প্রেস বিজ্ঞপ্তি: সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রত্যাখ্যান এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগিয়ে তুলতে সঠিক ইতিহাসের চর্চার দাবি করেছে খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর। শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মরণে খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি থেকে এই দাবি জানানো হয়। আজ বৃহস্পতিবার(১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় নগরীর বৌদ্ধ মন্দিরস্থ খেলাঘর কার্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। এর আগে সকালে চট্টগ্রামের অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালে বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রাকালে ১০ ডিসেম্বর থেকে আত্মসমর্পণের মুহূর্ত পর্যন্ত হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর আলবদর-আলশামস বাহিনী দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবী, লেখক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ নানা পেশাজীবীদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। কেবল ৭১’র ডিসেম্বর নয় বরং মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে ৯ মাস দেশের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধের শেষ মুহুর্তে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন ভেবে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করতে চূড়ান্ত আঘাত হানে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে সব বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী হত্যার বিচার আজো হয়নি। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকাও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ত্যাগের যথাযথ মর্যাদাদান ও তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে এই তালিকা পূর্ণাঙ্গ করা প্রয়োজন।
নাট্যজন মুনির হেলাল বলেন, গণতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সমাজতন্ত্র- এই চারটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, প্রকৃত চেতনা। স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদের আদর্শ আজো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।
খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি নাট্যজন মুনির হেলাল’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বসু’র সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রকৌশলী রথীন সেন, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আশীষ ধর, কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক রোজী সেন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-চুয়েট’র অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব, খেলাঘর মহানগর কমিটির উপদেষ্টা কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর, সহ-সভাপতি দেবাশীষ রায়, এড. আনোয়ার হোসেন আজাদ, মহিউদ্দিন শাহ, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য প্রার্থ প্রতীম নাহা, শরণ বড়ুয়া, ইসরাত সুলতানা সুইটি, জয়ন্ত রাহা, প্রীতম দাশ, পদ্মকুঁড়ি খেলাঘর আসরের সহ-সভাপতি সুচিত্র গুহ টুম্পা, উষার আলো খেলাঘর আসরের সভাপতি অধ্যাপক জোবেদা খানম, নীলাম্বরী খেলাঘর আসরের সভাপতি আবু হাসনাত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রবি শংকর সেন নিশান, কপোতমালা খেলাঘর আসরের জুলফিকার আলী মুন্না, জুঁই খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক লিটন শীল, ঝিনুককুঁড়ি খেলাঘর আসরের সহ-সভাপতি বাবলু দাশ, জলসিঁড়ি খেলাঘর আসরের আহ্বায়ক দীপঙ্কর রুদ্র, বালুকাবেলা খেলাঘর আসরের সভাপতি জাহেদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ডা. সুমন তালুকদার, বৈশাখী খেলাঘর আসরের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হাকিম ইমরান, স্বর্ণালী খেলাঘর আসরের মো. রুবেল প্রমূখ।




