ঢাকা অফিস: ‘২৪এর ৫ আগস্ট পরবর্তী দুই বছরে দেশে ২৯৬৩টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৫ আগস্ট পরবর্তী ৫ মাসে ৭৩.৭ শতাংশ ঘটনা ঘটে। আর ‘২৫ সালে মোট ঘটনার ১৭.৬ শতাংশ ও চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে সংঘটিত হয়েছে ৮.৭ শতাংশ। আজ সোমবার (২৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
বিগত ৬ মাসে চিত্র তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই সময়ে সারা দেশে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৪০টি ঘটনায় হত্যার শিকার ৪৪ জন; নারী নির্যাতন/ধর্ষণ/গণধর্ষণ ৫টি; অপহরণ/চাঁদা দাবি/নির্যাতন ১০টি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের সহিংসতার মাত্রা ‘২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪.২ গুন বেশি ছিল। মোট সহিসংতার প্রায় ৭০ শতাংশ ছিল বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা। আর মোট সহিংসতার প্রায় ১০ শতাংশ ছিল ধর্মীয় উপাসনালয়কে কেন্দ্র করে। প্রতি ২১টি ঘটনায় গড়ে একজন মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রতি ১০টি ঘটনার মধ্যে প্রায় একটি ধর্মীয় স্থাপনার উপর হামলা ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,’২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত মোট ২৩ মাসে ২০৫৫টি ঘটনায় বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বহু পরিবার জীবিকা হারিয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সংকটে পড়েছে। সনাতনী সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ স্থানান্তর ও বাস্তুচ্যুতি আশংকাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে, ধর্মীয় সম্প্রীতির অবক্ষয় ঘটেছে, আইন ও বিচার ব্যবস্থার আস্থা হ্রাস পেয়েছে।
২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ঘটনার চিত্র তুলে ধরে তুলনামূলক পর্যালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোট ঘটনার সংখ্য্যা পরবর্তী ১৮ মাসে কমলেও হত্যাকাণ্ড, নারী নির্যাতন, সম্পত্তি দখল এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হয়রানীর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থাৎ, সহিংসতা গণআক্রমণ থেকে লক্ষ্যভিত্তিক নির্যাতনে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্যে একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।




