ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের দায়ের করা মারধর ও হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন নিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জামিনের আবেদন জানান।
এর আগে গত বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান পরীমনির জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ওইদিন বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন জানালে পরীমনির আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আইনজীবী জানান, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে চিত্রনায়িকা আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। আদালত বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করে জামিন বাতিল ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম। এজাহারে নাসির উদ্দিন মাহমুদ অভিযোগ করেন, ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং অ্যালকোহল পান করেন। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন যে, আসামিরা বিভিন্ন ক্লাবে গিয়ে অ্যালকোহল পান করে মূল্য পরিশোধ করেন না এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে মিথ্যা মামলায় হয়রানির ভয় দেখান।
তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন প্রতিবেদন দাখিল করেন, যেখানে পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে সমন জারি করলে ২৫ জুন পরীমনি ও জিমি আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছিলেন। এর আগেও গত বছরের ২৬ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের সময় পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, পরবর্তীতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।




