ইফতেখার, নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরে ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিপণিবিতান, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও জনসমাগমস্থলে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাদের কেউ ভিক্ষা করছে, কেউ পণ্য বিক্রির নামে মানুষের কাছে যাচ্ছে। আবার অভিযোগ রয়েছে, এদের একটি অংশকে ব্যবহার করা হচ্ছে চুরি, ছিনতাই, মাদক বহনসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, অল্প বয়সী এসব শিশু-কিশোর নিজের ইচ্ছায় এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে, নাকি তাদের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, দরিদ্র ও অসহায় শিশুদের আর্থিক প্রলোভন, ভয়ভীতি কিংবা নানা কৌশলে ব্যবহার করতে পারে অপরাধী চক্র। ফলে অপরাধের শিকার হওয়ার পাশাপাশি এসব শিশু-কিশোর নিজেরাও ধীরে ধীরে অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
নগরবাসীর প্রশ্ন, প্রকাশ্য স্থানে দিনের পর দিন শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করে এমন কর্মকাণ্ড চললে সংশ্লিষ্ট চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করা হচ্ছে না কেন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরে বিষয়টি থাকলে নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হচ্ছে—সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
অনেক ক্ষেত্রে কোনো শিশু অপরাধে জড়িয়ে পড়লে তাকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করেই বিষয়টি শেষ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু শিশুটিকে কে পাঠিয়েছে, কার নির্দেশে সে কাজ করছে, তার পেছনে কারা অর্থ বা আশ্রয় দিচ্ছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি। কারণ শুধু শিশুকে সরিয়ে দিলে মূল চক্রটি অক্ষত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু-কিশোরদের অপরাধে ব্যবহার করা হলে বিষয়টিকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে শিশুর নিরাপত্তা, পরিবার, দারিদ্র্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ও জড়িত। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের উদ্ধার, পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করাও জরুরি।
নগরবাসীর প্রশ্ন—ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে যদি সত্যিই কোনো সংঘবদ্ধ চক্র শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করে অপরাধ পরিচালনা করে থাকে, তাহলে সেই চক্রের মূল হোতারা কারা? তাদের শনাক্ত করতে কী ধরনের অভিযান চলছে? আর কোনো চক্র শনাক্ত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
এসব প্রশ্নের জবাব দিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে শিশুদের অপরাধে ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং মূল অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




