*কাগজে-কলমে ফিটনেস, বাস্তবে অনুপযোগী—নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি কোথায়?
ইফতেখার, নগর প্রতিবেদক : চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন সড়কে প্রতিদিনই চলছে নানা ধরনের গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানবাহন। এসব যানবাহনের অনেকগুলোর বাহ্যিক অবস্থা দেখলেই প্রশ্ন ওঠে—সড়কে চলাচলের জন্য আদৌ কতটা নিরাপদ এসব যান? পুরোনো, জরাজীর্ণ ও যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো যানবাহনের কাগজপত্রে ফিটনেস সনদ থাকলেও বাস্তব অবস্থার সঙ্গে সেই ফিটনেসের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। জীর্ণ বডি, ক্ষতিগ্রস্ত কাঠামো, ত্রুটিপূর্ণ ব্রেক, দুর্বল টায়ার, অতিরিক্ত ধোঁয়া এবং বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি নিয়েই কিছু যানবাহন রাস্তায় চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ। বিশেষ করে গণপরিবহনের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে এসব যানবাহনে যাতায়াত করেন। একটি ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারালে শুধু চালক বা যাত্রীরাই নন, আশপাশের পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনও দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন।
নগরবাসীর অভিযোগ, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা শুধু কাগজপত্র যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। একটি গাড়ি সত্যিই সড়কে চলাচলের উপযোগী কি না, তার ব্রেক, স্টিয়ারিং, টায়ার, লাইট, বডি, ধোঁয়া নির্গমনসহ গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর আছে কি না—এসব বিষয় নিয়মিত ও কঠোরভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, নগরজীবনে গণপরিবহন অনেক সময় স্বস্তির পরিবর্তে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বেপরোয়া চালনা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, যত্রতত্র থামানো, প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানো এবং যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের চলাচল—সব মিলিয়ে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, সড়কে চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার? নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষার পরও যদি কোনো অনুপযোগী যানবাহন সড়কে চলাচল করে, তাহলে দায় নির্ধারণের ব্যবস্থা কী? কাগজপত্রে বৈধতা থাকার পর বাস্তবে একটি যানবাহন অনিরাপদ অবস্থায় থাকলে সেটি শনাক্ত ও অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়?
স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে এসব প্রশ্ন এখনও রয়ে গেছে। আধুনিক ও সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং কঠোর যানবাহন পরিদর্শন ব্যবস্থা ছাড়া সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা না নিয়ে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর নজরদারি জোরদার করবে। একই সঙ্গে ফিটনেস পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত, বাস্তবে অনুপযোগী যানবাহন চিহ্নিত করে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নিরাপদ করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সড়কে মানুষের জীবন কোনোভাবেই পরীক্ষার বিষয় হতে পারে না। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নগরবাসীর প্রশ্ন—ফিটনেসবিহীন ও অনিরাপদ যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কবে? আর দেশের আধুনিক ও নিরাপদ ট্রাফিক ব্যবস্থার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে কবে?




