এম.আনোয়ারুল হক, আনোয়ারা: আনোয়ারা উপজেলায় বি এনপির হযবরল অবস্থা । গ্রুপে উপ-গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বি এনপি। অভিভাবকহীন বি এন পি প্রত্যেকে পদের দাবীদার । কেউ কাউকে মানছে না। ঘরোয়া সভায় বি এন পির কার্যক্রম সীমাবদ্ধ । আনোয়ারায় বড় ধরণের কোন শো-ডাউন দেখা যাচ্ছে না। ফলে স্থানীয় তৃণমূল বিএনপিতে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
জানা যায় কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার ২ বছর পর চলতি বছরের ২০ শে এপ্রিল আনোয়ারা উপজেলায় বি এন পির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বি এন পির কমিটির পক্ষ থেকে মোশাররফ হোসেনকে আহবায়ক ও হেলাল উদ্দীনকে সদস্য সচিব করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পর পরই সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে আহবায়ক মোশাররফের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অভিযোগ উত্তাপন করা হয়। বি এন পির আহবায়ক কমিটি দ্বিধা বিভক্তি হয়ে পড়ে। কমিটির অধিকাংশ সদস্যরাই বিরোধীতা করলেও সদস্য সচিব হেলাল উদ্দীন তার সমর্থিত নেতাকর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। বি এনপির তৃণমূলেও গ্রুপে উপ-গ্রুপে বিভক্তির সৃষ্টি হয়। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায়েও বিভক্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
গত ২২ আগষ্ট কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচী পালনে বিএনপির আহবায়ক কমিটি ত্রিধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। ৩০ আগষ্ট বিক্ষোভ কর্মসূচী সফল করার লক্ষ্যে উপজেলার আহবায়ক মোশররফ হোসেনের নেতৃত্বে এক গ্রুপ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি শাহজাহানের বাড়ীতে আন্দোলন সফলের প্রস্তুতি সভা করে। সাবেক ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের ব্যানারে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আবুর সভাপত্তিত্বে পৃথক প্রস্তুতি সভা । একই তারিখ সদস্য সচিব হেলাল উদ্দীনের নেতৃত্বে কালাবিবির দিঘীর মোড়েও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঘরোয়া মিটিং এ প্রস্তুতি সভা করলেও ৩০ শে আগষ্ট ঘোষিত তারিখে কোন গ্রুপই আনোয়ারা রাজপথে ছিল না। দক্ষিণ জেলা বি এন পির আহবায়ক কমিটির সদস্য জিয়া উদ্দীন আসফাক এর নেতৃত্বে বৈরাগ এলাকায় , ছাত্রদল নেতা অহিদের নেতৃত্বে পি এ বি সড়কে মিছিল বের করা হয়েছিল।
বড় ধরণের কোন শো-ডাউন না থাকায় তৃণমূল চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। বি এন পির ৩ নেতা ঘোষিত কর্মসূচী সফরে প্রস্তুতি সভা করেও ৩০ শে আগষ্ট বিক্ষোভ সমাবেশ করেনি। তৃণমূলের নেতারা আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার দাবী তুলেছেন। অনেকেই মাজাভাঙ্গা ও হাটু ভাঙ্গা বি এনপি দিয়ে আনোয়ারার রাজপথে আন্দোলন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দিশেহারা । কেন্দ্রীয় কোন নির্দেশনাও পাচ্ছে না। যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলনের কথা বললেও বাস্তাবে তা হিসাব মিলছে না। আদৌও আনোয়ারা বি এন পি নেতৃকর্মীরা একত্রিত হতে পারবে কি না তা নিয়েও সন্দেহের দানা বেঁধেছে। সাবেক সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল নিজাম বিদেশে অবস্থান করছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বি এনপির আহবায়ক কমিটিও সাংগঠনিক কার্যক্রমে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। দক্ষিণ জেলা বি এন পির আহবায়ক আবু সুফিয়ানকে ফোন করেও কল রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা বি এনপির আহবায়ক মোশাররফ হোসেন জানায় সদস্য সচিব নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে, কেন্দ্রে আমরা অভিযোগ দিয়েছি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ভাবে দেখা হচ্ছে। আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ে সংগঠনকে সংঘটিত করার লক্ষে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
সদস্য সচিব হেলাল উদ্দীন বলেন কী কারণে তারা অভিযোগ দিচ্ছে তা আমি জানি না। আমি আমার সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছি। দক্ষিণ জেলা বি এন পির আহবায়ক কমিটির সদস্য জিয়া উদ্দিন আসফাক বলেন সকলে কাগজের বাঘ, বাস্তবে মাঠে ময়দানে নেই। তরুণদের নেতৃত্বে বাঁধা সৃষ্টি হওয়ায় বি এনপির এ অবস্থা। বি এন পি নেতা সরোয়ার হোসেন জানায় কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি। সাবেক ছাত্রদল নেতা নুরুল আবছার জানায় আমরা সাবেক ছাত্র নেতৃবৃন্দের ব্যানারে বি এন পিকে সংগঠিত করে তৃণমূলে শক্তিশালী করব।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য মোস্তফিজুর রহমান বলেন সকলকে নিয়ে বি এন পির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। এদিকে আনোয়ারার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপজেলা আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিরব নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় যাওয়া আসা শুরু করেছে। কমিটিতে স্থান পাওয়ার আশায় তৎপরতায় রত বলে স্থানীয়দের মন্তব্য।



