নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা বৃষ্টিপাত তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত থাবায় চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশাপাশের এলাকার নিম্মাঞ্চলে প্লাবিত হয়েছে। এ অবস্থায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের উচ্ছেদে জোরালো অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন। এদিকে পাহাড় ধসের আশংকায় আজ রোববার (১৯ জুন) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এদিন বিভিন্ন পাহাড় থেকে প্রায় ১৮০ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত শুক্রবার (১৭ জুন) ভোর থেকে চট্টগ্রাম নগরী এবং আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়। শনিবারও দিনভর কখনও হালকা, কখনও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়, যা অব্যাহত রয়েছে আজ রোববারও।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটা হালকা থেকে মাঝারি আকারে আরও দু’দিন অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার বা বুধবার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমতে পারে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস আজ রোববার বিকেল তিনটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ দশমকি ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। অন্যদিকে, আমবাগান আবহাওয়া অফিস বেলা ১২ টা পর্যন্ত ৪৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

টানা বৃষ্টির মধ্যে শুক্রবার রাতে নগরীর নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকায় দু’টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত ও দু’জন আহত হন। নগরীর ফিরোজ শাহ কলোনির এক নম্বর ঝিল বরিশালঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে মারা যান শাহীনূর আক্তার (২৬) ও তার বোন মাইনুর আক্তার (২৪)। আহত হন তাদের বাবা-মা ফজল হক (৭০) ও মোশারা বেগম (৬৫)। এছাড়া নগরীর ফয়’সলেক সংলগ্ন সী ওয়ার্ল্ডের পাশে বিজয়নগর এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় লিটন (২৩) ও ইমন (১৪) নামে দু’জনের মৃত্যু হয়।

গত শনিবার পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত ৩২ পরিবারকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসনের টিম। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান নিজেই উচ্ছেদ অভিযানে নামেন। এদিকে, টানা বৃষ্টির মধ্যে আজ রোববার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে আরও জোরালোভাবে পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

জেলা প্রশাসনের তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরীর আকবর শাহ থানাধীন এক নম্বর ঝিল পাড় এলাকায় অভিযান শুরু করেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ও সহকারী কমিশনার মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, টানা অভিযান চলছে। বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৮০ পরিবারকে আমরা পাহাড় থেকে সরিয়ে নিয়েছি। ঘরগুলো ভেঙে দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অন্যান্য পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান আজ রোববার দুপুরে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, পাহাড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে সেখানে পুনরায় কেউ দখলে নিয়ে যেন স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে সেজন্য আমরা কাঁটাতারের বেড়া ও গাছ লাগিয়ে দেব। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হবে। যদি কেউ এ সীমানা ভেঙে বসতি গড়ে তুলে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকেও বলেছি, তাদের আওতাধীন পাহাড়ী জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া ও গাছ লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে। পাহাড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নগরের নিম্নাঞ্চলের সড়কগুলোর ওপর উঠে গেছে কোমর-পানি। বাসাবাড়ির নিচতলা, পার্কিং, দোকানপাটে পানি ঢুকেছে। দুর্ভোগের শেষ নেই অফিসফেরত ঘরমুখো মানুষ, পথচারীদের। গতকাল বিকেল থেকে নগরের কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, চকবাজার, প্রবর্তক মোড়, দুই নম্বর গেট, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, আগ্রাবাদসহ নিম্নাঞ্চলের বেশিরভাগ সড়কে ছিল হাঁটুপানি থেকে কোমরপানি। সড়কের মাঝখানে ইঞ্জিন বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল অনেক গাড়ি। রিকশা ও রিকশাভ্যানে বেশি ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে হয় যাত্রীদের। খানাখন্দ আর নালায় পড়ে যাওয়ার আতঙ্ক নিয়ে পথ পাড়ি দেন পথচারীরা।
যথারীতি আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের পুরোনো ভবনের নিচতলায় ছিল হাঁটুপানি। এতে দুর্ভোগ পোহান রোগী, স্বজন ও চিকিৎসক-সেবিকারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা বৃষ্টিপাত তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত থাবায় চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশাপাশের এলাকার নিম্মাঞ্চলে প্লাবিত হয়েছে। এ অবস্থায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের উচ্ছেদে জোরালো অভিযান চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন। এদিকে পাহাড় ধসের আশংকায় আজ রোববার (১৯ জুন) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এদিন বিভিন্ন পাহাড় থেকে প্রায় ১৮০ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে বসবাসরত পরিবারগুলোকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে, গত শুক্রবার (১৭ জুন) ভোর থেকে চট্টগ্রাম নগরী এবং আশপাশের এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হয়। শনিবারও দিনভর কখনও হালকা, কখনও মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়, যা অব্যাহত রয়েছে আজ রোববারও।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটা হালকা থেকে মাঝারি আকারে আরও দু’দিন অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার বা বুধবার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমতে পারে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস আজ রোববার বিকেল তিনটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ দশমকি ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। অন্যদিকে, আমবাগান আবহাওয়া অফিস বেলা ১২ টা পর্যন্ত ৪৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

