*হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পরও মিলছে না স্থায়ী সমাধান
রাজিব শর্মা: এক সময় বর্ষার পানি দ্রুত কর্ণফুলী নদীতে পৌঁছে দেওয়ার স্বাভাবিক পথ ছিল চট্টগ্রাম নগরের খালগুলো। কিন্তু বছরের পর বছর অবৈধ দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত স্থাপনা, বর্জ্য ফেলা এবং অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সেই খালগুলোর অধিকাংশই এখন সংকুচিত। কোথাও খালের ওপর বহুতল ভবন, কোথাও দোকান, গ্যারেজ, মার্কেট, আবার কোথাও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গড়ে উঠেছে স্থায়ী স্থাপনা।
নগরের জলাবদ্ধতা এখন শুধু অতিবৃষ্টির সমস্যা নয়; এটি দীর্ঘদিনের দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ন, দুর্বল রণাবেক্ষণ এবং সমন্বয়হীন ব্যবস্থাপনার সম্মিলিত ফল। গত এক দশকে জলাবদ্ধতা নিরসনে চারটি মেগা প্রকল্পে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হলেও বর্ষা এলেই ঠিকই আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁওসহ অর্ধ শতাধিক এলাকা এলাকা পানির নিচে চলে যায়।
সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, খালগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ, জোয়ার-ভাটা, সিল্ট, বর্জ্য ও দখল সমস্যাকে একসঙ্গে বিবেচনায় না নেওয়ায় কাঙ্খিত সুফল আসেনি। মহনগরীর জলাবদ্ধতা রোধকল্পে সাবেক আ’লীগ সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প(চলমান) বাস্তবায়ন করেও নগরবাসীর দুঃখ লাঘব করতে পারেনি।
তার মুল কারণ নগরীর বিভিন্ন বড় বড় মার্কেট ও বহুতল ভবনগুলোর সম্মুখের নালাগুলো সরু করাসহ ভবনের উচ্চতায় সম্পূন্ন অবৈধভাবে তৈরী করা হয়েছে। ফলে দ্রুত পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়ে রাস্তাগুলো প্লাবিত হচ্ছে। এগুলোর সঠিক তদারকি কিংবা নালাগুলো নিয়মিত পরিস্কার করা হলে কস্মিনকালেও রাস্তাগুলো প্লাবিত হবেনা।
অন্যদিকে, খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত ব্রীজ থেকে বঙ্গোপসগরের খাড়ির মুখ পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ড্রেজিং থেকে বিরত রয়েছে। ফলে জেলার বিভিন্ন শাখা নদীগুলোর বালি,পলি ও পলিথিন জমাট হয়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ অন্তত ১৫/২০ ফুট ভরাট হয়ে গেছে। ফলে নদী উপকুলের পানিগুলো ধারণ করতে পারছেনা। পানি হজম করতে না পারায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নগরী প্লাবিত হচ্ছে।
চট্টগ্রামের ঈশ্বর সৃষ্ঠ বন্দরটিতে ২০/৩০ বছর আগে বিদেশী বড় বড় জাহাজগুলো বার্থিং করা যেতো। বিগত ১০/১৫ বছর যাবৎ এই বড় জাহাজগুলো বহিঃনোঙ্গরে অবস্থান করতে হচ্ছে। একটি স্বার্থান্বেষীমহল তাদের লাইটারেজ জাহাজ ব্যবসা ঠিকিয়ে রাখার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত ড্রেজিং বন্ধ করে দেয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের দুই মাস আগে কর্ণফুলী নদীটি ড্রেজিং করলে বড় বড় জাহাজগুলো বার্থিং নেয়াসহ চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা সম্পূন্নরুপে বন্ধ হয়ে যাবে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এক সময় ৫৭টির বেশি প্রধান খাল ও শতাধিক ছোট খাল-ছড়ার ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে এসব খালের দুই তীরে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, মার্কেট, গুদাম, গ্যারেজ, কারখানা, দোকানপাট, অবৈধ বসতি, এমনকি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাও। কোথাও