ঢাকা ব্যুরো: ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ছিলেন সংগীতজগতের দিকপাল সাধক। তিনিই প্রথম বাঙালি, যিনি সর্বপ্রথম পাশ্চাত্যে এই উপমহাদেশের রাগসংগীতকে পরিচিত করেন। তিনি ছিলেন অতি উচ্চমাত্রার সঙ্গীতকলাকার। এই মহান সংগীতজ্ঞ’র ১৬১তম জন্মদিন আজ।

এই মহান সংগীত সাধক ১৮৬২ সালের ৮ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে বিখ্যাত এক সংগীতশিল্পী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সবদর হোসেন খাঁ ওরফে সদু খাঁও ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ। তিনি ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের মাইহারে মৃত্যুবরণ করেন।

আমাদের গর্ব যে, কিংবদন্তিতুল্য এই বিখ্যাত সংগীত সাধকের জন্ম বাংলাদেশে।

মাত্র ১০ বছর বয়সে সুরের সন্ধানে বাড়ি থেকে পালিয়ে তিনি জারি, সারি, বাউল, ভাটিয়ালি, কীর্তন, পাঁচালি প্রভৃতি গানের সঙ্গে পরিচিত হন। এরপর কলকাতা গিয়ে সংগীত সাধক গোপাল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য’র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সাত বছর সাধনার পর কণ্ঠসংগীত সাধনা ছেড়ে দিয়ে তিনি যন্ত্রসংগীত সাধনায় নিমগ্ন হন। তিনি বাঁশি, পিকলু, সেতার, ম্যাডোলিন, ব্যাঞ্জু ইত্যাদি দেশি-বিদেশি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখেন। সেই সঙ্গে তিনি পাশ্চাত্য রীতিতে এবং দেশিয় পদ্ধতিতে বেহালা শেখেন। শেখেন মৃদঙ্গ ও তবলা । এভাবে তিনি হয়ে ওঠেন সর্ববাদ্য বিশারদ।

তিনি তৎকালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার জমিদার জগৎ কিশোর আচার্যের আমন্ত্রণে তার দরবারে সংগীত পরিবেশন করতে গিয়ে সেখানে ভারতের বিখ্যাত সরোদিয়া ওস্তাদ আহমেদ আলী খাঁর দর্শন পান। তার সরোদ বাদন শুনে বিমোহিত হন এবং তার কাছে পাঁচ বছর সরোদে তালিম নেন। এরপর তানসেন বংশীয় সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর কাছে সরোদ শেখার জন্য রামপুর যান। সেখানে দীর্ঘ ৩০ বছর সংগীতের অত্যন্ত দুরূহ ও সূক্ষ্ম কলাকৌশল আয়ত্ব করেন।

১৯১৮সালে ভারতের মাইহারের রাজা ব্রিজনাথ আলাউদ্দিন খাঁকে নিজের সংগীতগুরুর আসনে অধিষ্ঠিত করেন। তিনি মাইহারে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

১৯৩৫ সালে তিনি নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্করের সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন। তিনিই ভারতীয় উপমহাদেশের রাগসংগীতকে সর্বপ্রথম পাশ্চাত্যের শ্রোতাদের কাছে পরিচিত করান।

তিনি সরোদ বাদনে ‘দিরি দিরি’র পরিবর্তে ‘দারা দারা’ সুরক্ষেপণপদ্ধতি প্রবর্তন করেন। সেতার বাদনেও তিনি আমূল পরিবর্তন আনেন। এভাবে তিনি সংগীত জগতে এক নতুন ঘরানার প্রবর্তন করেন, যা ‘আলাউদ্দিন ঘরানা’, ‘মাইহার ঘরানা’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

