে তাদের বিচার হবে অচিরেই। গত ১৪ বছরের গুম, খুনের যে মামলা এগুলোকে একত্রিত করলে আওয়ামীলীগের কোনো আসনের মধ্যে একটি আসনেও প্রতিদ্বন্দিতার করার প্রার্থী পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। সবাইকে জেলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। বিচারের আওতায় আসতে হবে সবাইকে।
আওয়ামী অবৈধ সরকারের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, অচিরেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে নিজের সম্মান নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যান। জনগণ যখন রাজপথে নামতে শুরু করে সরকারের গদি আর রক্ষা হবে না।