খালের প্রস্থ অর্ধেকে নেমে এসেছে, কোথাও পুরো খাল ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি ও বৃষ্টির পানি দ্রুত কর্ণফুলী নদীতে পৌঁছাতে পারছে না। সবচেয়ে বেশি দখলের শিকার খালগুলোর মধ্যে রয়েছে চাক্তাই খাল, রাজাখালী খাল, মহেশ খাল, মির্জা খাল, নাসির খাল, নোয়াখাল, বামনশাহী খাল, হিজড়া খাল, বক্সির খাল, ফিরিঙ্গিবাজার খাল, খন্দকিয়া খাল, বহদ্দারহাট খাল, গয়নাছড়া খাল, আনন্দবাজার খাল, মরা খাল, শোলকবহর খাল, ডেবারপাড় খাল, বায়েজিদ খাল, হালিশহর খাল, কালীর ছড়া খাল এবং কর্ণফুলীতে পতিত কয়েকটি শাখা খাল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক জায়গায় খালের অস্তিত্বই এখন মানচিত্র ছাড়া বোঝার উপায় নেই। জলাবদ্ধতার সময় নগর যেন অচল ভারী বৃষ্টি হলেই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট, চকবাজার, বাকলিয়া, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, পাঁচলাইশ, জামালখান, কোতোয়ালি, লালখানবাজার, খুলশী, বায়েজিদ, অক্সিজেন, পাহাড়তলী, হালিশহর, পতেঙ্গা, ফিরিঙ্গিবাজার, টেরিবাজার, সদরঘাট, নতুন ব্রিজ, চান্দগাঁও, কালুরঘাট, কর্ণফুলী সেতু এলাকা, বন্দর, ইপিজেড, সল্টগোলা ক্রসিংসহ অর্ধশতাধিক এলাকা। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব খালের দুই তীরে বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, মার্কেট, গ্যারেজ, গুদাম, বাসাবাড়ি, দোকানপাট, শিল্পকারখানা, রাজনৈতিক কার্যালয়, এমনকি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাও। কোথাও খালের সীমানা সংকুচিত হয়েছে, কোথাও খাল ভরাট করে নতুন জমি সৃষ্টি করা হয়েছে। কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় পানি নামতে দীর্ঘ সময় লাগে। তারা দখলদারদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা এবং খালের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানান।
আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘খাল সংস্কার হয়েছে, কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই আবার প্লাস্টিক, পলিথিন ও ময়লায় ভরে যায়। সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই দোকানে পানি ঢুকে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। খাল দখল বন্ধ না করলে শুধু খনন করে কোনো লাভ হবে না।’ বহদ্দারহাটের বাসিন্দা শিউলি আক্তার বলেন, ‘প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ। কোটি কোটি টাকা খরচের কথা শুনি, কিন্তু বাস্তবে পানি নামতে অনেক সময় লাগে। সবচেয়ে কষ্ট হয় শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে চলাচল করতে।’
চান্দগাঁওয়ের বাসিন্দা আবদুল কাদেরের ভাষ্য, ‘খালের পাশে যারা অবৈধভাবে ভবন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু খাল পরিষ্কার করলে সমস্যা কখনো শেষ হবে না।’ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সময়ের জরিপে দেখা গেছে, সরকারি খালের জায়গা দখল করে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন, মার্কেট, গ্যারেজ, গুদাম, শিল্পকারখানা, অবৈধ বসতি এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল স্থাপনা গড়ে তুলেছে। অতীতে একাধিক উচ্ছেদ অভিযানে চাক্তাই, রাজাখালী, মহেশ, নাসির, ফিরিঙ্গিবাজার ও বামনশাহী খালের বিভিন্ন অংশ থেকে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হলেও অনেক জায়গায় আবারও পুনর্দখলের অভিযোগ উঠেছে।
দখলদার কারা?
জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সময়ের তালিকায় দেখা গেছে, অধিকাংশ খাল দখল করে আছে ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মার্কেট, গুদাম, গ্যারেজ, কারখানা, অবৈধ বসতি এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল। অনেক জায়গায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বছরের পর বছর দখল বজায় রাখা হয়েছে। কোথাও সরকারি জমির ওপরও স্থাপনা গড়ে উঠেছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ২০১৭ সালে অনুমোদন পাওয়া ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি দুই দফা সংশোধনের পর ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় নগরের ৩৬টি খালের পুনঃখনন ও সম্প্রসারণ, রিটেইনিং ওয়াল, স্লুইসগেট, বক্স কালভার্ট এবং ড্রেনেজ অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও অন্যান্য সংস্থার চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম মিলিয়ে নগরে এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে এখনো জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যমান প্রকল্পের পাশাপাশি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সংস্থাটি প্রায় ৩ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে খালের দুই তীরে আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, বর্তমান প্রকল্পের বাইরে থাকা ২১টি খালের পুনঃখনন ও সংস্কার, আধুনিক ড্রেজিং ব্যবস্থা চালু, খাল পুনর্দখল ঠেকাতে সুরক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ এবং খালের দুই পাড়ে পরিকল্পিত ওয়াকওয়ে, ভাসমান বাজার ও নান্দনিক উন্নয়নসহ সমন্বিত ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে।
চসিকের আশা, নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা কমে আসবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সম্প্রতি একাধিক সভায় বলেন,‘খাল পুনরুদ্ধার ছাড়া চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত করা সম্ভব নয়। শুধু খনন করলেই হবে না; খালকে দখলমুক্ত রাখতে হবে, নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে এবং নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। খালকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করার মানসিকতা পরিবর্তন না হলে কোনো প্রকল্পই শতভাগ সফল হবে না।
আমরা খাল পুনঃখনন, বর্জ্য অপসারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি। নতুন করে কেউ দখল করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বড় বাধা এখন আর শুধু অবকাঠামো নয়; সবচেয়ে বড় বাধা খাল দখল এবং প্রকল্প- পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ। যেখানে দখলমুক্ত করা গেছে সেখানে পানি দ্রুত নামছে। কিন্তু কিছু এলাকায় নতুন করে দখল, বর্জ্য ফেলা ও অপরিকল্পিত স্থাপনা তৈরি হওয়ায় পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও খাল রক্ষায় স্থায়ী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘সরকারি খাল ও পানি চলাচলের পথ কোনোভাবেই ব্যক্তিগত দখলে থাকতে পারে না। যেখানেই অবৈধ দখলের তথ্য পাওয়া যাবে, সেখানে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। শুধু একবার উচ্ছেদ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; পুনর্দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও জরুরি। জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, সিডিএ ও অন্যান্য সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘বৃষ্টির পানি দ্রুত কর্ণফুলীতে নামাতে হলে শুধু খাল খনন নয়, খালের মুখ, স্লুইসগেট, নদীর সংযোগস্থল এবং জোয়ার-ভাটার ব্যবস্থাপনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক স্থানে পলি জমা, সংকুচিত খাল এবং জোয়ারের কারণে পানি আটকে যায়। ফলে নদী ব্যবস্থাপনা ও নগর ড্রেনেজকে একসঙ্গে পরিকল্পনা করতে হবে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো খালের সীমানা স্থায়ীভাবে নির্ধারণ, ডিজিটাল ম্যাপিং, পুনর্দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি, বছরে অন্তত দুইবার ড্রেজিং, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সিডিএ, চসিক, জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা। অন্যথায় প্রতি বর্ষাতেই চট্টগ্রামবাসীকে একই জলাবদ্ধতার চক্রে আটকে থাকতে হবে, আর হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের সুফলও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
পরিবেশবিদ ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘জলাবদ্ধতার জন্য কেবল অতিবৃষ্টি দায়ী নয়। খাল দখল, জলাধার ভরাট, পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা মিলেই সংকট তৈরি করেছে। হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও যদি খালগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করা হয় এবং পুনর্দখল বন্ধ না হয়, তাহলে প্রতিবছর একই দুর্ভোগ ফিরে আসবে। উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি প্রকৃতিকে তার স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথ ফিরিয়ে দিতে হবে।’



