নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়গুলোর পাদদেশে মৃত্যুকোলে এখনো শত শত পরিবার বাস করছে। প্রতিবছর বর্ষায় মৃত্যুর মিছিলে নতুন নতুন নাম যোগ হলেও মাথা গোজার ঠাঁই না থাকায় নিম্ম আয়ের মানুষগুলো মৃত্যুকে সঙ্গী করে বসরবাস করছেন মৃত্যুপুরীতে। বৃষ্টি হলে যেন পাহাড় ধসে ধেয়ে আসছে মৃত্যুদূত। চোখের সামনেই পাহাড় ধসে মৃত্যু ও জীবন হারানোর আশঙ্কার মধ্যেও পাহাড় ছাড়ছে না ঝুঁকিতে থাকা বসবাসীকারীরা।

এদিকে প্রবল বর্ষণের পর নগরীর আকবর শাহ এলাকায় পাহাড় ধসের পৃথক ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় দুই ভাই-বোন এবং অপরটিতে দুই সহোদর নিহত হয়েছে। আজ শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আকবর শাহ থানাধীন বরিশাল ঘোনা এবং রাত ৩টার দিকে ফয়েস লেকের বিজয় নগর এলাকায় এ দুই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন- শাহিনুর আক্তার (২৬) ও মাইনুল আক্তার (২৪), লিটন ( ২৩) ও ইমন (১৪)। তবে এদিকে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র।

এর আগে পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় ২০০৭ সালে। সে বছরের ১১ জুন টানা বর্ষণের ফলে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ১২৭ জনের মত্যু হয়। ২০১৭ সালে মারা যায় ৩০ জন। ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই বৃষ্টির সময় নগরের বায়েজিদ এলাকার আমিন কলোনিতে পাহাড় ধসে তিনজন নিহত হয়। একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ থানার মাঝিরঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে মা-মেয়ে মারা যায়। সর্বশেষ আজ শনিবার দিবাগত রাতে ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।

জানা গেছে, আজ শনিবার গভীর রাতে একটানা বর্ষণে আকবর শাহ এলাকায় পাহাড় ধসের পৃথক ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় দুই ভাই-বোন এবং অপরটিতে দুই সহোদর নিহত হয়েছে।রাত ১টার দিকে আকবর শাহ থানাধীন বরিশাল ঘোনা এবং রাত ৩টার দিকে ফয়েস লেকের বিজয় নগর এলাকায় এ দুই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাত ১টার দিকে বরিশাল ঘোনা পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে। ওই সময় পাহাড়ের পাদদেশে ফজলুল হকের বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যেরা চাপা পড়ে। এ ঘটনায় মাইনুর ও শাহেনুর আকতার নামের দুই ভাই-বোন নিহত হন। এ সময় আহত হন ফজলুল হক ও তার স্ত্রী মোশারা বেগমসহ আরও তিন জন। এ ছাড়া দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফয়েস লেকের বিজয় নগর এলাকায় আরেকটি পাহাড় ধসের ঘটনায় লিটন ও ওমর নামের দুই সহোদর নিহত হয়।

আকবর শাহ থানার ওসি ওয়ালী উদ্দিন দি ক্রাইমকে জানান, পাহাড় ধসের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানালেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্টাফ অফিসার প্লাবণ কুমার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জেলা প্রশাসের পক্ষ থেকে নিরাপদ স্থানে সরে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র।ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় আমাদের ভলান্টিয়ার রয়েছে। কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আগ্রহ দেখালে আমাদের ভলান্টিয়াররা তাদের সেখানে নিয়ে যাবে। আমরা চেষ্টা করছি ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে তাদের সরিয়ে আনতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আবহাওয়ার বৈরিতার কারণে প্রচন্ড বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রামের খাড়া পাহাড়গুলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। একদিকে মাটি কেটে পাহাড়খেকোদের আবাসন তৈরির ব্যবসা, অন্যদিকে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি নিয়মনীতি না থাকার কারণে বন্দর নগরী ও জেলাতে প্রতিবছরই ঘটছে পাহাড়ধসে হতাহতের ঘটনা। এখনো নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও টিলা রয়েছে। যেখানে প্রচুর লোকজন বসবাস করছেন। লালখান বাজার এলাকায় একে খান মালিকানাধীন পাহাড়, ইস্পাহানী পাহাড়ের দক্ষিণ পাশে, লেকসিটি এলাকায়, কৈবল্যধাম বিশ্বকলোনি, আকবর শাহ আবাসিক এলাকার পাহাড়ে, সিটি করপোরেশনের পাহাড়ে, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট একাডেমির উত্তরে মীর মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন পাহাড়ে, জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি সংলগ্ন পাহাড়ে, মতিঝর্ণা ও বাটালি হিল পাহাড়ে রয়েছে লোকজনের মৃত্যুর সঙ্গে বসবাস। এছাড়া মতিঝর্ণা, আকবরশাহ, হিল-১, হিল-২ এবং বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন পাহাড়, ফয়েজ লেক সংলগ্ন ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, ৩ নম্বর ঝিল, আমিন জুট মিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ঝুঁকি নিয়ে শত শত পরিবার তাদের বসতঘর তৈরি করেছেন। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সেখান থেকে বেশকিছু পরিবারকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হলেও কিছু পরিবার থেকে যায়।

