দি ক্রাইম ডেস্ক: কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সোহেল জাহান চৌধুরীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ভোর ৬টার দিকে তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেনাবাহিনীর ইসলামাবাদ ক্যাম্প ইনচার্জ মেজর ইনতিসার সালিমের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে সোহেল জাহান চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এটিএম সিফাতুল মাজদার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সেনাবাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলা ও জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট মামলাও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকার পতনের পরও নানা বিতর্কের মধ্যেই তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তবে বিগত বছরের শুরুতে অনুপস্থিতির অভিযোগ তুলে তৎকালীন ইউএনও তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করলে তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে চলে যান।
সম্প্রতি আবার প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেন সোহেল জাহান চৌধুরী। নিজের বাড়িতে উঠান বৈঠক আয়োজন করে তিনি কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের পক্ষে ধানের শীষে ভোট চান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার মাঝেও বিষয়টি তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিনে তিনি বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঈদগাঁও পালপাড়াসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ধানের শীষের পক্ষে প্রকাশ্যে ভোট ক্যাম্পেইন শুরু করেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের অভিমত, গ্রেপ্তার এড়াতে এবং রাজনীতির মাঠে নতুনভাবে নিজেকে পুনর্বাসিত করতেই আলোচিত এই আওয়ামী লীগ নেতা হঠাৎ করে রাজনৈতিক খোলস পাল্টান। উপর মহলের সবুজ সংকেত পেয়ে বিএনপির পক্ষে মাঠে নামার মাধ্যমে শেষ রক্ষার চেষ্টা করেন তিনি। তবে এ বিষয়টি নিয়ে বিএনপির একটি অংশের মধ্যেও চাপা অসন্তোষ বিরাজ করছিল বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ সেনাবাহিনীর অভিযানের মধ্য দিয়ে সেই বিতর্কিত অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।




