বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার: কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাত্র আট দিনের ব্যবধানে আবারও সংঘটিত হয়েছে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা। এবার দুর্বৃত্তদের টার্গেট হয়েছেন চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাবিব উদ্দিন মিন্টু। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তার বাসভবনটি চকরিয়া থানা থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
জানা গেছে, গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল অ্যাডভোকেট হাবিব উদ্দিন মিন্টুর বাসায় হানা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের আতঙ্কিত করে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে গত ২৬ মে একই রাতে চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী ও ইসলামনগর এলাকায় দু’টি বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সে সময় পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে চকরিয়ায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এসব অপরাধ দমনে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। একের পর এক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন, যদি থানার অদূরে একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর বাসভবনেও ডাকাতরা নির্বিঘ্নে হামলা চালাতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? ধারাবাহিক এসব ঘটনার পরও অপরাধীরা কেন গ্রেপ্তারের বাইরে থেকে যাচ্ছে এবং কীভাবে বারবার একই কায়দায় অপরাধ সংঘটনের সাহস পাচ্ছে এ নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা বলেন, “থানার এত কাছে বারবার ডাকাতির ঘটনা ঘটলে পুলিশের টহল ব্যবস্থা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।”
ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় চকরিয়ার মানুষ এখন কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায়। অন্যথায় জনমনে বিরাজমান নিরাপত্তাহীনতা আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও অপরাধ দমনে দৃশ্যমান সাফল্যই এখন চকরিয়াবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।




