সিলেট প্রতিনিধি: ম্যাচ শেষ হলো প্রায় ১৫ মিনিট। তখনও লঙ্কান ক্রিকেটার-সাপোর্ট স্টাফরা উল্লাস করে যাচ্ছেন। বারবার একে অপরের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিলেন। হয়তো তারাও বিশ্বাস করতে পারেননি এভাবে জিতে যাবেন। আসলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাই তো সহজ করে দিয়েছেন সবকিছু।

১২ বলে প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। সিঙ্গেলস-ডাবলসে সহজেই হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এক ওভারে যদি চার উইকেট যায়, তখন আর কিছুই করার থাকে না। ষষ্ঠ ওভারে বাংলাদেশ তিন রানে হারায় ৪ উইকেট। ম্যাচটি এখানেই শেষ হয় যায়। শেষ পর্যন্ত ৩ রানের পরাজয়।
সেমিফাইনালের ওঠার জন্য বাংলাদেশের ভাগ্য গেলো ঝুলে। থাইল্যান্ডের হার কামনা করতে হবে ভারতের বিপক্ষে। আর নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে হবে আরব আমিরাতের বিপক্ষে।

সিলেটে টস হেরে ব্যাটিং কর‍তে নেমে ১৮.১ ওভারে ৭ উইকেটে ৮৫ রান করে শ্রীলঙ্কা। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৃষ্টির পর ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৭ ওভারে ৪১ রান। বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ৩৭ রানে থামে।

তীরে এসে তরী ডোবার গল্প ছেলেদের ক্রিকেটে ভুরিভুরি। সেই তালিকায় নাম লেখালো এবার মেয়েরাও। সকালের মেঘলা আবহাওয়ায় সবকিছুই ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। টস জেতা, দুর্দান্ত শুরু সবকিছুই ছিল। ১৯তম ওভারে সেই বৃষ্টি যেন অপয়া হয়ে আসে।

ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারে আসে মাত্র ৩ রান। ওশাডা রনসিংহের করা দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় ওভারে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পিং হন মুর্শিদা খাতুন (৪ বলে ১)। ক্রিজে এসে শেষ বলে দারুণ সুইপে চার মেরে চাপ কমানোর চেষ্টা করেন ফারজানা হক, কিন্তু মুর্শিদার মতো ভুল করে বসেন তিনি। এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে একই কায়দায় স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। বিরক্ত হন নিগার সুলতানা জ্যোতি। হাত নেড়ে কিছু একটা বলতে দেখা যায় তাকে। ফারজানার ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ৬ রান।

এরপর খেলার হাল ধরেন জ্যোতি ও রুমানা। দুজনে সিঙ্গেল নিয়ে খেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে রুমানার আউটে শুরু হয় উইকেটের মিছিল। ইনোকা রনভিরার করা ওই ওভারে বাংলাদেশ মাত্র ৩ রানে ৪ উইকেটে হারায়। ফেরেন অধিনায়ক জ্যোতিও। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ১২ রান।

জ্যোতি থাকা পর্যন্ত সম্ভাবনার উঁকি দিচ্ছিলো, কিন্তু তার আউটে সব শেষ হয়ে যায়। রনভিরা ২ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

এর আগে বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। সকালে মেঘলা আবহাওয়ার সুবিধা নিয়ে বোলাররা দারুণ চাপে রেখেছিলেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের। দ্বিতীয় ওভারেই জাহানারার অসাধারণ ডেলিভারিতে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুকে বোল্ড করে শুরু।

হার্শিথা-আনুশকা দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তাদের থামিয়ে দেন সানজিদা আক্তার মেঘলা। ৩১ বলে ১৮ রান করেন হার্শিথা। ভেঙে যায় ২৫ রানের জুটি। পরের ওভারে আনুশকাকে (৮) ফিরিয়ে আরও চেপে ধরেন রুমানা।

৩১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর খেলা এগিয়ে নিতে থাকেন নিলাকশি ডি সিলভা। ১৮.১ ওভারে বৃষ্টি আসার আগ পর্যন্ত তিনি ক্রিজে ছিলেন। ৩১ বলে ২৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তার ব্যাটেই পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। এ ছাড়া ১১ রান আসে হাসিনি পেরেরা ও কাভিশা দিলহারির ব্যাটে।

বৃষ্টি না নামলে বাকি ১১ বলে হয়তো আরও কিছুটা রান করতো শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের জন্য ২০ ওভারে লক্ষ্যটা হতে পারতো ধরাছোঁয়ার মধ্যে। সেই হিসাব নিকাশ করেই ৭ ওভারে লক্ষ্য হয় ৪১ রান। ৪২ বলে এই রান করা কোনোভাবেই অসাধ্য সাধনের মতো কিছু নয়। কিন্তু ওই এক ওভারে যে বিপর্যয়, তার মাশুল দিতে হলো বাংলাদেশকে। মনের মধ্যে হাহাকার জেগে ওঠাই স্বাভাবিক- এভাবেও কি হারা যায়!

