দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় পৃথক চারটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ৫টি বসতঘর ও একটি মুদি দোকানসহ সেলাই প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোর থেকে সকালের মধ্যে এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে এসব আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
চন্দনাইশ : প্রতিনিধি জানান, উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার হাজারী টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি ফলের আড়তসহ অন্তত চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল সকালে দোহাজারী পৌর সদরের এই বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন আবু হুমায়ুনের মালিকানাধীন ফলের আড়ত, ছাবের আহমদ সওদাগরের মেজবান বাড়ি রেস্তোরাঁ, আমানত উদ্দিনের খাগরিয়া স্টোর এবং কাজী সৈয়দ নূরের মালিকানাধীন এজে সুপার শপ।
ক্ষতিগ্রস্ত মেজবান বাড়ি রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী ছাবের আহমদ সওদাগর জানান, আবু হুমায়ুনের মালিকানাধীন ফলের আড়তে মঙ্গলবার রাতভর বিপুল পরিমাণ পেঁপে শুকনা কাগজে মুড়িয়ে মজুত করা হয়েছিল। কাজ শেষে কর্মচারীরা আড়তে বৈদ্যুতিক পাখা (ফ্যান) চালু রেখেই চলে যান। বুধবার সকাল ৭টার দিকে ওই বৈদ্যুতিক পাখা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত মজুত করা শুকনা কাগজে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রেস্তোরাঁর কর্মচারীরা প্রথমে পানি ও বালু ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিসের উপ–সহকারী পরিচালক অতীশ চাকমা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া ইউনিটের মোট ৪টি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে ফলের আড়তের বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ফলের আড়তটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পার্শ্ববর্তী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো পানি ও কালো ধোঁয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় টাওয়ারের কয়েকশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিমা অফিস বড় ধরনের রক্ষা পেলেও ৪টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত নিরূপণের কাজ চলছে।
রাঙ্গুনিয়া : প্রতিনিধি জানান, উপজেলায় পৃথক দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫টি বসতঘর ও একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার সকালে ও শেষ রাতে উপজেলার পৃথক স্থানে এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে ছয়টি পরিবার।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল বেছারের বাড়ি এলাকায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় দিনমজুর মো. নাছের উদ্দীন, মো. নুরুল আবছার, মো. নুরুর আলম, মো. আবু তৈয়ব ও মো. আব্দুল মুজিবের বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা অর্জুন বাড়ৈ জানান, আগুনে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, একই দিন শেষ রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার রোয়াজারহাট সংলগ্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে একটি মুদি দোকান ও সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পুড়ে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম ও লিজা আক্তার দম্পতি। তাদের দাবি, শত্রুতাবশত কেউ আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় তাদের প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে তারা থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর অর্জুন বাড়ৈ জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা আগুন নির্বাপণ করেন। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে জরুরি সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।
বাঁশখালী : প্রতিনিধি জানান, উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের কাঠঘর পাড়া এলাকায় গ্যাসের চুলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি বসতঘর আংশিক পুড়ে গেছে। গতকাল সকালে বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
জানা গেছে, কাঠঘর পাড়ার বাসিন্দা মো. মফিজুর রহমানের বাড়ির গ্যাসের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে বাঁশখালী ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হলেও দ্রুত পদক্ষেপের কারণে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল রক্ষা করা গেছে। তিনি রান্নার পর গ্যাসের চুলা ব্যবহারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।