জানা গেছে, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো উচ্ছেদ করতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় জেলা প্রশাসন। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়েই বসবাস করছে শত শত পরিবার। যার কারণে ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনা। পাহাড়ে বসবাসকারীদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। এদিকে নগরে ৬৫ পাহাড়ের মধ্যে ৩৪ পাহাড়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। এর মধ্যে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিমালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৫৩১টি। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৩০৪টি।

বসবাসকারীরা বলছেন, শুধু ভারি বৃষ্টি হলেই আমাদের নিয়ে যায়। পরে আর খবর থাকে না। তাদের অভিযোগ, পাহাড়ের পাদদেশে ঘর নির্মাণের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তারাই পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করে নিম্ন আয়ের লোকজনকে কম ভাড়ার কথা বলে বসবাসের প্ররোচনা দেন। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। শুধু বর্ষা এলেই বসতি উচ্ছেদ করে।

চট্টগ্রাম মহানগরে দুইদিনের টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আজ শনিবার নগরের নিচু এলাকা মরাদপুর, বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২ নম্বর গেইট, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর এলাকায় রাস্তায় পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় রিকশায় অথবা পায়ে হেঁটে হাঁটুপানি মাড়িয়ে যাত্রা করতে হয়েছে কর্মস্থলে।

অতিঝুঁকিপূর্ণ আগামীকাল :

আকবর শাহ থানার ১ নং ঝিলের বরিশাল ঘোনা এলাকায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১২০টি স্থাপনা আগামীকাল রোববার ( ১৯ জুন) উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পর্যায়ক্রমে সেখানকার সব ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। আজ শনিবার দুপুরে আকবর শাহ থানার পাহাড় ধসে নিহতের স্থান পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, আকবর শাহ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করছে। এখানে প্রতিবছরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়, এরপর আবার এসে বসতি স্থাপন শুরু করে তারা। আমরা আজ শনিবার (গতকাল) সকালে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসীমকে সঙ্গে নিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেসময় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো চিহ্নিত করেছি। অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলো থেকে বিদ্যুৎসহ সকল প্রকার সার্ভিস বন্ধ করে দেব। খুবই ঝুঁকিপূর্ণ আছে এমন ১২০টি ঘর কাল (আজ) রোববার উচ্ছেদ করা হবে।

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবস্থানকারীদের মালামাল সরিয়ে নিতে বলেছি। উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করবে সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, মেট্টোপলিটন পুলিশসহ স্বেচ্ছাসেবীরা। যাদের উচ্ছেদ করা হবে তাদের পুনর্বাসন করা হবে না। কারণ যারা এখানে থাকেন প্রত্যেকেই ভাড়াটিয়া।

