বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার: “দেশের নেতৃত্বে, জনগণের শক্তিতে—আমরাই পারবো যক্ষ্মা নির্মূল করতে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক যক্ষ্মা দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির কারিগরি সহযোগিতা ও অর্থায়নে পরিচালিত কমিউনিটি মোবিলাইজেশন প্রোগ্রামের আওতায় এবং সীমান্তিক চকরিয়া অফিসের উদ্যোগে, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আয়োজনে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সীমান্তিকের জেলা টিম লিডার, উপজেলা সুপারভাইজার, কমিউনিটি মবিলাইজার, প্যারামেডিক এবং ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, যক্ষ্মা এখনও বিশ্বব্যাপী একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিবছর লাখো মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ায় অনেকেই মৃত্যুবরণ করছে। তবে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করা গেলে এবং নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করলে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, “যক্ষ্মা একটি সংক্রামক হলেও এটি প্রতিরোধযোগ্য ও নিরাময়যোগ্য রোগ। তাই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি আরও জানান, যক্ষ্মা সাধারণত ৮০-৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ফুসফুসে এবং ১৫-২০ শতাংশ ক্ষেত্রে শরীরের অন্যান্য অঙ্গে হয়ে থাকে। দুই সপ্তাহের বেশি কাশি, হালকা জ্বর এবং ধীরে ধীরে ওজন কমে যাওয়া—এসবই যক্ষ্মার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত।
এসময় সকলকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত হটলাইন নম্বর ১৬২৬৩-এ যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়।
আলোচনা সভা শেষে একটি সচেতনতামূলক র্যালি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে যক্ষ্মা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।