সিলেট প্রতিনিধি: ম্যাচ শেষ হলো প্রায় ১৫ মিনিট। তখনও লঙ্কান ক্রিকেটার-সাপোর্ট স্টাফরা উল্লাস করে যাচ্ছেন। বারবার একে অপরের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিলেন। হয়তো তারাও বিশ্বাস করতে পারেননি এভাবে জিতে যাবেন। আসলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরাই তো সহজ করে দিয়েছেন সবকিছু।

১২ বলে প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। সিঙ্গেলস-ডাবলসে সহজেই হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এক ওভারে যদি চার উইকেট যায়, তখন আর কিছুই করার থাকে না। ষষ্ঠ ওভারে বাংলাদেশ তিন রানে হারায় ৪ উইকেট। ম্যাচটি এখানেই শেষ হয় যায়। শেষ পর্যন্ত ৩ রানের পরাজয়।
সেমিফাইনালের ওঠার জন্য বাংলাদেশের ভাগ্য গেলো ঝুলে। থাইল্যান্ডের হার কামনা করতে হবে ভারতের বিপক্ষে। আর নিজেদের জয় নিশ্চিত করতে হবে আরব আমিরাতের বিপক্ষে।

সিলেটে টস হেরে ব্যাটিং কর‍তে নেমে ১৮.১ ওভারে ৭ উইকেটে ৮৫ রান করে শ্রীলঙ্কা। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৃষ্টির পর ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৭ ওভারে ৪১ রান। বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ৩৭ রানে থামে।

তীরে এসে তরী ডোবার গল্প ছেলেদের ক্রিকেটে ভুরিভুরি। সেই তালিকায় নাম লেখালো এবার মেয়েরাও। সকালের মেঘলা আবহাওয়ায় সবকিছুই ছিল বাংলাদেশের পক্ষে। টস জেতা, দুর্দান্ত শুরু সবকিছুই ছিল। ১৯তম ওভারে সেই বৃষ্টি যেন অপয়া হয়ে আসে।

ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারে আসে মাত্র ৩ রান। ওশাডা রনসিংহের করা দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় ওভারে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে স্টাম্পিং হন মুর্শিদা খাতুন (৪ বলে ১)। ক্রিজে এসে শেষ বলে দারুণ সুইপে চার মেরে চাপ কমানোর চেষ্টা করেন ফারজানা হক, কিন্তু মুর্শিদার মতো ভুল করে বসেন তিনি। এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে একই কায়দায় স্টাম্পিং হয়ে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। বিরক্ত হন নিগার সুলতানা জ্যোতি। হাত নেড়ে কিছু একটা বলতে দেখা যায় তাকে। ফারজানার ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ৬ রান।

এরপর খেলার হাল ধরেন জ্যোতি ও রুমানা। দুজনে সিঙ্গেল নিয়ে খেলার চেষ্টা করেন। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে রুমানার আউটে শুরু হয় উইকেটের মিছিল। ইনোকা রনভিরার করা ওই ওভারে বাংলাদেশ মাত্র ৩ রানে ৪ উইকেটে হারায়। ফেরেন অধিনায়ক জ্যোতিও। তার ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ১২ রান।

জ্যোতি থাকা পর্যন্ত সম্ভাবনার উঁকি দিচ্ছিলো, কিন্তু তার আউটে সব শেষ হয়ে যায়। রনভিরা ২ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

এর আগে বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। সকালে মেঘলা আবহাওয়ার সুবিধা নিয়ে বোলাররা দারুণ চাপে রেখেছিলেন লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের। দ্বিতীয় ওভারেই জাহানারার অসাধারণ ডেলিভারিতে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুকে বোল্ড করে শুরু।

হার্শিথা-আনুশকা দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তাদের থামিয়ে দেন সানজিদা আক্তার মেঘলা। ৩১ বলে ১৮ রান করেন হার্শিথা। ভেঙে যায় ২৫ রানের জুটি। পরের ওভারে আনুশকাকে (৮) ফিরিয়ে আরও চেপে ধরেন রুমানা।

৩১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর খেলা এগিয়ে নিতে থাকেন নিলাকশি ডি সিলভা। ১৮.১ ওভারে বৃষ্টি আসার আগ পর্যন্ত তিনি ক্রিজে ছিলেন। ৩১ বলে ২৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তার ব্যাটেই পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। এ ছাড়া ১১ রান আসে হাসিনি পেরেরা ও কাভিশা দিলহারির ব্যাটে।

বৃষ্টি না নামলে বাকি ১১ বলে হয়তো আরও কিছুটা রান করতো শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশের জন্য ২০ ওভারে লক্ষ্যটা হতে পারতো ধরাছোঁয়ার মধ্যে। সেই হিসাব নিকাশ করেই ৭ ওভারে লক্ষ্য হয় ৪১ রান। ৪২ বলে এই রান করা কোনোভাবেই অসাধ্য সাধনের মতো কিছু নয়। কিন্তু ওই এক ওভারে যে বিপর্যয়, তার মাশুল দিতে হলো বাংলাদেশকে। মনের মধ্যে হাহাকার জেগে ওঠাই স্বাভাবিক- এভাবেও কি হারা যায়!