তিনি আরও বলেন, এবার আমরা স্থানীয় কাউন্সিলরকে অনুরোধ করে বলেছি, উচ্ছেদের পর যেন এই জায়গায় কেউ আবার বসতি স্থাপন করতে না পারে। সেই ব্যবস্থাটি আপনারা নিশ্চিত করবেন। কেউ যাতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আর বসতি গড়তে না পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীর পাহাড়গুলোর পাদদেশে মৃত্যুকোলে এখনো শত শত পরিবার বাস করছে। প্রতিবছর বর্ষায় মৃত্যুর মিছিলে নতুন নতুন নাম যোগ হলেও মাথা গোজার ঠাঁই না থাকায় নিম্ম আয়ের মানুষগুলো মৃত্যুকে সঙ্গী করে বসরবাস করছেন মৃত্যুপুরীতে। বৃষ্টি হলে যেন পাহাড় ধসে ধেয়ে আসছে মৃত্যুদূত। চোখের সামনেই পাহাড় ধসে মৃত্যু ও জীবন হারানোর আশঙ্কার মধ্যেও পাহাড় ছাড়ছে না ঝুঁকিতে থাকা বসবাসীকারীরা।

এদিকে প্রবল বর্ষণের পর নগরীর আকবর শাহ এলাকায় পাহাড় ধসের পৃথক ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় দুই ভাই-বোন এবং অপরটিতে দুই সহোদর নিহত হয়েছে। আজ শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে আকবর শাহ থানাধীন বরিশাল ঘোনা এবং রাত ৩টার দিকে ফয়েস লেকের বিজয় নগর এলাকায় এ দুই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন- শাহিনুর আক্তার (২৬) ও মাইনুল আক্তার (২৪), লিটন ( ২৩) ও ইমন (১৪)। তবে এদিকে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র।

এর আগে পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যায় ২০০৭ সালে। সে বছরের ১১ জুন টানা বর্ষণের ফলে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে ১২৭ জনের মত্যু হয়। ২০১৭ সালে মারা যায় ৩০ জন। ২০১৫ সালের ১৮ জুলাই বৃষ্টির সময় নগরের বায়েজিদ এলাকার আমিন কলোনিতে পাহাড় ধসে তিনজন নিহত হয়। একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বায়েজিদ থানার মাঝিরঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসে মা-মেয়ে মারা যায়। সর্বশেষ আজ শনিবার দিবাগত রাতে ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।

জানা গেছে, আজ শনিবার গভীর রাতে একটানা বর্ষণে আকবর শাহ এলাকায় পাহাড় ধসের পৃথক ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় দুই ভাই-বোন এবং অপরটিতে দুই সহোদর নিহত হয়েছে।রাত ১টার দিকে আকবর শাহ থানাধীন বরিশাল ঘোনা এবং রাত ৩টার দিকে ফয়েস লেকের বিজয় নগর এলাকায় এ দুই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, রাত ১টার দিকে বরিশাল ঘোনা পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে। ওই সময় পাহাড়ের পাদদেশে ফজলুল হকের বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যেরা চাপা পড়ে। এ ঘটনায় মাইনুর ও শাহেনুর আকতার নামের দুই ভাই-বোন নিহত হন। এ সময় আহত হন ফজলুল হক ও তার স্ত্রী মোশারা বেগমসহ আরও তিন জন। এ ছাড়া দিবাগত রাত ৩টার দিকে ফয়েস লেকের বিজয় নগর এলাকায় আরেকটি পাহাড় ধসের ঘটনায় লিটন ও ওমর নামের দুই সহোদর নিহত হয়।

আকবর শাহ থানার ওসি ওয়ালী উদ্দিন দি ক্রাইমকে জানান, পাহাড় ধসের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানালেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্টাফ অফিসার প্লাবণ কুমার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জেলা প্রশাসের পক্ষ থেকে নিরাপদ স্থানে সরে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খোলা হয়েছে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র।ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় আমাদের ভলান্টিয়ার রয়েছে। কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আগ্রহ দেখালে আমাদের ভলান্টিয়াররা তাদের সেখানে নিয়ে যাবে। আমরা চেষ্টা করছি ঝুঁকিপূর্ণভাবে যারা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে তাদের সরিয়ে আনতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আবহাওয়ার বৈরিতার কারণে প্রচন্ড বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রামের খাড়া পাহাড়গুলো ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। একদিকে মাটি কেটে পাহাড়খেকোদের আবাসন তৈরির ব্যবসা, অন্যদিকে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি নিয়মনীতি না থাকার কারণে বন্দর নগরী ও জেলাতে প্রতিবছরই ঘটছে পাহাড়ধসে হতাহতের ঘটনা। এখনো নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও টিলা রয়েছে। যেখানে প্রচুর লোকজন বসবাস করছেন। লালখান বাজার এলাকায় একে খান মালিকানাধীন পাহাড়, ইস্পাহানী পাহাড়ের দক্ষিণ পাশে, লেকসিটি এলাকায়, কৈবল্যধাম বিশ্বকলোনি, আকবর শাহ আবাসিক এলাকার পাহাড়ে, সিটি করপোরেশনের পাহাড়ে, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট একাডেমির উত্তরে মীর মোহাম্মদ হাসানের মালিকানাধীন পাহাড়ে, জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি সংলগ্ন পাহাড়ে, মতিঝর্ণা ও বাটালি হিল পাহাড়ে রয়েছে লোকজনের মৃত্যুর সঙ্গে বসবাস। এছাড়া মতিঝর্ণা, আকবরশাহ, হিল-১, হিল-২ এবং বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন পাহাড়, ফয়েজ লেক সংলগ্ন ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, ৩ নম্বর ঝিল, আমিন জুট মিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ঝুঁকি নিয়ে শত শত পরিবার তাদের বসতঘর তৈরি করেছেন। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সেখান থেকে বেশকিছু পরিবারকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হলেও কিছু পরিবার থেকে যায়।

