নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগর বায়েজিদ থানাধীন চন্দ্রনগর গ্রিনভ্যালি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ‘নাগিন পাহাড়’। আলোচিত ও ঐতিহাসিক নাগিন পাহাড় আবারও একটি সংঘবদ্ধ ভুমিদস্যু সিন্ডিকেট এর বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ পাহাড় রক্ষার জন্য এলাকাবাসী বর্তমান ভুমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে পুনরায় শুরু হয়েছে পাহাড় কাটার কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে,কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরকে টাকা ও উপহার দিয়ে এই অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্চুক সিডিএ’র প্রকৌশলী এ প্রতিবেদককে জানান,নাগিন পাহাড়কে ভুমিদস্যুদের কবল থেকে রক্ষা করতে হলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ওই পাহাড়ী এলাকায় ভুমি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রদান বন্ধ করতে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগিন পাহাড় ঘিরে বহুদিন ধরেই রয়েছে নানা লোকজ গল্প ও ঐতিহ্য। জনশ্রুতি আছে, এই পাহাড়কে ঘিরে ‘নাগিন সাপ’সহ নানা প্রাচীন কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। ফলে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও পাহাড়টির গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু সেই ঐতিহ্যবাহী পাহাড় এখন লোভী চক্রের থাবায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, ৫ আগস্টের আগেও পাহাড় কাটার বিষয়টি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পর্যন্ত অবগত ছিল। সে সময় দু’দফা অভিযান চালিয়ে পাহাড় কাটার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, রাতের অন্ধকারে সেই সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে এক কথিত সাংবাদিকের নেতৃত্বে একটি চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাগিন পাহাড় কাটার পেছনে মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন জনৈক ভুমিদস্যু ও কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার ঘটনায় দুটি মামলাও হয়েছে বলে জানা গেছে, তবে এখনো তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে রয়েছেন। পাহাড়ের জায়গাটিতে প্রায় ২৬ থেকে ২৭ জন মালিকানা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব মালিকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে পাহাড় কাটার কাজ চালানো হচ্ছে।

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকে অর্থ দেওয়া এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের পাঞ্জাবি উপহার দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি রাতের বেলা পাহাড় কাটার কাজ চলার সময় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। তখন সেখানে থাকা প্রায় ২০০ শ্রমিক দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরে রাত প্রায় ২টার দিকে ওই কথিত সাংবাদিক থানায় গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পুনরায় কাজ চালু করার চেষ্টা করেন।

প্রশ্ন উঠেছে,প্রশাসন পাহাড় কাটার কাজ বন্ধ করার পরও কীভাবে আবার তা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে? এবং সেই ব্যক্তির ক্ষমতার উৎস কোথায়? এসব প্রশ্ন নিয়ে এলাকায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও দাবি করছেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে থানায় গিয়ে কথিত ওই ব্যক্তি রফাদফার চেষ্টা করলেও তাকে আটক করা হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও অসন্তোষ আরও বেড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে ‘চোর-পুলিশ খেলা’ চলছে কি না তা নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, পাহাড় কাটার কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঈদের ছুটির সুযোগ নেওয়া হচ্ছে। আজ রাতেও প্রায় ২০০ শ্রমিক ঠিক করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, রাতে কাজ নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য পুলিশের সঙ্গে আরও বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের কথাবার্তা হয়েছে।

এদিকে পাহাড়ের একটি অংশ বিক্রির জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকায় বায়না করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, পাহাড় কেটে জমি সমতল করে ক্রেতাদের বুঝিয়ে দিলে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে। ফলে দ্রুত পাহাড় কেটে জায়গা সমতল করার তাড়না থেকেই এই কার্যক্রম চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অংশ নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়বে।

