বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে মাদক ও জুয়ার বিস্তার। সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি অভিযানে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে কবুতর ব্যবসার আড়ালে পরিচালিত একটি মাদকের আস্তানা থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সাথে উদ্ধার করা হয় ৬১০ গ্রাম হেরোইন, ২৫৩ পিস ইয়াবা, বিদেশি মদ, গাঁজা এবং কেবল একটি ঘর থেকেই নগদ ৪৩ লাখ টাকা।

অভিযান চালিয়ে আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অর্থ উদ্ধার করা হলেও এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি মমিন ওরফে ‘কবুতর মমিন’ ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন। সচেতন মহলের প্রশ্ন, কড়াইল বস্তির একটি মাত্র ঘরে যদি চার কোটি টাকার মাদকের আস্তানা পাওয়া যায়, তবে পুরো বস্তিজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য মাদকের আখড়াগুলোর ব্যাপ্তি কতটা ভয়াবহ?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কড়াইল বস্তির অলিগলিতে প্রকাশ্যে চলছে মাদকের ব্যবসা ও অনলাইন জুয়ার বেটিং। স্থানীয় চায়ের দোকানগুলোতে স্মার্টফোনে অনলাইনের মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই জুয়া। কিন্তু পুলিশ কিংবা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মূল হোতারা ধরা পড়ে না বললেই চলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য ও তথাকথিত ‘সোর্স’দের সাথে গভীর আঁতাত রয়েছে এই মাদক কারবারিদের। অভিযানের আগেই সোর্সদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মূল হোতারা গা-ঢাকা দেয়। এমনকি স্থানীয় কিছু সোর্স সরাসরি মাদক কারবারে জড়িত এবং নিজেদের আধিপত্য বা দেনা-পাওনার বনিবনা না হলেই কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দেয়। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এলাকার বিভিন্ন চায়ের দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে এবং মাদক কারবারিদের কাছ থেকে একটি অসাধু চক্রের পকেটে নিয়মিত মাসোহারা যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েও বেশ কিছু প্রভাবশালী চক্র এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে।

কড়াইল বস্তির এক সাধারণ বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদক বেচাকেনা এখন একদম প্রকাশ্যে হয়। মাঝে মাঝে অভিযান হয়, কিন্তু বড় মাথারা আগেই খবর পেয়ে পালিয়ে যায়। ২-১ দিন পর আবার সব আগের মতোই চলে। পুলিশ আর সোর্সদের মাসোহারা দিয়েই এরা ব্যবসা চালাচ্ছে।”

কড়াইলে মাদক ও জুয়ার বিস্তার এবং অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান জানান, “কড়াইল বস্তিতে মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। সম্প্রতি আমরা একটি বড় আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মাদক উদ্ধার করেছি। পলাতক গডফাদার ‘কবুতর মমিন’সহ মূল হোতাদের গ্রেফতার করতে আমাদের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভেতরের কোনো সোর্স বা কারও তথ্য ফাঁসের প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, মাসোহারা গ্রহণ ও পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বনানী থানা পুলিশ মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্য বা অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কড়াইল বস্তিকে মাদকমুক্ত করতে আমরা অচিরেই বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করব।”

রাজধানীর সবচেয়ে বড় এই বস্তিটিকে মাদকমুক্ত করতে হলে কেবল লোক দেখানো অভিযান নয়, বরং সোর্স ব্যবস্থা সংস্কার, পুলিশের ভেতরের অসাধু চক্র চিহ্নিতকরণ এবং মূল গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে মাদক ও জুয়ার বিস্তার। সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি অভিযানে সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে কবুতর ব্যবসার আড়ালে পরিচালিত একটি মাদকের আস্তানা থেকে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সাথে উদ্ধার করা হয় ৬১০ গ্রাম হেরোইন, ২৫৩ পিস ইয়াবা, বিদেশি মদ, গাঁজা এবং কেবল একটি ঘর থেকেই নগদ ৪৩ লাখ টাকা।

অভিযান চালিয়ে আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অর্থ উদ্ধার করা হলেও এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি মমিন ওরফে ‘কবুতর মমিন’ ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন। সচেতন মহলের প্রশ্ন, কড়াইল বস্তির একটি মাত্র ঘরে যদি চার কোটি টাকার মাদকের আস্তানা পাওয়া যায়, তবে পুরো বস্তিজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য মাদকের আখড়াগুলোর ব্যাপ্তি কতটা ভয়াবহ?

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কড়াইল বস্তির অলিগলিতে প্রকাশ্যে চলছে মাদকের ব্যবসা ও অনলাইন জুয়ার বেটিং। স্থানীয় চায়ের দোকানগুলোতে স্মার্টফোনে অনলাইনের মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই জুয়া। কিন্তু পুলিশ কিংবা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মূল হোতারা ধরা পড়ে না বললেই চলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য ও তথাকথিত ‘সোর্স’দের সাথে গভীর আঁতাত রয়েছে এই মাদক কারবারিদের। অভিযানের আগেই সোর্সদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মূল হোতারা গা-ঢাকা দেয়। এমনকি স্থানীয় কিছু সোর্স সরাসরি মাদক কারবারে জড়িত এবং নিজেদের আধিপত্য বা দেনা-পাওনার বনিবনা না হলেই কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দেয়। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, এলাকার বিভিন্ন চায়ের দোকান থেকে অনলাইন জুয়ার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে এবং মাদক কারবারিদের কাছ থেকে একটি অসাধু চক্রের পকেটে নিয়মিত মাসোহারা যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েও বেশ কিছু প্রভাবশালী চক্র এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছে।

কড়াইল বস্তির এক সাধারণ বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাদক বেচাকেনা এখন একদম প্রকাশ্যে হয়। মাঝে মাঝে অভিযান হয়, কিন্তু বড় মাথারা আগেই খবর পেয়ে পালিয়ে যায়। ২-১ দিন পর আবার সব আগের মতোই চলে। পুলিশ আর সোর্সদের মাসোহারা দিয়েই এরা ব্যবসা চালাচ্ছে।”

কড়াইলে মাদক ও জুয়ার বিস্তার এবং অভিযানের আগেই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাজিউর রহমান জানান, “কড়াইল বস্তিতে মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। সম্প্রতি আমরা একটি বড় আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও মাদক উদ্ধার করেছি। পলাতক গডফাদার ‘কবুতর মমিন’সহ মূল হোতাদের গ্রেফতার করতে আমাদের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভেতরের কোনো সোর্স বা কারও তথ্য ফাঁসের প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, মাসোহারা গ্রহণ ও পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “বনানী থানা পুলিশ মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো পুলিশ সদস্য বা অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাসোহারা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কড়াইল বস্তিকে মাদকমুক্ত করতে আমরা অচিরেই বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করব।”

রাজধানীর সবচেয়ে বড় এই বস্তিটিকে মাদকমুক্ত করতে হলে কেবল লোক দেখানো অভিযান নয়, বরং সোর্স ব্যবস্থা সংস্কার, পুলিশের ভেতরের অসাধু চক্র চিহ্নিতকরণ এবং মূল গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।