জানা গেছে, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো উচ্ছেদ করতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় জেলা প্রশাসন। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়েই বসবাস করছে শত শত পরিবার। যার কারণে ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনা। পাহাড়ে বসবাসকারীদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। এদিকে নগরে ৬৫ পাহাড়ের মধ্যে ৩৪ পাহাড়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি। এর মধ্যে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৭টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিমালিকানাধীন ১০টি পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৫৩১টি। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মালিকানাধীন সাতটি পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা ৩০৪টি।

বসবাসকারীরা বলছেন, শুধু ভারি বৃষ্টি হলেই আমাদের নিয়ে যায়। পরে আর খবর থাকে না। তাদের অভিযোগ, পাহাড়ের পাদদেশে ঘর নির্মাণের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তারাই পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করে নিম্ন আয়ের লোকজনকে কম ভাড়ার কথা বলে বসবাসের প্ররোচনা দেন। প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। শুধু বর্ষা এলেই বসতি উচ্ছেদ করে।

চট্টগ্রাম মহানগরে দুইদিনের টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আজ শনিবার নগরের নিচু এলাকা মরাদপুর, বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২ নম্বর গেইট, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর এলাকায় রাস্তায় পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় রিকশায় অথবা পায়ে হেঁটে হাঁটুপানি মাড়িয়ে যাত্রা করতে হয়েছে কর্মস্থলে।

অতিঝুঁকিপূর্ণ আগামীকাল :

আকবর শাহ থানার ১ নং ঝিলের বরিশাল ঘোনা এলাকায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১২০টি স্থাপনা আগামীকাল রোববার ( ১৯ জুন) উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পর্যায়ক্রমে সেখানকার সব ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান। আজ শনিবার দুপুরে আকবর শাহ থানার পাহাড় ধসে নিহতের স্থান পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, আকবর শাহ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করছে। এখানে প্রতিবছরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়, এরপর আবার এসে বসতি স্থাপন শুরু করে তারা। আমরা আজ শনিবার (গতকাল) সকালে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসীমকে সঙ্গে নিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেসময় ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো চিহ্নিত করেছি। অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলো থেকে বিদ্যুৎসহ সকল প্রকার সার্ভিস বন্ধ করে দেব। খুবই ঝুঁকিপূর্ণ আছে এমন ১২০টি ঘর কাল (আজ) রোববার উচ্ছেদ করা হবে।

তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবস্থানকারীদের মালামাল সরিয়ে নিতে বলেছি। উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করবে সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, মেট্টোপলিটন পুলিশসহ স্বেচ্ছাসেবীরা। যাদের উচ্ছেদ করা হবে তাদের পুনর্বাসন করা হবে না। কারণ যারা এখানে থাকেন প্রত্যেকেই ভাড়াটিয়া।

তিনি আরও বলেন, এবার আমরা স্থানীয় কাউন্সিলরকে অনুরোধ করে বলেছি, উচ্ছেদের পর যেন এই জায়গায় কেউ আবার বসতি স্থাপন করতে না পারে। সেই ব্যবস্থাটি আপনারা নিশ্চিত করবেন। কেউ যাতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আর বসতি গড়তে না পারে।