বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার: কক্সবাজারে আবারও আলোচনায় এসেছে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের চেষ্টার ঘটনা।
অভিযোগ উঠেছে, বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এনআইডি তৈরির উদ্দেশ্যে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসেছে এক রোহিঙ্গা যুবক। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ রফিক দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া জন্মনিবন্ধন ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি সম্প্রতি কক্সবাজারে আসেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করা এবং সেই পরিচয় ব্যবহার করে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বৈধতা অর্জন করা।
সূত্র জানায়, এর আগে তার আপন ভাই হারেজও একই কৌশলে এনআইডি ও পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে প্রশাসনের নজরে আসে এবং পরবর্তীতে তার এনআইডি বাতিল করা হয়। এবার ভাইয়ের সেই পথ অনুসরণ করে রফিকও বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, রোহিঙ্গা পরিচয় গোপন করে বাংলাদেশি নাগরিক সেজে এনআইডি ও পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে যোগাযোগ করে রফিক কক্সবাজারে এসেছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার শহরের একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট প্রদান শুধু আইনগত অপরাধই নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। কারণ এসব পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিদেশ গমন, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট প্রাপ্তির পেছনে জড়িত দালালচক্র, অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সহযোগীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির ঘটনা বারবার সামনে আসলেও কেন পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া যাচ্ছে না? আর কতদিন জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে?