তাদের দাবি, নাগিন পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যেসব কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পাহাড় রক্ষায় প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগর বায়েজিদ থানাধীন চন্দ্রনগর গ্রিনভ্যালি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ‘নাগিন পাহাড়’। আলোচিত ও ঐতিহাসিক নাগিন পাহাড় আবারও একটি সংঘবদ্ধ ভুমিদস্যু সিন্ডিকেট এর বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠেছে। এ পাহাড় রক্ষার জন্য এলাকাবাসী বর্তমান ভুমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে পুনরায় শুরু হয়েছে পাহাড় কাটার কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে,কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরকে টাকা ও উপহার দিয়ে এই অবৈধ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্চুক সিডিএ’র প্রকৌশলী এ প্রতিবেদককে জানান,নাগিন পাহাড়কে ভুমিদস্যুদের কবল থেকে রক্ষা করতে হলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ওই পাহাড়ী এলাকায় ভুমি ব্যবহার ছাড়পত্র প্রদান বন্ধ করতে হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগিন পাহাড় ঘিরে বহুদিন ধরেই রয়েছে নানা লোকজ গল্প ও ঐতিহ্য। জনশ্রুতি আছে, এই পাহাড়কে ঘিরে ‘নাগিন সাপ’সহ নানা প্রাচীন কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। ফলে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও পাহাড়টির গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু সেই ঐতিহ্যবাহী পাহাড় এখন লোভী চক্রের থাবায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

জানা গেছে, ৫ আগস্টের আগেও পাহাড় কাটার বিষয়টি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পর্যন্ত অবগত ছিল। সে সময় দু’দফা অভিযান চালিয়ে পাহাড় কাটার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, রাতের অন্ধকারে সেই সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলে এক কথিত সাংবাদিকের নেতৃত্বে একটি চক্র।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নাগিন পাহাড় কাটার পেছনে মূল হোতা হিসেবে কাজ করছেন জনৈক ভুমিদস্যু ও কথিত সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার ঘটনায় দুটি মামলাও হয়েছে বলে জানা গেছে, তবে এখনো তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাগালের বাইরে রয়েছেন। পাহাড়ের জায়গাটিতে প্রায় ২৬ থেকে ২৭ জন মালিকানা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব মালিকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে পাহাড় কাটার কাজ চালানো হচ্ছে।

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকে অর্থ দেওয়া এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তাকে প্রায় এক লাখ টাকা মূল্যের পাঞ্জাবি উপহার দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি রাতের বেলা পাহাড় কাটার কাজ চলার সময় পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। তখন সেখানে থাকা প্রায় ২০০ শ্রমিক দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরে রাত প্রায় ২টার দিকে ওই কথিত সাংবাদিক থানায় গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে পুনরায় কাজ চালু করার চেষ্টা করেন।

প্রশ্ন উঠেছে,প্রশাসন পাহাড় কাটার কাজ বন্ধ করার পরও কীভাবে আবার তা চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে? এবং সেই ব্যক্তির ক্ষমতার উৎস কোথায়? এসব প্রশ্ন নিয়ে এলাকায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও দাবি করছেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে থানায় গিয়ে কথিত ওই ব্যক্তি রফাদফার চেষ্টা করলেও তাকে আটক করা হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও অসন্তোষ আরও বেড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে ‘চোর-পুলিশ খেলা’ চলছে কি না তা নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, পাহাড় কাটার কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ঈদের ছুটির সুযোগ নেওয়া হচ্ছে। আজ রাতেও প্রায় ২০০ শ্রমিক ঠিক করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, রাতে কাজ নির্বিঘ্নে চালানোর জন্য পুলিশের সঙ্গে আরও বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেনের কথাবার্তা হয়েছে।

এদিকে পাহাড়ের একটি অংশ বিক্রির জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকায় বায়না করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, পাহাড় কেটে জমি সমতল করে ক্রেতাদের বুঝিয়ে দিলে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে। ফলে দ্রুত পাহাড় কেটে জায়গা সমতল করার তাড়না থেকেই এই কার্যক্রম চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, চট্টগ্রামের পাহাড়গুলো শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অংশ নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়বে।

তাদের দাবি, নাগিন পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের যেসব কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পাহাড় রক্ষায় প্রশাসনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ।