ইরানের তেল-বাণিজ্যের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে ভারত ও তুরস্কভিত্তিক বেশ কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের তেল বিক্রির মাধ্যমে যুদ্ধের অর্থায়ন প্রক্রিয়া বন্ধ করা।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন ভারতীয় নাগরিক সুনীল কুমার শর্মা, তার স্ত্রী জাসপ্রীত প্রীতি শাহিদ এবং তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও দুই ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া সুনীল কুমারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়টি প্রতিষ্ঠানকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ভুয়া পতাকা, জাল সনদ এবং নথিপত্র ব্যবহার করে ইরানের তেলবাহী জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়াতে সহায়তা করছিল। এমনকি ইরানের সামরিক বাহিনী ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীর হয়ে পরিচালিত জাহাজগুলোও এই সুবিধা গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সুনীল কুমার ও তার স্ত্রী চণ্ডীগড়ে বসে গায়ানা, এসওয়াতিনি ও লাওসসহ বিভিন্ন দেশের নাম ব্যবহার করে জাহাজের নিবন্ধন ও সনদ দেওয়ার ভুয়া কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এই উদ্দেশ্যে তারা একাধিক ওয়েবসাইট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন।
একইসঙ্গে ইরানের নিষেধাজ্ঞাভুক্ত বিমান চলাচল খাতকে সহায়তার অভিযোগে তুরস্কের প্রতিষ্ঠান ফুগো গ্রাউন্ড সার্ভিসেস ইনকরপোরেশনকেও নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানটি ইরান এয়ার ট্যুর, সাহা এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও আতা এয়ারলাইনসকে বিভিন্ন সেবা প্রদান করে আসছিল।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান সরকারকে যারা সহায়তা করছে তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, স্থল, সমুদ্র কিংবা আকাশপথ—যে কোনো মাধ্যমে তেহরানকে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্টদের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে।
উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর এই নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হলো। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন ভোটারদের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনি বিপর্যয়ের পরেও ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর বার্তা দিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপ যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এছাড়া সুনীলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯টি প্রতিষ্ঠানকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অভিযোগ, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ভুয়া পতাকা, জাল সনদ ও নথিপত্র ব্যবহার করে ইরানের তেল পরিবহনে নিয়োজিত নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়াতে সহায়তা করেছে।




