ঢাকা ব্যুরো: ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে লালমনিরহাটের তিস্তা, ধরলা, স্বর্নামতি, রত্নাইসহ বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। এতে পায় ৬’শ পরিবার পনিবন্দি হয়ে পরেছে।
রবিবার (১৯ জুন) সকালে তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপরে রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে জেলায় নদীর তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন সজাগ রয়েছে বলে জানানো হয়েছ।

এছাড়াও জেলার বিভিন্ন নদী ও খাল, ডোবার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। প্লাবিত হয়েছে নদী তীরবর্তী লোকজনের বাড়িঘর। চলাচল, রান্নাসহ দৈনন্দিন কাজকর্ম বিঘ্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ইতিমধ্যে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি এবং বিকাল ৩টায় বিপৎসীমা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তবে রাত ৯টায় ডালিয়া পয়েন্ট তিস্তার নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়াও ধরলা সানিয়াজান, নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
হাতীবান্ধার চর সিন্দুর্না আনোয়ার হোসেন বলেন, তিস্তার নদীর পানি বিকাল থেকে হু হু করে বেড়ে রাতে আরও বাড়ছে। নদীর তীরবর্তী হওয়ায় কয়েকদিন থেকে রাতে ঘুম আসছে না চোখে। গতকাল রাতে তিস্তা পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঘর-বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, গতকাল সন্ধ্যা থেকে ক্রমে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের আবজাল হোসেন বলেন, গত রাত থেকেই পানি বাড়ছে। এখন অনেক পরিবার পানিবন্দি। চলাচলসহ সবকিছু আটকে আছে।
এ বিষয়ে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহীপ্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে পানি বেড়েছে। পানিবন্দি মানুষের সকল ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এবং বন্যা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, বন্যাসহ যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর মাঝে তালিকা তৈরি করে দ্রুত খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হবে।