তার পরামর্শ ও নির্দেশে কয়েকটি নতুন বাদ্যযন্ত্র উদ্ভাবিত হয়। সেগুলোর মধ্যে ‘চন্দ্র সারং’ ও ‘সুর শৃঙ্খার’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তিনি অনেক রাগ-রাগিনীও সৃষ্টি করেন। যেমন- হেমন্ত, দুর্গেশ্বরী, মেঘবাহার, প্রভাতকেলী, মেহ-বেহাগ, মদন মঞ্জুরী, মোহাম্মদ (আরাধনা), মানঝ খাম্বাজ, ধবল শ্রী, সরস্বতী, ধনকোশ, শোভাবতী, রাজেশ্রী, চন্দ্রিকা, দীপিকা, মলয়া, কেদার, ভুবনেশ্বরী প্রভৃতি ।

তিনি দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে অর্কেস্টার স্টাইলে একটি যন্ত্রিদল গঠন করে নাম দেন ‘রামপুর স্ট্রিং ব্যান্ড’। ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে।

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারতের সংগীত আকাদেমি পুরস্কার পান। ১৯৫৪ সালে তিনি ভারত সরকার কর্তৃক প্রথম সংগীত নাটক আকাদেমির ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে ‘পদ্মভূষণ’ ও ১৯৭১ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ এবং ১৯৬১ সালে তিনি বিশ্বভারতী কর্তৃক ‘দেশীকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত হন। ভারতের দিল্লি ও বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে আজীবন সদস্যপদ দান করেন।

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আজ (শনিবার) ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগরের শিবপুরের তার জন্মভূমিতে দিনভর অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন ও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খা’র জীবন কর্ম নিয়ে আলোচনা সভা। দুপুর ১২টায় তার বৃত্তান্ত নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা। বিকাল ৪টায় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জীবন ও সাধনা শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যায় বসবে শাস্ত্রীয় সংগীতের আসর। পরিবেশন করবেন ওস্তাদ পরিবারের শিল্পীবৃন্দ। সবশেষে পুরস্কার বিতরণ। এসব অনুষ্ঠান হবে নবীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে।

ঢাকা ব্যুরো: ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ছিলেন সংগীতজগতের দিকপাল সাধক। তিনিই প্রথম বাঙালি, যিনি সর্বপ্রথম পাশ্চাত্যে এই উপমহাদেশের রাগসংগীতকে পরিচিত করেন। তিনি ছিলেন অতি উচ্চমাত্রার সঙ্গীতকলাকার। এই মহান সংগীতজ্ঞ’র ১৬১তম জন্মদিন আজ।

এই মহান সংগীত সাধক ১৮৬২ সালের ৮ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে বিখ্যাত এক সংগীতশিল্পী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সবদর হোসেন খাঁ ওরফে সদু খাঁও ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ। তিনি ১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের মাইহারে মৃত্যুবরণ করেন।

আমাদের গর্ব যে, কিংবদন্তিতুল্য এই বিখ্যাত সংগীত সাধকের জন্ম বাংলাদেশে।

মাত্র ১০ বছর বয়সে সুরের সন্ধানে বাড়ি থেকে পালিয়ে তিনি জারি, সারি, বাউল, ভাটিয়ালি, কীর্তন, পাঁচালি প্রভৃতি গানের সঙ্গে পরিচিত হন। এরপর কলকাতা গিয়ে সংগীত সাধক গোপাল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য’র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। সাত বছর সাধনার পর কণ্ঠসংগীত সাধনা ছেড়ে দিয়ে তিনি যন্ত্রসংগীত সাধনায় নিমগ্ন হন। তিনি বাঁশি, পিকলু, সেতার, ম্যাডোলিন, ব্যাঞ্জু ইত্যাদি দেশি-বিদেশি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখেন। সেই সঙ্গে তিনি পাশ্চাত্য রীতিতে এবং দেশিয় পদ্ধতিতে বেহালা শেখেন। শেখেন মৃদঙ্গ ও তবলা । এভাবে তিনি হয়ে ওঠেন সর্ববাদ্য বিশারদ।

