ঢাকা ব্যুরো: ছোটবেলা ঈদের চাঁদ দেখলে যে আনন্দ হতো, আজ তার চেয়ে বেশি আনন্দ লাগছে। আজ বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ উচ্ছ্বসিত। যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিল তারা এখন লজ্জিত। যেসব বিদেশি সংস্থা অর্থায়ন বন্ধ করেছিল, তারাও আজ পদ্মা সেতু নিয়ে উচ্ছ্বসিত। আজ শনিবার ২৫ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের সমাবেশস্থল পৌঁছে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এ মন্তব্য করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে দেশি-বিদেশি সবাই শুভেচ্ছা জানালেও বিএনপি জানাতে পারেনি। পদ্মা সেতু নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান অভিনন্দন জানালেও দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে— বিএনপি এখনও শুভেচ্ছা বা অভিনন্দন জানায়নি। এটি তাদের চরম রাজনৈতিক দৈন্যতা।’এই পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার কোটি মানুষকে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত করবে।
তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতুর উদ্বোধনের পরপরই দাবি ওঠে পদ্মার বুকে সেতু নির্মাণের। তবে প্রমত্তা পদ্মাকে বাগে এনে এর বুকে ইস্পাত-কংক্রিটের কাঠামো নির্মাণ সহজ ছিল না। সেই প্রকৌশল দিক বাদ দিলেও পদ্মা সেতুর অর্থায়ন নিয়েও তৈরি হয় প্রতিবন্ধকতা।
তিনি বলেন, ২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি সই হয়। তবে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ঋণচুক্তি স্থগিত করে বিশ্বব্যাংক। পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০১২ সালের ২৩ জুলাই তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেন। শর্তসাপেক্ষে এ প্রকল্পে আবার ফেরতও আসে বিশ্বব্যাংক। তবে ২০১৩ সালের ৪ মে বিশ্বব্যাংকের ঋণসহায়তা প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার হাত ধরে সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের যে সাহস দেখিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই শেখ হাসিনার হাতে উদ্বোধনের মাধ্যমেই আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ পরিচয়কে বিশ্বের বুকে তুলে ধরার এক চক্র পূরণ হলো আজ।




