খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য জেলার টুরিজম স্পর্ট সাজেক থমথমে ঘটানাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের আধাবেলা অবরোধ শান্তিপূর্ন ভাবে পালিত হয়েছে। চতুর্থ দফা ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের ডাকে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধ কর্মসূচি সকাল ৫টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২টায় শেষ হয়েছে। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে চলা আধাবেলা অবরোধে যান চলাচল বন্ধ ছিল। খাগড়াছড়ি ও রাংগামাটি চলছে না যানবাহন, শহর এলাকায় খোলা থাকলেও আংশিক বন্ধ রয়েছে অলিগলি দোকানপাট। অবরোধের কারণে দূরপাল্লার যানবাহন চলচল বন্ধ রয়েছে। খাগড়াছড়ি থেকে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি।
প্রত্যক্ষ সরেজমিন দেখা যায়, সড়কেও মানুষের যাতায়াত কম। বাসিন্দাদের মধ্যে যাঁরা বের হয়েছেন তাঁদের হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা যায়। যানবাহন চলাচল না করায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাঁদের। সড়কেযান চলাচল বন্ধ। তাই হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশে একটি পরিবার যাচ্ছে।
শনিবার(২৪ অক্টোবর) সকাল ৫টা থেকে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার ও গাছের গুড়িতে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটাররা অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন। অলিগলি সড়কে টায়ার ও গাছেরগুড়িতে আগুন জ্বালিয়ে এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন পিকেটাররা। রাঙামাটির সাজেকে পিসিজেএসএস সন্তু গ্রুুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ডাকা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ ও ঘরবাড়ি-দোকান ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থনে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ অবরোধ কর্মসূচি চলছে বলেসংগঠনির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অবরোধকারীরা খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী ব্রিজ-ফায়ার সার্ভিস ও স্বনিভর-পেরাছড়া এলাকা, খাগড়াছড়ি- দীঘিনালা সড়কের কৃষি গবেষণা এলাকা এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের গুইমারা এলাকায়, পানছড়ি, রাঙামাটি -চট্টগ্রাম সড়কের বেতবুনিয়া এলাকায়, রাঙামাটি -খাগড়াছড়ি সড়কের সাপছড়ি, কুদুকছড়ি বেতছড়িসহ বিভিন্ন স্থানে, দীঘিনালা- সাজেক সড়কের জোড়াব্রীজ এলাকা, সাজেক পর্যটন সড়কের বাঘাইহাট ১০নাম্বার, মাচলং ১৪কিলোসহ বিভিন্ন সড়ক টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া, চট্টগ্রাম -খাগড়াছড়ি সড়কের সাপমারা এলাকায় গাছ কেটে সড়ক আটকে দেওয়া হয়েছে।
খাগড়াছড়ি রাঙামাটির কুদুকছড়িতে ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা অত্যন্ত করাভাবে আধাবেলা অবরোধ পালিত হয়েছে। ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা আধাবেলা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি রাঙামাটির কুদুকছড়িতে হয়েছে। শনিবার(২৪ অক্টোবর) সকালে কুদুকছড়ি এলাকায় এ অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তবে অবরোধের কারণে যান চলাচল ও জনজীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে জানা গেছে। রামগড়ে ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে অবরোধ হয়েছে। তবে ছাত্র জনতা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা আধাবেলা অবরোধ শান্তিপুর্ন পালিত হয়েছে। খাগড়াছড়ি সদরের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় সড়কে আগুন জ্বালিয়েছে পিকেটাররা।
রাঙামাটির কুদুকছড়িতে অবরোধের সমর্থনে সড়কে আগুন জ্বালানো হয়েছে। নান্যাচরে অবরোধের সমর্থনে সড়কে টায়ার জ্বালানো হয়েছে। নান্যাচরের তৈচাকমা পাড়া এলাকায় সড়কে গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ পালন করেছে পিকেটারারা।
খাগড়াছড়ি শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় পিকেটাররা টায়ার জ্বালিয়ে পুন:বার অবরোধ পালন শুরু করলে সেনাবাহিনী তাতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে। তবে পিকেটাররা সেনাবাহিনী দাওয়া খেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত বড় কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
খাগড়াছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: কায় কিসলু বলেন, “ঢাকা থেকে আসা রাতের বাসগুলো পুলিশি পাহারায় খাগড়াছড়ি নিয়ে আসা হয়েছে। কয়েকটি গাড়ি ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি ঢুকতে দেরি হওয়ায় সেগুলো রামগড় আছে, নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দুপুর ১২টার পর খাগড়াছড়ি আসতে।” এখন পর্যন্ত এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে তিনি জানান।
এদিকে বাঘাইছড়ি মারিশ্যা ১১কিলো রাঙ্গামাটির সাজেকে সড়ক অবরোধকারী আন্দোলনরত জনতার ওপর সেনাবাহিনীর এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণের ঘটনাকে পাহাড়ে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নগ্ন দমন-পীড়নের প্রতিচ্ছবি বলে মন্তব্য করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। একই সাথে সাজেকে সৃষ্ট কৃত্রিম সংকট নিরসন এবং হামলার সঙ্গে জড়িত সেনা সদস্যদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার(২২ অক্টোবর) রাঙ্গামাটির সাজেকে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানান গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে ছাত্র জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘকাল ধরেই রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে ‘সন্ত্রাসী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী’ তকমা লাগিয়ে সেনাবাহিনী প্রতিনিয়ত নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে জোট নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেছিলেন‘ পাহাড়ে শতভাগ মানবাধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়’।
দেশ রক্ষা ও নাগরিক সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীর এমন বক্তব্য কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের মন্তব্য মূলত পাহাড়ি জনগণের ওপর চলমান নিপীড়নকে প্রকাশ্যে আইনি বৈধতা দেওয়ারই সামিল। যার ফলে খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের ধারাবাহিকতায় সাজেকেও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলি চালানো সম্ভব হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী নিজেদের স্বার্থে ও গণবিরোধী কর্মকান্ড জায়েজ করতে মদদপুষ্ট সশস্ত্র প্রক্সি গ্রুুপ তৈরি করে পাহাড়ে অরাজকতা টিকিয়ে রাখছে। সাজেকবাসী জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সেনাপোষ্য সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষকে তল্লাশি ও হয়রানি বন্ধের ৩দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিল। কিন্তু সেই কর্মসূচিতে সেনাবাহিনী চড়াও হয়ে লাঠিচার্জ ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এ ববর হামলায় অন্তত ৬০জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।




