দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাউজানে মোহাম্মদ করিম (৩৫) নামের এক যুবদলকর্মীকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ৫ ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাইন এমএম পিস্তল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয় সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদের’ সহযোগী হিসেবে পরিচিত রায়হান আলম এই ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওটিতে তাকে পরপর তিনটি গুলি ছুড়তে দেখা যায়।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে রায়হানের নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের স্টোরিতে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। তবে এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নাকি আগের কোনো ঘটনার, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানান, ভিডিও ছড়ানোর বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছেন।
রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. বেলায়েত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, হত্যার ঘটনায় আমরা ইতোমধ্যে কয়েকজনের নাম পেয়েছি। ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তা এখন বলতে পারছি না।
অটোরিকশাচালক থেকে অস্ত্রভাণ্ডারের রক্ষক
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সি রায়হান প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মুখ দেখেননি বললেই চলে; পড়েছেন মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত। পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক হলেও গোপনে চোলাই মদের কারবারে জড়িত ছিলেন তিনি।
হত্যাচেষ্টার মামলায় জেলে থাকার সময় চট্টগ্রামের অন্যতম ত্রাস সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ‘ছোট সাজ্জাদ’ এর সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামিনে মুক্ত হয়ে পুরোদমে অপরাধ জগতে পা বাড়ান রায়হান। সম্প্রতি ছোট সাজ্জাদ কারাগারে গেলেও তার বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার ও সন্ত্রাসী বাহিনী রায়হানই পরিচালনা করছেন বলে তথ্য রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে।
সম্প্রতি সাজ্জাদ গ্রুপের অন্যতম ক্যাডার মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই রাতে নোয়াখালীতে রায়হানকে ধরতে অভিযান চালানো হলেও ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
যেভাবে খুন হন যুবদলকর্মী করিম
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানীহাট এলাকায় যুবদল কর্মী মুহাম্মদ করিমকে ঘিরে ধরে সন্ত্রাসীরা। ৪-৫টি মোটরসাইকেলে এসে একদল সন্ত্রাসী বাজারে ঢুকতেই করিমকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। প্রথমে কিরিচ দিয়ে ঘাড়ে ও মাথায় কোপানো হয়, পরে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘাতকেরা।
নিহত করিমের অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখে পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধেও চুরি, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাই ও অপহরণসহ অন্তত ৯টি মামলা রয়েছে। তিনি একাধিকবার কারাভোগও করেছেন। আধিপত্য বিস্তার ও পুরোনো শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।