টানা বৃষ্টির মধ্যে শুক্রবার রাতে নগরীর নগরীর আকবর শাহ থানা এলাকায় দু’টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে চারজন নিহত ও দু’জন আহত হন। নগরীর ফিরোজ শাহ কলোনির এক নম্বর ঝিল বরিশালঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে মারা যান শাহীনূর আক্তার (২৬) ও তার বোন মাইনুর আক্তার (২৪)। আহত হন তাদের বাবা-মা ফজল হক (৭০) ও মোশারা বেগম (৬৫)। এছাড়া নগরীর ফয়’সলেক সংলগ্ন সী ওয়ার্ল্ডের পাশে বিজয়নগর এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় লিটন (২৩) ও ইমন (১৪) নামে দু’জনের মৃত্যু হয়।

গত শনিবার পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত ৩২ পরিবারকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যায় জেলা প্রশাসনের টিম। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান নিজেই উচ্ছেদ অভিযানে নামেন। এদিকে, টানা বৃষ্টির মধ্যে আজ রোববার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে আরও জোরালোভাবে পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

জেলা প্রশাসনের তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নগরীর আকবর শাহ থানাধীন এক নম্বর ঝিল পাড় এলাকায় অভিযান শুরু করেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ও সহকারী কমিশনার মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, টানা অভিযান চলছে। বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১৮০ পরিবারকে আমরা পাহাড় থেকে সরিয়ে নিয়েছি। ঘরগুলো ভেঙে দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অন্যান্য পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান আজ রোববার দুপুরে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, পাহাড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে সেখানে পুনরায় কেউ দখলে নিয়ে যেন স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে সেজন্য আমরা কাঁটাতারের বেড়া ও গাছ লাগিয়ে দেব। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হবে। যদি কেউ এ সীমানা ভেঙে বসতি গড়ে তুলে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকেও বলেছি, তাদের আওতাধীন পাহাড়ী জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া ও গাছ লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে। পাহাড়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নগরের নিম্নাঞ্চলের সড়কগুলোর ওপর উঠে গেছে কোমর-পানি। বাসাবাড়ির নিচতলা, পার্কিং, দোকানপাটে পানি ঢুকেছে। দুর্ভোগের শেষ নেই অফিসফেরত ঘরমুখো মানুষ, পথচারীদের। গতকাল বিকেল থেকে নগরের কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, চকবাজার, প্রবর্তক মোড়, দুই নম্বর গেট, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, আগ্রাবাদসহ নিম্নাঞ্চলের বেশিরভাগ সড়কে ছিল হাঁটুপানি থেকে কোমরপানি। সড়কের মাঝখানে ইঞ্জিন বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল অনেক গাড়ি। রিকশা ও রিকশাভ্যানে বেশি ভাড়ায় গন্তব্যে যেতে হয় যাত্রীদের। খানাখন্দ আর নালায় পড়ে যাওয়ার আতঙ্ক নিয়ে পথ পাড়ি দেন পথচারীরা।
যথারীতি আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের পুরোনো ভবনের নিচতলায় ছিল হাঁটুপানি। এতে দুর্ভোগ পোহান রোগী, স্বজন ও চিকিৎসক-সেবিকারা।