হাটহাজারী প্রতিনিধি: ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আনুষঙ্গিক অনেক কার্যক্রম থাকলেও এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য যোগ্য নাগরিক ও নেতৃত্ব তৈরি করা। আজ যারা এখানে শিক্ষার্থী, আগামী দিনে তাদের মধ্য থেকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে নেতৃত্ব দেয়ার মতো মানুষ তৈরি হবে। তাই শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
আজ বুধবার(৩০ সেপ্টেম্বর) হাটহাজারী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন হাটহাজারি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,সরকার, মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তবে এসব সুযোগ কাজে লাগাতে শিক্ষার্থীদেরকে লেখাপড়ায় আত্মনিয়োগ, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। শুধু মেধার ওপর নির্ভর না করে পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে। মেধা সৃষ্টিকর্তার দেওয়া বিষয় হলেও পরিশ্রম মানুষের নিজের হাতে। মেধার পাশাপাশি যে শিক্ষার্থী পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তুলবে, সে অনেক দূর এগিয়ে যাবে।তাই শিক্ষার্থীদের বর্তমান সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে ব্যবহার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।শুধু পাঠ্য বইয়ের উপর জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে আরো দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় প্রস্তুত করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্সসহ নতুন নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
হাটহাজারী সরকারি কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কলেজে প্রয়োজনীয় একাডেমিক ভবন, আইটি সেন্টার, শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ আরো নানান সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি খেলার মাঠের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং কলেজের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হাটহাজারী সরকারি কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসে। এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে দেশ ও মানুষের কল্যাণের বিষয়ে ভাবার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ছাত্র সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা, অন্যায় বা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। ছাত্র সংগঠনগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক সমস্যা তুলে ধরা এবং তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ছাত্রদলসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো উল্লেখ করে বলেন, হাটহাজারী সরকারি কলেজ থেকে অতীতে অনেক কৃতী শিক্ষার্থী বের হয়ে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং রাখছেন। বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেও ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্য মানুষ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় উৎসাহিত করতে বৃত্তি ও পুরস্কার প্রদানের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যারা পরিশ্রম করবে, ভালো ফলাফল করবে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ ও দেশের জন্য প্রস্তুত করবে, তাদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে তিনি নিজ উদ্যোগে ৭ লাখ টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন এবং ভবিষ্যতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরকেও শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও উৎসাহমূলক কার্যক্রমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা মাত্র যাত্রা শুরু করেছেন। শুরুর এই যাত্রা আপনাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। নিজেদের স্বপ্ন পূরণ এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে এখন থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা অর্জনের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
মুমিন বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন-চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন।
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষক এবং নবীন শিক্ষার্থীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রতিমন্ত্রী হাটহাজারী উপজেলা পরিষদে উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার ঔষধ ছিটানোর ফগার মেশিন বিতরণ করেন।




