দি ক্রাইম ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ এই স্লোগান ব্যবহার করে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আদলে কার্ড তৈরি করে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা জেসমিন বেগম আদায় করা টাকা আত্মসাত্ করে নেবে এমন শঙ্কায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ। সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রেস ক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ধাইনগরের জাবড়ী কাজীপাড়ার বাসিন্দা জেসমিন বেগম ‘মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান করার পর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আদলে দুস্থ কার্ড চালু করেন। ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে তিনি এই কার্যক্রম শুরু করেন।
অভিযোগ করা হয়, ধাইনগর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষকে তার কর্মসূচির আওতায় নিয়ে এসে কার্ডপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে নিয়ে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহকের কাছে থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার নামে আলাদা করে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, বিষয়টি জানার পর জেসমিনের ট্রেড লাইসেন্সটি বাতিল করা হয় এবং গত ৬ এপ্রিল শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল তদন্ত করে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলাদা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তদন্তের অংশ হিসেবে গত রবিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে তাদের ডাকা হলে জেসমিন বেগম সেখানে ৩০০ নারীকে নিয়ে এসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে এবং ইউপি চেয়ারম্যানকে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।
সংবাদ সম্মেলনে জেসমিন বেগম ও মাসকুরা ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এ সময় ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য গোলাম রাব্বানী টিটো, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম, গোলাম জাকারিয়া উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জেসমিন বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার স্থানীয় সহযোগী ‘মেদুল বাবু’র সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।




