*ডাম্পিং স্টেশনে নিয়মিত আবর্জনা পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সাপোর্ট নেই
*উৎকট গন্ধে পৌরবাসী দিশেহারা
চকরিয়া প্রতিনিধি : চকরিয়া পৌরশহর এখন যেন এক উন্মুক্ত বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌর এলাকার মূল সড়ক, ব্যস্ততম ফুটপাত, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং অলি গলিতে যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ জমিয়ে রাখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চরম উদাসীনতা কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক বর্ষার পানির মিশ্রণে এই ময়লা-আবর্জনা পচে চারদিকে ছড়াচ্ছে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ। ফলে পথচারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিষিয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে চকরিয়া পৌরশহরের চিরিঙ্গা কাঁচাবাজার এলাকা, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া বাস টার্মিনাল সংলগ্ন অংশ, নিউ মার্কেট এলাকা, চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের প্রবেশদ্বার এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার ওপরই ময়লার পাহাড় গড়ে উঠেছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন নাক-মুখ চেপে এই পথ অতিক্রম করতে হয়। ক্ষণে ক্ষণে জমতে থাকা ময়লা পচে পুরো চকরিয়া পৌরসভা জুড়ে মশা, মাছি এবং ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ডেঙ্গু আতঙ্ক তৈরি করেছে।
হালকাকার এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী নাগরিক আবু তোহা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতি বছর নিয়ম মেনে পৌর কর (ট্যাক্স) দিয়ে আসছি। অথচ নাগরিক সুযোগ-সুবিধার নামে আমাদের কপালে জুটেছে কেবল রোগ-বালাই ও পচা দুর্গন্ধ। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করেও এই উৎকট গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। ৩-৪ দিন পরপর পৌরসভা থেকে ময়লা পরিষ্কারের গাড়ি আসে। এই দীর্ঘ সময়ে আবর্জনা গুলো পচে যে গন্ধ বের হয়, তাতে শিশুদের নিয়ে আমরা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছি।
কয়েকজন পৌরসভার নাগরিক জানান, চকরিয়া পৌরসভা এখন পুরোপুরি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার অসংখ্য শিক্ষার্থী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা পথচারীরা এই পচা দুর্গন্ধে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পৌরশহরের বাইরে ডাম্পিং জোন থাকার পরেও কেন তা ব্যবহার না করে জনগণের হাঁটার পথে ময়লা ফেলা হবে? পৌর প্রশাসন সাধারণ জনগণের করের টাকা নিলেও ন্যূনতম নাগরিক পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে পারছে না।
চকরিয়া পৌরসভার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে শহরের প্রধান সড়ক গুলো থেকে নামমাত্র ময়লা সরালেও অলিগলি এবং অভ্যন্তরীণ ওয়ার্ড গুলোর অবস্থা নাজেহাল। আবর্জনা উপচে পড়ে ড্রেন ও নালাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পৌর এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং ময়লা পানি ও আবর্জনা সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পরিস্থিতি আরও বেশি দুর্বিষহ করে তুলছে। সচেতন মহল মনে করছেন, ডাম্পিং স্টেশনে নিয়মিত আবর্জনা পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস ও গাড়ির সঠিক ব্যবহার না হওয়াতেই শহরের ভেতরের এই দৃশ্য তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) চকরিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো বলেন, একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে চকরিয়ার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই বেহাল দশা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবকাঠামো ও ডাম্পিং স্টেশন থাকার পরেও শুধু সঠিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং তদারকির অভাবে শহরবাসীর জীবন আজ ওষ্ঠাগত। তারা অবিলম্বে পৌরশহরকে পরিচ্ছন্ন করতে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের জোর দাবি জানিয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চকরিয়া পৌরসভার প্রশাসক শাহীন দেলোয়ার বলেন, ময়লা-আবর্জনা সরানোর জন্য পৌরসভার যে দুটি গাড়ি ছিল, সে গাড়ি দুটি কিছুদিন ধরে নষ্ট হয়ে বিকল হয়ে আছে। যার কারণে ময়লাগুলো পড়ে রয়েছে। গাড়ি নষ্ট না হলে ময়লাগুলো কখনো রাস্তায় থাকত না। যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প ভাবে হলেও ময়লা আবর্জনা সরিয়ে নিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।




