ইফতেখার,নগর প্রতিবেদক : নগরীর ফুটপাতগুলো মূলত কার জন্য—এই প্রশ্নের উত্তর আগে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। যদি ফুটপাতের প্রধান উদ্দেশ্য হয় সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ চলাচল নিশ্চিত করা, তাহলে এসব ফুটপাতের রক্ষণাবেক্ষণ, দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষের—সেটিও নগরবাসীর কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার। এসব ফুটপাতের হকারদের নিকট থেকে স্ব-স্ব এলাকার সংশ্লিষ্ঠ পুলিশ ও স্থানীয় দলীয় মাস্তানরা চাঁদা আদায় করছে। সিটি কর্পোরেশন মাঝে মাঝে উচ্ছেদ করলেও ফুটপাতগুলো পুনরায় হকারদের দখলে চলে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কতোয়ালী থানার পাশ্বে সড়ক দখল করে বসে জমজমাট মাছ ও বিভিন্ন সামগ্রীর ভাসমান বাজার। এতে যান চলাচলসহ পথচারীদের নিত্যদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কিন্তু পুলিশ প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে চলছে। অন্যদিকে নিউমার্কেট এলাকার প্রতিটি সড়ক হকারদের দখলে। এছাড়াও আন্দরকিল্লা,চকবাজার,মুরাদপুর এবং আগ্রাবাদ এলাকাও একইভাবে হকারদের দখলে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটপাতের বড় একটি অংশ হকার ও বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকানদারদের দখলে চলে গেছে। কোথাও পণ্যের পশরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে, কোথাও বসানো হয়েছে অস্থায়ী দোকান। ফলে ফুটপাত থাকলেও তা ব্যবহার করতে পারছেন না সাধারণ পথচারীরা। বাধ্য হয়ে অনেককে মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে, এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
শুধু দখলই নয়, অনেক ফুটপাতের নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। মূল সড়কের তুলনায় কোথাও কোথাও ফুটপাতের উচ্চতা অনেক বেশি। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও চলাচলে সমস্যায় থাকা মানুষের জন্য এসব ফুটপাতে ওঠানামা করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। আবার অনেক স্থানে ফুটপাতের পাকা অংশ ভেঙে গেছে, তৈরি হয়েছে গর্ত ও উঁচু-নিচু অংশ। ফলে সামান্য অসতর্কতাতেই পথচারীরা হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার আশঙ্কায় থাকেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণের অর্থে নির্মিত এসব ফুটপাত যদি জনগণের নিরাপদ চলাচলই নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে এর উদ্দেশ্য কী? ফুটপাত নির্মাণের পর নিয়মিত পরিদর্শন, সংস্কার, দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত তদারকির ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে।
উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন শহরে ফুটপাতকে শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার পথ হিসেবে দেখা হয় না; হাঁটা, শরীরচর্চা ও নগরজীবনে স্বাস্থ্যকর চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিরাপদ, সমতল ও বাধামুক্ত ফুটপাত সেখানে নগর পরিকল্পনার অন্যতম অংশ।
অথচ আমাদের নগরীতে অনেক ফুটপাতের চিত্র ভিন্ন। কোথাও দখল, কোথাও ভাঙাচোরা অবস্থা, আবার কোথাও ফুটপাতের নকশা ও উচ্চতার কারণে পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে প্রশ্ন উঠছে—ফুটপাত নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে নাগরিকদের প্রয়োজনকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?
নগরবাসীর দাবি, ফুটপাতকে দখলমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ভাঙাচোরা অংশ দ্রুত সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কথা বিবেচনায় নিয়ে ফুটপাতের উচ্চতা, ওঠানামার ব্যবস্থা ও চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ফুটপাত কার জন্য—এই প্রশ্নের উত্তর যদি হয় জনগণের জন্য, তাহলে জনগণের সেই অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। নগরবাসীর প্রত্যাশা, ফুটপাত নিয়ে দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো শুধু নির্মাণেই সীমাবদ্ধ না থেকে এর ব্যবহারযোগ্যতা, নিরাপত্তা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়েও কার্যকর নজরদারি করবে।




