ঢাকা ব্যুরো: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৭ তম জন্মদিন আজ (২৬ জানুয়ারি)। ১৯৪৮ সালের এই দিনে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেন তিনি। ভোরে ফজরের আযানে ঘুম ভাঙে মিজা ফখরুলের। নামাজ পড়ে বড় মেয়ে মির্জা সামারুহের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। মেয়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যে দিয়েই জন্মদিনের শুরু হয় বিএনপির এই নেতার।
আপনাকে জন্মে দিনের শুভেচ্ছা , অনেক দেয়া আপনার জন্য বলতেই হেসে ফেলেন মিজা ফখরুল। ভোরের কাগজকে তিনি বলেন, আজকে এই যে শুভেচ্ছা জানাতে ভোরবেলা টেলিফোন করেছেন এটা আমার অনেক বড় পাওয়া। একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তি হিসেবে নয় সাধারণ মানুষ হিসেবে এই ভালোবাসা অসামান্য আমার জন্য।
জীবন চলার অনুভূতিটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৭৬ বছর থেকে ৭৭ বছরে পা দিলাম। বলতে পারেন একটা লং জার্নি। জীবনের এই লম্বা সময়ে বহু পরিবর্তন দেখেছি, দেশের পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। বহু জীবন দেখেছি। অনুপ্রাণিত হয়েছি। বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে পেয়েছি। জীবনকে সুন্দর মনে হয়েছে। যদিও দেশটা আগের মতো নেই। মানুষেরা ভালো নেই। তবুও মনে হয়েছে, এই ৭৭ বছরে জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এই সংগ্রামী মানুষ কখনো পরাজিত হয় নাই। আশার আলো দেখি। বিশ্বাস করি, পরিবর্তন আসবেই। মানুষ ভালো থাকবে। দোয়া রাখবেন আমার জন্য।
বিএনপির মহাসচিব জানান, আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেবও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়াকে থেকে টেলিফোন করেছে, মেয়ে, তার জামাই হ্যাপি বার্থে ডে বলল। প্রতিবছরই বন্ধু, স্বজন, নেতা-কর্মীরা ছাড়াও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান, এভাবেই দিনটা কেটে যায়।
ব্যাক্তিগত জীবনে দুই মেয়েকে নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাহাত আরা বেগমের সংসার। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ায় স্বামী-সন্তা নিয়ে আছেন। সেখানে সিডনির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরিয়াল ফেলোশিপ নিয়ে এখন ক্যানবেরার ফেডারেল মেডিকেল কাউন্সিলের সিনিয়র সাইন্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। আর ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকার ধানমন্ডির ‘স্যানি ডেল’ স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
ছাত্রজীবনে থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে শিক্ষাগতা পেশায় যোগ দেন। তিনি ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকুরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌর সভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হন। ছাত্র জীবনের বাম রাজনীতি থেকে মির্জা ফখরুলের জাতীয় রাজনীতিতে হাতেকড়ি মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাপে। সেখান থেকেই তার বিএনপিতে আসা।
মির্জা ফখরুলের বিএনপির রাজনীতির শুরুটা একেবারে তৃণমূল থেকে। প্রথমে ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি দিয়ে। পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে মির্জা ফখরুল সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ২০১১ সাল থেকে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পুর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচিত হন তিনি।
বিএনপির শীর্ষ পর্য়ায়ের নেতৃত্বে আসার আগে তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহসভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন দীর্ঘদিন।
ঠাকুরগাঁও আসনে বিএনপি থেকে দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি এবং এবং প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা হিয়ার সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে উপ প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিবও ছিলেন।
২০১৮ সালে একাদশ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি শপথ গ্রহণ না করায় ওই আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির জিএম সিরাজ নির্বাচিত হন।



