প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ১৯৮৮ সালের ২৪ শে জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার লালদিঘির জনসভায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড তথা চট্টগ্রাম গণহত্যার শহীদদের স্মরণে আজ সোমবার(২৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম আদালত ভবন গণহত্যা স্মৃতিসৌধ পাদদেশে শহীদদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম গণহত্যা স্মৃতি পরিষদের চেয়ারম্যান ও মামলার বাদী এডভোকেট শহীদুল হুদার সন্তান মোহাম্মদ মছরুর হোসেনের সভাপতিত্বে এবং পরিষদের মহাসচিব সাবেক ছাত্রনেতা, রাজনীতিবিদ মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, সাংবাদিক মোফাচ্ছেল চৌধুরী চৌধুরী মানিক শাহ ও যুগ্ম মহাসচিব এস এম সরোয়ার জাহানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, এদেশের মানুষকে সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হয়েছে। সকল বৈষম্য পেছনে ফেলে এ দেশের মানুষ তার জনপদকে রক্ষা করেছে। বাঙালি আদর্শকে সমুন্নত রেখেছে। কিছু সংখ্যাহীন স্বৈরাচারী শাসক এদেশের মুক্তিযুদ্ধের ফলিত সত্যের ইতিহাসকে চিরতরে স্তব্ধ করতে চেয়েছে ১৯৭৫ সালে। তারই ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্র জলপাই রঙের শাসনে নিয়ন্ত্রিত কাফনে জীবন্ত বন্দী ছিল অনেক বছর। ব্যহত হয় গণতন্ত্র। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য জন্ম হয় নূর হোসেন, ডাঃ মিলনের মত কয়েকজন গণতন্ত্র রক্ষা কর্মীর। তার আগে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি মাঠে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার গণতন্ত্র রক্ষার সমাবেশে তৎকালীন স্বৈরশাসকের পুলিশ কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদার নির্দেশে পুলিশি গুলিতে নিহত হয় অসংখ্য তাজা প্রাণ। যারা গণতন্ত্রের সোনালী ভোরের প্রত্যাশায় ছিল দুর্নিবার। যাদের রক্তে গণতন্ত্র আজ অলাতশোভা। নিহত হয়েছে নূর হোসেন, মো. হাসান মুরাদ, মহিউদ্দিন শামীম, স্বপন কুমার বিশ্বাস, এথেনটি গোমেজ কিশোর, স্বপন চৌধুরী, অজিত সরকার, রমেশ বৈদ্য, বদরুল আলম, ডি. কে চৌধুরী, সাজ্জাদ হ্যাসেন, আব্দুল মান্নান, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, বি.কে. দাশ, পংকজ বৈদ্য, বাহার উদ্দিন, চান্দ মিয়া, সময় দত্ত, শাহাদত সহ নাম না জানা আরো অনেকে।
৮৮’র ২৪ জানুয়ারি সমগ্র বিশ্বে আজ ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম গণহত্যা দিবস হিসেবে পরিগণিত। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি অকুতোভয় আইনজীবী চট্টলবীর বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মো. শহীদুল হুদাকে। তিনি একমাত্র আইনজীবী যিনি তৎকালীন স্বৈরশাসকের রাজদণ্ড উপেক্ষা করে হত্যাকারীদের আইনী শাস্তির জন্য চট্টগ্রাম আদালতে গণহত্যা মামলা দায়ের করেন। এটি আজ ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম গণহত্যা মামলা হিসেবে পরিচিত।
অনুষ্ঠানে গণহত্যার স্মৃতিচারণ এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আওয়ামীলীগ নেত্রী এড. রেহেনা বেগম রানু, যুব মহিলালীগের আহ্বায়ক অধ্যাপক সায়রা বানু রৌশনি, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গের চেয়ারম্যান ও প্রত্যক্ষদর্শী জসিম উদ্দিন চৌধুরী, আব্দুল হালিম দোভাষ, শাহিনুর আক্তার, শামীম আরা লিপি, জয়া চৌধুরী, সোমা মুৎসুদ্দি, আশরাফ উদ্দিন শাহীন, মোঃ আব্দুর রউফ, এস এম সোলায়মান সবুজ, মঞ্জুরুল আলম, সাজ্জাদুল ইসলাম শানু, হিজবুল্লাহ আল হাদি, ফাতেমা আক্তার, সালমা আক্তার শিলা, মোঃ আলী চৌধুরী প্রমূখ।




