ক্রাইম প্রতিবেদক: দেশের অন্যতম প্রধান রাজস্ব আহরণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ দুই মসে শতাধিক চালানে অভিযান চালিয়ে ৪৫ কোটি টাকার উপরে রাজস্ব আদায় করেছে। এসব চালানগুলো আটকে কায়িক পরীক্ষা, পণ্যের ইনভেন্টরি এবং আমদানি-সংক্রান্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে অনিয়ম শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
আমদানি পর্যায়ে মিথ্যা ঘোষণা, ভুল এইচএস কোড ব্যবহার এবং ঘোষণার চেয়ে বেশি পণ্য এনে রাজস্ব ফাঁকির একাধিক ঘটনা শনাক্ত করে। কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা গত জুলাই ও আগস্ট মাসে সন্দেহভাজন ১৪৩টি চালানে অভিযান চালিয়ে ৪৫ কোটি ৩ লাখ ২৯ হাজার ১৮০ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে ৮৩টি চালানে অভিযান চালিয়ে ২৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯৮৪ এবং আগস্টে ৬০টি অভিযানে ২০ কোটি ২৯ লাখ ৪২ হাজার ১৯৬ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৮১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি।
এক অর্থনীতিবিদ বললেন, আমদানি পর্যায়ে মিথ্যা ঘোষণা শনাক্ত করা শুধু রাজস্ব আদায়ের বিষয় নয়। এর সঙ্গে দেশের সামগ্রিক কর-শৃঙ্খলা ও ব্যবসায়িক পরিবেশও জড়িত। মিথ্যা ঘোষণার বিরুদ্ধে শাস্তি ও নজরদারি দুর্বল হলে অসাধু আমদানিকারকদের মধ্যে অনিয়মের প্রবণতা বাড়বে। তাই নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে একই ধরনের পণ্যে বারবার অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে ঝুঁকির তালিকায় এনে পরবর্তী চালানগুলোয় বাড়তি নজরদারি করা প্রয়োজন।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, আগস্টে যেসব চালানে অনিয়ম শনাক্ত করা হয়, সেসব পণ্যের বাজেয়াপ্ত মূল্য ছিল প্রায় ৫৪ কোটি ৭ লাখ ৫২ হাজার ৩২৬ টাকা। পরবর্তী প্রক্রিয়ায় শুল্ককর, জরিমানা ও অন্যান্য প্রযোজ্য অর্থ আদায় করা হয়। অভিযানে মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে মডিউল, বিভিন্ন ধরনের স্পেয়ার পার্টস, এলইডি টেলিভিশনের প্যানেল, কপার ও অ্যালুমিনিয়াম ওয়্যার, গুঁড়ো দুধ, ফেব্রিক্স, ব্যবহৃত ডিজেল ইঞ্জিন ও ক্যাবিন অ্যাসেম্বলি এবং যান্ত্রিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্য।
কাস্টমস কর্মকর্তাদের মতে, কিছু চালানে এমন পণ্য ঘোষণা করা হয়েছে, যেগুলোর শুল্কহার তুলনামূলক কম। কোনো চালানে অতিরিক্ত পণ্যের পরিমাণ ঘোষিত ওজনের প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমসের গোয়েন্দা তৎপরতায় এ ধরনের অনিয়মের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর কাহফ করপোরেশনের একটি চালানে ৩৭ টন হিট ট্রান্সফার পেপার ও ১০ টন পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার ঘোষণা করা হলেও কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া যায় যথাক্রমে ১৯ দশমিক ৮৫ টন ও ২৬ দশমিক ৭৯ টন। এতে অতিরিক্ত আদায় হয় ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকার রাজস্ব।
এর আগে সুলতানা করপোরেশনের একটি চালানে ২ হাজার ৮২৭ কেজি শোপিস ঘোষণার বিপরীতে বিপুল গ্লাস মার্বেল, হটপট, মোবাইল স্ক্রিনসহ বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যায়। ঘোষণার চেয়ে ৩ হাজার ৩০৩ কেজি বেশি পণ্য পাওয়ায় শুল্ককর, জরিমানা ও রিডেম্পশন ফি মিলিয়ে দাবি করা হয় ৭১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।




