যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধকে চিহ্নিত করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বিবিসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাকে ভোট দেওয়া বিপুলসংখ্যক নাগরিক এবার ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ভ্যান্স উল্লেখ করেন, তাদের এই পরাজয়ের পেছনে যুদ্ধের বড় ভূমিকা রয়েছে এবং খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও আগের রাতে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। দলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ভরাডুবির পর এটিই ছিল ভ্যান্সের প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া।

নির্বাচনের ফলাফল বিশদভাবে পর্যালোচনা করতে জনমত জরিপকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। জরিপকারীদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রিপাবলিকান সমর্থকদের উপস্থিতি কম ছিল না; বরং ২০২৪ সালে ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে সমর্থন করা একটি বড় অংশের ভোটার ২০২৬ সালের নির্বাচনে এসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ভোটারদের এমন অসন্তোষের নেপথ্যে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং ইসরায়েলকে দেওয়া বিপুল পরিমাণ বার্ষিক আর্থিক সুবিধাসহ দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে দায়ী করেছেন ভ্যান্স।

ইরান যুদ্ধের সামরিক ও রাজনৈতিক মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভ্যান্স মন্তব্য করেন, যদি কেউ মনে করেন এই যুদ্ধটি সার্থক ছিল এবং এর বিনিময়ে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো গ্রহণযোগ্য, তবে তাকে জনসমক্ষে সেই যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। পরাজয়ের কারণ নিয়ে খোলামেলা ও সৎ আলোচনা শুরু করতে হলে প্রথমেই ইরান যুদ্ধকে আলোচনায় আনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে দলের ক্ষোভকে দেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারের শেষভাগে রিপাবলিকানদের অর্থনৈতিক বার্তা ততটা জোরালো ছিল না বলেও জরিপকারীর বরাতে উল্লেখ করেন তিনি।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভাইস প্রেসিডেন্টের মন্তব্য ‘অনেকাংশেই সত্য’। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে অনিবার্য বলে দাবি করে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আসলেও তিনি একই পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন। এর আগে মঙ্গলবার ভোটের ফল আসার পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তকে জনগণ সমর্থন করলেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির স্বল্পমেয়াদি চাপ নিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না। ব্যালটে নিজের নাম থাকলে রিপাবলিকানরা অনায়াসে জয় পেত বলেও দাবি করেন তিনি।

মূলত ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়, যা মার্কিন বাজারে পেট্রোলের দাম রেকর্ড পর্যায় নিয়ে যায় এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে তোলে। অর্থনৈতিক তথ্যানুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৭ শতাংশে, যেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দরবৃদ্ধি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। নির্বাচনের পর প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার মূল্যস্ফীতির কারণে আর্থিক সংকটে পড়ার কথা জানিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংশয়ে থাকা ভ্যান্স ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতাকে সামনে রেখে অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ থেকে নিজেকে কিছুটা আলাদা প্রমাণ করতেই এই অবস্থান তুলে ধরেছেন।

দেশটিতে পেট্রোলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ভোটারদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধকে চিহ্নিত করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বিবিসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাকে ভোট দেওয়া বিপুলসংখ্যক নাগরিক এবার ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ভ্যান্স উল্লেখ করেন, তাদের এই পরাজয়ের পেছনে যুদ্ধের বড় ভূমিকা রয়েছে এবং খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও আগের রাতে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। দলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ভরাডুবির পর এটিই ছিল ভ্যান্সের প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া।

নির্বাচনের ফলাফল বিশদভাবে পর্যালোচনা করতে জনমত জরিপকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলে জানান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। জরিপকারীদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রিপাবলিকান সমর্থকদের উপস্থিতি কম ছিল না; বরং ২০২৪ সালে ট্রাম্প-ভ্যান্স জুটিকে সমর্থন করা একটি বড় অংশের ভোটার ২০২৬ সালের নির্বাচনে এসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ভোটারদের এমন অসন্তোষের নেপথ্যে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং ইসরায়েলকে দেওয়া বিপুল পরিমাণ বার্ষিক আর্থিক সুবিধাসহ দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে দায়ী করেছেন ভ্যান্স।

ইরান যুদ্ধের সামরিক ও রাজনৈতিক মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভ্যান্স মন্তব্য করেন, যদি কেউ মনে করেন এই যুদ্ধটি সার্থক ছিল এবং এর বিনিময়ে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানো গ্রহণযোগ্য, তবে তাকে জনসমক্ষে সেই যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। পরাজয়ের কারণ নিয়ে খোলামেলা ও সৎ আলোচনা শুরু করতে হলে প্রথমেই ইরান যুদ্ধকে আলোচনায় আনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে দলের ক্ষোভকে দেশের স্বার্থে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানোর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারের শেষভাগে রিপাবলিকানদের অর্থনৈতিক বার্তা ততটা জোরালো ছিল না বলেও জরিপকারীর বরাতে উল্লেখ করেন তিনি।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভাইস প্রেসিডেন্টের মন্তব্য ‘অনেকাংশেই সত্য’। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে অনিবার্য বলে দাবি করে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, পুনরায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আসলেও তিনি একই পদক্ষেপ গ্রহণ করতেন। এর আগে মঙ্গলবার ভোটের ফল আসার পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তকে জনগণ সমর্থন করলেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির স্বল্পমেয়াদি চাপ নিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল না। ব্যালটে নিজের নাম থাকলে রিপাবলিকানরা অনায়াসে জয় পেত বলেও দাবি করেন তিনি।

মূলত ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়, যা মার্কিন বাজারে পেট্রোলের দাম রেকর্ড পর্যায় নিয়ে যায় এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে তোলে। অর্থনৈতিক তথ্যানুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৭ শতাংশে, যেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দরবৃদ্ধি বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে। নির্বাচনের পর প্রকাশিত বুথফেরত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার মূল্যস্ফীতির কারণে আর্থিক সংকটে পড়ার কথা জানিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংশয়ে থাকা ভ্যান্স ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতাকে সামনে রেখে অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধ থেকে নিজেকে কিছুটা আলাদা প্রমাণ করতেই এই অবস্থান তুলে ধরেছেন।

দেশটিতে পেট্রোলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ভোটারদের অসন্তোষের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।