রাজিব শর্মা: ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বলছি, চট্টগ্রাম শহর হবে সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের নিরাপদ শহর। একজন ব্যক্তিও অনিরাপদে থাকবে না। চট্টগ্রাম শহরে মুসলিম রয়েছে, রয়েছে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ও পাহাড়ি। তাই চট্টগ্রাম শহর একটি সকল জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্রময় শহর।’
আজ বুধবার(০১ এপ্রিল) সকালে নগরীর জেএমসেন চত্বরে ‘শ্রীশ্রী হনুমান জয়ন্তী উদযাপন ১৪৩২’ উপলক্ষে মঙ্গলশোভাযাত্রা উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীশ্রী হনুমান জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের সভাপতি শুভ দাশগুপ্ত।
অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।
মেয়র আরও বলেন, ‘আমি সকল নাগরিককে সেবা দিতে চাই। কোন ধর্মের মানুষ যেন বৈষম্যের শিকার না হয়। আমরা সেই অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ। চট্টগ্রামকে আমরা মডেল শহর হিসেবে গড়ে তুলবো যেখানে সকল মানুষ তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব পালন করবে নির্ভয়ে।’
তিনি বলেন, এই শহরকে আমাদের সন্তানের মতো। শহরের যত্ন নিতে হবে। গতবছর বর্ষায় জলবদ্ধতা থেকে মানুষ ৬০ শতাংশ রক্ষা পেয়েছে। এবার আমাদের টার্গেট আছে জলাবদ্ধতা সমস্যা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ সমাধান হয়ে যায়। তাই নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। নালা বা খানে ময়লা আবর্জনা ফেলা যাবে না। জনগণের সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। ডেঙ্গু থেকে রক্ষার জন্য সিটি করপোরেশন নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাসা বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার রাখতে হবে। পানি যাতে জমে না থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে।
আবুল হাশেম বক্কর বলেন, সনাতনীদের সঙ্গে বিএনপির যে সম্পর্কটা গড়ে উঠেছে সেটি অটুট থাকুক। আপনাদের অনুষ্ঠানে আমরা যেমন আসছি, আপনারাও আমাদের অনুষ্ঠানে যাবেন। পূর্বে যে রকম আমরা সম্প্রীতির মাধ্যমে বসবাস করেছে একইভাবে ভবিষ্যতেও থাকবো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী রেইনবো ন্যাশন গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছেন। সেই কাজে আমাদের সকলকে সহযোগিতা করতে হবে।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক ও শ্রীশ্রী হনুমান জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা বিপ্লব দে পার্থ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন -শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু, কার্যকরী সভাপতি আয়ান শর্মা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব ধর তমাল, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রুবেল বড়ুয়া, বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক বনগোপাল চৌধুরী, শম্ভু দাশ, চট্টগ্রাম জেলা সৎসঙ্গে সভাপতি অনিল পাল, সাধারণ সম্পাদক সুমন ঘোষ বাদশা, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. রাজীব বিশ্বাস, শ্রীশ্রী আনন্দময়ী কালী মন্দির পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ, কানুরাম দে, মেধসমুনি আশ্রমের দপ্তর সম্পাদক লিটন দে, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক উত্তম সেন, প্রতিষ্ঠাতা রাম সেবক তূর্য রুদ্র, রাম সেবক চেয়ারম্যান অনুপম দাশ, শ্রীশ্রী হনুমান জয়ন্তী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাঞ্চন নাথ, অর্থ সম্পাদক দেবাশীষ সেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মিঠু দাশ, দপ্তর সম্পাদক সুজন দাশ, সহ অর্থ সম্পাদক সুদেব নাথ প্রমুখ।




