আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ায় তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর এক নারী স্কোয়াডকে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক। তারা যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর চক্রান্ত করছিলেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি আদালতে আইএসকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন অ্যালিসন ফ্লুক অ্যাক্রেন। তিনি শতাধিক নারী ও বালিকাকে সহিংসতার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন।
একজন মা ও শিক্ষক থেকে আইএস নেত্রীতে পরিণত হওয়া অ্যাক্রেন ২০১১ সাল যুক্তরাষ্ট্র ছাড়েন। ঐ সময় লিবিয়ার একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করেন তিনি। তারপর মিশর ও তুরস্কে বসবাস করার পর সিরিয়ায় যান। সেখানে আইএসের রাজধানী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা রাক্কায় নারীদের নিয়ে গঠিত ব্যাটালিয়ন খাতিবা নুসায়বাহর নেতৃত্ব দেন তিনি। এখানে তার প্রাথমিক দায়িত্ব ছিল নারী ও শিশুদের অস্ত্র চালনা প্রশিক্ষণ দেওয়া। এসব অস্ত্রের মধ্যে একে-৪৭ থেকে শুরু করে গ্রেনেড ও আত্মঘাতী ভেস্টও ছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান।
তবে কখনো শিশুদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেননি বলে দাবি করেছেন মার্কিন এই নারী। সিএনএনের ভাষ্য অনুযায়ী তিনি বলেন, ‘আমরা সচেতনভাবে কোনো অল্প বয়সি মেয়েক প্রশিক্ষণ দিইনি।’ সিরিয়ায় উম মোহাম্মদ আল-আমরিকি নামে পরিচিত ছিলেন অ্যাক্রেন। আইএসের যোদ্ধারা ইরাকের মসুল শহর দখল করার পর তিনি সেখানেও বসবাস করেন। দণ্ড ঘোষণার শুনানিতে তার কাছে প্রশিক্ষণ পাওয়া কয়েক জন নারী তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী জানিয়েছেন, মৌলবাদে তার দীক্ষা অনেক উঁচু স্তরের ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও শপিং মলে হামলা চালানোর ব্যাপারেও তারা আলোচনা করছিলেন বলেও স্বীকার করেছেন অ্যাক্রন। আদালতে পেশ করা নথি থেকে জানা গেছে, তার দ্বিতীয় স্বামী আনসার আল শরিয়াহর সদস্য ছিলেন। ২০১২ সালে এই জঙ্গিগোষ্ঠীই লিবিয়ার বেনগাজিতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলা চালায়। অ্যাক্রন ও তার স্বামী এই হামলার সময় ঐ কনস্যুলেট থেকে নিয়ে যাওয়া মার্কিন নথি বিশ্লেষণ করে আনসার আল শরিয়াহর নেতৃবৃন্দের জন্য একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন।




