প্রেস বিজ্ঞপ্তি: কর্ণফুলী থানধীন দক্ষিণ শাহমীরপুর দেয়াং পাহাড় শাক্যমুনি বিহারে গত ২১ অক্টোবর দুপুরে প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও অনুষ্ঠিত হলো দানরাজা দানোশ্রেষ্ঠ শুভ কঠিন চীবর দান। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার উপ-সংঘরাজ, সদ্ধর্ম বারিধি ত্রিপিটক বিশারদ শ্রীমৎ প্রিয়দর্শী মহাস্থবির।
প্রধান অতিথি ছিলেন উনাইনপুরা লংঙ্কারাম বিহারের অধ্যক্ষ বোধিমিত্র মহাস্থবির।
প্রধান সদ্ধর্মদেশক নাইনখাইন সন্তোষালয় বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জিনপ্রিয় মহাস্থবির বলেন, কঠিন চীবর দান বৌদ্ধ ধর্মের একটি ধর্মীয় আচার ও উৎসব। প্রবারণা পূর্ণিমা পালনের এক মাসের মধ্যে যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে এই উৎসবটি পালন করা হয়। এক সূর্যোদয় থেকে পরবর্তী সূর্যোদয় পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে সুতাকাটা, কাপড় বোনা, কাপড় সেলাই, ধোয়া, রং করা ও শুকানো- এই যাবতীয় কাজ শেষ করে ভিক্ষুদের দান করতে হয়।
তিনি বলেন, চীবর শব্দটির অর্থ হলো ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র। শতবর্ষের দান কিংবা পৃথিবীর সব দান একত্র করলে যে ফল, তা একখানি কঠিন চীবর দানের ১৬ ভাগের এক ভাগও নয়। প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে বছরে মাত্র একবার চীবর দান অনুষ্ঠান করা হয়। এদিন উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ গৃহীরা ভিক্ষুদের চীবর দান করেন। গাছের গুঁড়ি, শিকড়, ছাল, শুকনো পাতা, ফুল ও ফল- এই ছয়টি বিশেষ রঙে চীবরের রং নির্ধারিত। এই পোশাক বোনায় ব্যবহার করা হয় বেইন বা কাপড় বোনার বাঁশে তৈরি ফ্রেম। এ রকম বেইনে একসঙ্গে চারজন কাপড় বুনে থাকে। আগে ভিক্ষুরা ময়লা কাপড় পরিধান করতেন। এতে তাঁদের স্বাস্থ্যহানি ঘটার আশঙ্কা থাকত। ভিক্ষুদের নীরোগ ও সুস্থ দেহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই চীবর পরিধানের নিয়ম প্রবর্তন করা হয়।
অধ্যক্ষ শ্রীমৎ জিনপ্রিয় মহাস্থবির বলেন, প্রতিবছরে আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত বিনয় বিধান মতে যে ভিক্ষু বিহারে বর্ষবাস অধিষ্টান করেন সেই বিহারস্থানে একবার মাত্র কঠিন চীবর দান করা সম্ভব হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান ও সংগঠক জে.বি.এস আনন্দবোধি থের, ধর্মদেশক ছিলেন শাকপুরা প্রজ্ঞাবংশ বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ শীলপ্রিয় থের, ত্রিশরণ বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত বোধিরত্ন থের।
অনুষ্ঠান শুরুতে মঙ্গলাচরণ করেন ভদন্ত মৈত্রী বোধি ভিক্ষু।
অনুষ্ঠান উদ্বোধক ও সঞ্চালনায় ছিলেন দেয়াং পাহাড় শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত জয়সেন ভিক্ষু।
বিশেষ অতিথি ছিলেন নিপু কান্তি বড়ুয়া, অধ্যাপক অভিজিৎ বড়ুয়া মানু, প্রকৌশলী অভিজিৎ বড়ুয়া, দীপক বড়ুয়া।
সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন বাবু অজিত কুমার বড়ুয়া।
স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. রনধীন বড়ুয়া।
ভোর সকালে গ্রামের উদীয়মান তরুণ কর্মীসংঘের প্রভাত ফেরী হয়ে জাতীয় পতাকা ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। প্রথম পর্বে সকাল ৯ টায় প্রয়াত সংঘরাজ ও উপ-সংঘরাজ এবং ভূমিদাতাগণের স্মরণে অষ্টপরিষ্কারসহ সংঘদান অনুষ্ঠান ও মধ্যাহ্ন ভোজনের ব্যবস্থা করা হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন ভদন্ত শীলপ্রিয় মহাথের, ভদন্ত বিনয়ানন্দ ভিক্ষু, ভদন্ত শীলপাল স্থবির, ভদন্ত এম. প্রজ্ঞামিত্র থের, ভদন্ত করুণানন্দ থের, ভদন্ত আলোকমিত্র থের, ভদন্ত বুদ্ধসেবক স্থবির, অমরজিৎ বড়ুয়া প্রমুখ।