তিনি তৎকালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার জমিদার জগৎ কিশোর আচার্যের আমন্ত্রণে তার দরবারে সংগীত পরিবেশন করতে গিয়ে সেখানে ভারতের বিখ্যাত সরোদিয়া ওস্তাদ আহমেদ আলী খাঁর দর্শন পান। তার সরোদ বাদন শুনে বিমোহিত হন এবং তার কাছে পাঁচ বছর সরোদে তালিম নেন। এরপর তানসেন বংশীয় সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর কাছে সরোদ শেখার জন্য রামপুর যান। সেখানে দীর্ঘ ৩০ বছর সংগীতের অত্যন্ত দুরূহ ও সূক্ষ্ম কলাকৌশল আয়ত্ব করেন।

১৯১৮সালে ভারতের মাইহারের রাজা ব্রিজনাথ আলাউদ্দিন খাঁকে নিজের সংগীতগুরুর আসনে অধিষ্ঠিত করেন। তিনি মাইহারে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

১৯৩৫ সালে তিনি নৃত্যশিল্পী উদয় শঙ্করের সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন। তিনিই ভারতীয় উপমহাদেশের রাগসংগীতকে সর্বপ্রথম পাশ্চাত্যের শ্রোতাদের কাছে পরিচিত করান।

তিনি সরোদ বাদনে ‘দিরি দিরি’র পরিবর্তে ‘দারা দারা’ সুরক্ষেপণপদ্ধতি প্রবর্তন করেন। সেতার বাদনেও তিনি আমূল পরিবর্তন আনেন। এভাবে তিনি সংগীত জগতে এক নতুন ঘরানার প্রবর্তন করেন, যা ‘আলাউদ্দিন ঘরানা’, ‘মাইহার ঘরানা’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

তার পরামর্শ ও নির্দেশে কয়েকটি নতুন বাদ্যযন্ত্র উদ্ভাবিত হয়। সেগুলোর মধ্যে ‘চন্দ্র সারং’ ও ‘সুর শৃঙ্খার’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তিনি অনেক রাগ-রাগিনীও সৃষ্টি করেন। যেমন- হেমন্ত, দুর্গেশ্বরী, মেঘবাহার, প্রভাতকেলী, মেহ-বেহাগ, মদন মঞ্জুরী, মোহাম্মদ (আরাধনা), মানঝ খাম্বাজ, ধবল শ্রী, সরস্বতী, ধনকোশ, শোভাবতী, রাজেশ্রী, চন্দ্রিকা, দীপিকা, মলয়া, কেদার, ভুবনেশ্বরী প্রভৃতি ।

তিনি দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে অর্কেস্টার স্টাইলে একটি যন্ত্রিদল গঠন করে নাম দেন ‘রামপুর স্ট্রিং ব্যান্ড’। ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে।

১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারতের সংগীত আকাদেমি পুরস্কার পান। ১৯৫৪ সালে তিনি ভারত সরকার কর্তৃক প্রথম সংগীত নাটক আকাদেমির ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে ‘পদ্মভূষণ’ ও ১৯৭১ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ এবং ১৯৬১ সালে তিনি বিশ্বভারতী কর্তৃক ‘দেশীকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত হন। ভারতের দিল্লি ও বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে আজীবন সদস্যপদ দান করেন।

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জন্মদিন উপলক্ষে আজ (শনিবার) ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার নবীনগরের শিবপুরের তার জন্মভূমিতে দিনভর অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন ও ওস্তাদ আলাউদ্দিন খা’র জীবন কর্ম নিয়ে আলোচনা সভা। দুপুর ১২টায় তার বৃত্তান্ত নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা। বিকাল ৪টায় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জীবন ও সাধনা শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যায় বসবে শাস্ত্রীয় সংগীতের আসর। পরিবেশন করবেন ওস্তাদ পরিবারের শিল্পীবৃন্দ। সবশেষে পুরস্কার বিতরণ। এসব অনুষ্ঠান হবে নবীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে।