দি ক্রাইম রিপোর্ট: দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক’র সাথে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর সিনিয়র ট্রেড স্পেশালিস্ট সত্য প্রসাদ সাহু এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শনিবার(০৪ জুলাই) চেম্বার কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
এ সময় চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ডিজিটাল পোর্টস ও মেরিটাইম ইনফ্রাস্ট্রাকচার) পাসকাল অলিভিয়ের কনসালট্যান্ট (পোর্টস ও মেরিটাইম লজিস্টিক্স) আহমেদুল করিম চৌধুরী ও ক্যাপ্টেন মোঃ নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন,দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে বন্দর ও সামুদ্রিক লজিস্টিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসার ব্যয় হ্রাস, পণ্য খালাসে সময় কমানো এবং সাপ্লাই চেইনের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেপোর্ট ও মেরিটাইম ট্রেড লজিস্টিক ডিজিটালাইজেশন করা গেলে বাংলাদেশের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাড়বে।
তিনি বলেন,ইজ অব ডুয়িং বিজনেস উন্নত হলে এবং কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমলে এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পন্ন বন্দর ও কাস্টমস এবং লজিস্টিক্স ব্যবস্থাপনা কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে না বরং আন্তর্জাতিকমানের ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন,এজন্য সরকার বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে বিনিয়ন্ত্রণকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণের উপরও জোর দিচ্ছে।
চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন,ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে বন্দরের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের চাহিদানুযায়ী কাস্টমস সিস্টেমও আধুনিকায়ন প্রয়োজন।
তিনি বলেন,পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, পেপারলেস ট্রেড, ই-পেমেন্ট এবং সমন্বিত ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ,শিপিং লাইন, ব্যাংক, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স ও ব্যবসায়ীদের মাঝে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা যাবে।
সিনিয়র ট্রেড স্পেশালিস্ট সত্য প্রসাদ সাহু বলেন,পোর্ট এন্ড মেরিটাইম ট্রেড লজিস্টিক্স ডিজিটালাইজেশন মূলত পোর্ট ও মেরিটাইম সাপ্লাইচেইনের আধুনিকায়ন। ডিজিটাল ট্রেড লজিস্টিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম কমবে, কন্টেইনার জট হ্রাস পাবে, ব্যবসার লেনদেন ব্যয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক লজিস্টিক্স পারফরম্যান্স ইনডেক্স এ বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হবে।
তিনি বলেন,ব্যবসায়ীদের চাহিদা মাথায় রেখে ডিজিটালাইজেশন সিস্টেমের কি কি প্রয়োজন তা গবেষণার মাধ্যমে সরকারকে অবহিত করা হবে।
সিনিয়র কনসালট্যান্ট পাসকাল অলিভিয়ের বলেন-বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দরগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, আইওটি, বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস, স্মার্ট কার্গো
ট্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় অপারেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়।
তিনি বলেন,বিশ্বে প্রায় ৬০টি দেশে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেমের মাধ্যমে বন্দর ও মেরিটাইম লজিস্টিক্স পরিচালিত হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এই ধরণের পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম নেই। ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম গড়ে তোলা গেলে ব্যবসা সংক্রান্ত সকল স্তরের স্টেকহোল্ডাদের একই ছাতার নিচে আনা সম্ভব হবে।




