আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট সেমেরুর জ্বালামুখ দিয়ে উত্তপ্ত ছাই বেরিয়ে আকাশ ছেঁয়ে যাচ্ছে। দেশটির প্রধান দ্বীপ জাভায় আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যার অর্থই হলো পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। যেকোনো সময় উত্তপ্ত লাভা উদিগরণ শুরু হতে পারে আশঙ্কায় মাউন্ট সেমেরুর আশপাশের গ্রামগুলো থেকে প্রায় ২ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়াও জনগণকে পর্বতটি থেকে অন্তত আট কিলোমিটার দূরত্ব বজায় রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে। সতর্কতা তিন থেকে চার মাত্রায় উন্নিত করার অর্থ অগ্ন্যুৎপাতে লোকজনের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। মাউন্ট সেমেরুতে এর আগের বার উদ্গীরণের কারণে একটি সেতু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। জ্বালামুখ থেকে বেরিয়ে আসা ছাই বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে আশপাশের গ্রামগুলো কাদায় ঢেকে দিচ্ছে। অন্তত ছয়টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান কর্মকর্তারা।
সেখানকার ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আকাশ কালো হয়ে গেছে। বিপুল পরিমাণ ছাইয়ের মেঘ সূর্য ঢেকে দিয়েছে। ইস্ট জাভা প্রদেশে অবস্থিত মাউন্ট সেমেরু থেকে স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ২টা ৪৬ মিনিট থেকে উদ্গীরণ শুরু হয়। প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের ‘রিং অব ফায়ার’ এ ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান। যেখানে টেকটোনিক প্লেটগুলো ক্রমাগত ঘঁষা খাচ্ছে। ফলে দেশটিতে নিয়মিত আগ্নেয়গিরি থেকে উদ্গীরণ হতে দেখা যায়। ভূমিকম্পও খুব নিয়মিত ঘটনা। সেমেরু পর্বতটি ‘দ্য গ্রেট মাউন্টেন’ নামেও পরিচিত। এটা জাভার সবচেয়ে উঁচু এবং সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির একটি। এটি ঠিক এক বছর আগে সর্বশেষ সক্রিয় হয়ে উঠেছিল, সে সময় অন্তত ৫০ জন নিহত হন। এবার আগ্নেয়গিরিটি সক্রিয় হওয়ার আগে জাভায় কয়েক দফা ভূমিকম্প হয়। সর্বশেষ গত মাসে ভূমিকম্পে ৩০০-র বেশি মানুষ নিহত হন।




